দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে ক্লাসরুমে ওয়াসিফা, ভালোবাসায় বরণ করল বন্ধুরা

ভয় আর অনিশ্চয়তার আঁধার পেরিয়ে অবশেষে আলোয় ফিরল ছোট্ট ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন। অপহরণের ট্রমা পেছনে ফেলে বই-খাতা হাতে আবার স্কুলে ফিরেছে এ শিশু শিক্ষার্থী। তাকে বরণ করে নেওয়ার সেই মুহূর্ত রূপ নিয়েছিল এক অনন্য আবেগঘন উৎসবে। রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টা। ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ছোট্ট ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন। তাকে রেডি করে দিয়ে রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দেন মা তাসলিমা বেগম। অন্যদিকে বাবা দেলোয়ার হোসেনের হাত ধরে ওয়াসিফা যখন স্কুলের পথে হাঁটছিলেন, তখন রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়নের ইমাম আজম আবু হানিফা বিদ্যালয়ের মূল ফটকে উৎসুক ভিড়।  শিক্ষক, সহপাঠী আর অভিভাবকদের চোখ অপেক্ষায়। কিছুক্ষণ পরেই সেখানে উপস্থিত হয় নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা। কয়েক দিন আগেও যে স্কুলে যাওয়া-আসা ঘিরে তৈরি হয়েছিল এক বীভৎস স্মৃতি, আজ সেই স্কুলেই সে ফিরেছে ভালোবাসা ও নতুন সাহসে ভর করে। ওয়াসিফা স্কুলে পৌঁছাতেই চারদিক থেকে ভেসে আসে সহপাঠীদের সমবেত কণ্ঠ- ‘প্রিয় ওয়াসিফা, তোমাকে আমাদের স্কুলে স্বাগতম।’ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. নুরুল আবছার ছোট্ট ওয়াসিফার হাতে তুলে দেন ভালোবাসার উপহার। এরপর দুই সার

দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে ক্লাসরুমে ওয়াসিফা, ভালোবাসায় বরণ করল বন্ধুরা

ভয় আর অনিশ্চয়তার আঁধার পেরিয়ে অবশেষে আলোয় ফিরল ছোট্ট ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন। অপহরণের ট্রমা পেছনে ফেলে বই-খাতা হাতে আবার স্কুলে ফিরেছে এ শিশু শিক্ষার্থী। তাকে বরণ করে নেওয়ার সেই মুহূর্ত রূপ নিয়েছিল এক অনন্য আবেগঘন উৎসবে।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টা। ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ছোট্ট ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন। তাকে রেডি করে দিয়ে রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দেন মা তাসলিমা বেগম। অন্যদিকে বাবা দেলোয়ার হোসেনের হাত ধরে ওয়াসিফা যখন স্কুলের পথে হাঁটছিলেন, তখন রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়নের ইমাম আজম আবু হানিফা বিদ্যালয়ের মূল ফটকে উৎসুক ভিড়। 

শিক্ষক, সহপাঠী আর অভিভাবকদের চোখ অপেক্ষায়। কিছুক্ষণ পরেই সেখানে উপস্থিত হয় নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা। কয়েক দিন আগেও যে স্কুলে যাওয়া-আসা ঘিরে তৈরি হয়েছিল এক বীভৎস স্মৃতি, আজ সেই স্কুলেই সে ফিরেছে ভালোবাসা ও নতুন সাহসে ভর করে।

ওয়াসিফা স্কুলে পৌঁছাতেই চারদিক থেকে ভেসে আসে সহপাঠীদের সমবেত কণ্ঠ- ‘প্রিয় ওয়াসিফা, তোমাকে আমাদের স্কুলে স্বাগতম।’

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. নুরুল আবছার ছোট্ট ওয়াসিফার হাতে তুলে দেন ভালোবাসার উপহার। এরপর দুই সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা সহপাঠীরা করতালির মাধ্যমে তাকে শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত এগিয়ে নেয়। ক্লাসরুমে পা রাখতেই  বাঁধভাঙা আবেগে বন্ধুরা একে একে জড়িয়ে ধরে তাকে। কারো মুখে স্বস্তির হাসি, কারও চোখে জল। মুহূর্তেই হারিয়ে যায় কয়েক দিনের ভয় আর আতঙ্কের ছাপ। মনে হচ্ছিল, কোনো কঠিন যুদ্ধ জয় করে শৈশবের আঙিনায় ফিরে এসেছে এক ছোট্ট বীর।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার হয় ওয়াসিফা। দুর্বৃত্তরা তার বাবার অসুস্থতার মিথ্যা কথা বলে ছলচাতুরী করে তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। সহপাঠীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করে।

পরের দিন রাতেই পুলিশি তৎপরায় ওয়াসিফাকে তার বাবার এক মামাতো ভাইয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ জানায়, মূলত মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ অপহরণের ছক কষা হয়েছিল।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামি হলেন- বাবার মামাতো ভাই মো. ফয়সাল (৩২), সিএনজিচালক মো. রাকিব (২২) ও অটোরিকশাচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)। ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

সব শঙ্কা কাটতে না কাটতেই আবার চেনা আঙিনায় ফিরেছে ছোট্ট ওয়াসিফা। তার এই ফিরে আসা যেন এক বার্তাই দেয়- অন্ধকার যতই গভীর হোক, মানুষের ভালোবাসা, সহানুভূতি আর সাহসের কাছে তা হার মানতে বাধ্য।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow