দুই দফা ‎কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড চৌদ্দগ্রাম

দশ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার ৪২৯টি গ্রামের জনপদ। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই রয়েছে অধিকাংশ এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, খাবার হোটেল,খামার, ফসলি জমির মাঠ, উপড়ে পড়েছে গাছপালা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা পৌনে আটটায় শুরু হয় কালবৈশাখীর তাণ্ডব। এ সময় ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয় প্রবলভাবে। ভেঙে পড়ে বিভিন্ন টিনের ঘর, গাছপালা। অনেক স্থানে বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার খুঁটি সহ ভেঙে পরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কাশীনগর বাজারে ঝড়ের তীব্রতায় দেলোয়ার হোসেনের খাবার হোটেলের সম্পূর্ণ টিনের চাল উড়ে গিয়ে পাশের ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ে। এতে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আঞ্চলিক সড়কগুলোতে গাছ উপড়ে পড়ায় চলাচল বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কিং সেবা। এরপর সোমবার ভোরে আবারও শুরু হয় কালবৈশাখীর ঝড়। তীব্র ব

দুই দফা ‎কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড চৌদ্দগ্রাম

দশ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার ৪২৯টি গ্রামের জনপদ। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই রয়েছে অধিকাংশ এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, খাবার হোটেল,খামার, ফসলি জমির মাঠ, উপড়ে পড়েছে গাছপালা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা পৌনে আটটায় শুরু হয় কালবৈশাখীর তাণ্ডব। এ সময় ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয় প্রবলভাবে। ভেঙে পড়ে বিভিন্ন টিনের ঘর, গাছপালা। অনেক স্থানে বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার খুঁটি সহ ভেঙে পরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কাশীনগর বাজারে ঝড়ের তীব্রতায় দেলোয়ার হোসেনের খাবার হোটেলের সম্পূর্ণ টিনের চাল উড়ে গিয়ে পাশের ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ে। এতে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

আঞ্চলিক সড়কগুলোতে গাছ উপড়ে পড়ায় চলাচল বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কিং সেবা। এরপর সোমবার ভোরে আবারও শুরু হয় কালবৈশাখীর ঝড়। তীব্র বাতাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় শাকসবজি, ধান ও বিভিন্ন ফসলের মাঠ। এক কথায়, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার তেরো ইউনিয়নের ৪২৯টি গ্রামের অধিকাংশ এলাকায় মানুষ কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুল মোমিন বলেন, বেশ কয়েকটি ক্ষেতের আধা পাকা (বোর)ধান কালবৈশাখী ঝড়ে নুয়ে পড়েছে। এতে আমার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসল ঘরে তুলতে শ্রমিকের ব্যয় বেড়ে যাবে।

‎পৌরসভা ফাল্গুন করা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কাউছার বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে টিনশেড ঘরের উপর গাছ পড়ে পুরোপুরি ভেঙে যায়। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কাশিনগর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক আবু মিয়া বলেন, রোববার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে আমার কৃষি ক্ষেতের সব ধান নুয়ে পড়েছে। এবার ভালোভাবে ফলন তুলতে পারবো কি না জানি না। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতায় সরকারের এগিয়ে আসা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

‎বিকাশ দোকানি সাদ্দাম হোসেন বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় মানুষের টাকা লেনদেন করা সম্ভব হয়নি। এতে অনেকে জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

চৌদ্দগ্রাম পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী ওহিদুর রহমান বলেন, রাতে ঝড়ের পর থেকে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাতভর বিরতিহীন চেষ্টায় লাইনগুলো সচল করা হচ্ছে।

পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি চৌদ্দগ্রাম জোনাল অফিসের ডিজিএম নুরুজ্জামান নুর বলেন, আমাদের ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গত রাতে (বোরবার) কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইনগুলো মেরামতের চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত উপজেলা ৫০ ভাগ লাইন সচল করা হয়েছে। রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বাকী লাইনগুলো সচল করার কাজ চলবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow