দুই সাংবাদিককে পিআইও কার্যালয়ের কর্মচারীর হুমকি
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দুই সাংবাদিকের ‘হাত কেটে ফেলা’র পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ডে ওই কর্মচারীকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দুই সাংবাদিকের ‘হাত নামিয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনার কথা বলতে শোনা গেছে। অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির চিলমারী পিআইও কার্যালয়ের কার্যসহকারী পদে মাস্টাররোলে কর্মরত। অডিও শোনার পর নিরাপত্তা চেয়ে সোমবার (১০ আগস্ট) চিলমারী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন হুমকির শিকার দুই সাংবাদিক। তারা হলেন- কালবেলার চিলমারী প্রতিনিধি এস এম রাফি এবং দৈনিক ইনকিলাবের উপজেলা প্রতিনিধি ফয়সাল হক রকি। সম্প্রতি তারা চিলমারী উপজেলার টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন। প্রকাশিত ওই অডিওতে তার পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনে হুমায়ুন বলেন, ‘চেংড়া-বেংড়ার আমার সঙ্গে চুক্তি হইছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছোটাছুটি হইবে। আমিও থ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দুই সাংবাদিকের ‘হাত কেটে ফেলা’র পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ডে ওই কর্মচারীকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দুই সাংবাদিকের ‘হাত নামিয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনার কথা বলতে শোনা গেছে।
অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির চিলমারী পিআইও কার্যালয়ের কার্যসহকারী পদে মাস্টাররোলে কর্মরত। অডিও শোনার পর নিরাপত্তা চেয়ে সোমবার (১০ আগস্ট) চিলমারী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন হুমকির শিকার দুই সাংবাদিক।
তারা হলেন- কালবেলার চিলমারী প্রতিনিধি এস এম রাফি এবং দৈনিক ইনকিলাবের উপজেলা প্রতিনিধি ফয়সাল হক রকি।
সম্প্রতি তারা চিলমারী উপজেলার টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন।
প্রকাশিত ওই অডিওতে তার পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনে হুমায়ুন বলেন, ‘চেংড়া-বেংড়ার আমার সঙ্গে চুক্তি হইছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছোটাছুটি হইবে। আমিও থাকমু সাথে। ওই দুজনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হয় হাত যাইবে, অন্য কেউ না ছোটাইলে আমি ছোটামো। আমার চাকরি যাইলে যাইবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওই দুজনের হাত নামামু।’
হুমায়ুন আরও দাবি করেন, সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তিনি সাংবাদিকদের টাকা দিয়েছিলেন। তবে সাংবাদিকরা সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন প্রথমে তা অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, রাগের মাথায় বলে ফেলেছি। আমাকে মাফ করে দেন। যাদের সামনে বলেছি, তারা আমার সঙ্গে বেঈমানি করে এটা ছড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমাকে যা করতে বলবেন করব। যদি ওই দুজনের পা ধরতে হয়, তাও ধরব।
তার দাবি, যে ব্যক্তিদের সামনে এসব কথা বলেছি, তারা কথোপকথনটি রেকর্ড করে অডিও ছড়িয়ে দিয়েছে।
তবে সাংবাদিক এস এম রাফি বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে আমাদের জীবন হুমকিতে রয়েছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
টাকা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এটা একেবারেই ভিত্তিহীন অভিযোগ। টাকা নিলে সংবাদ প্রকাশ করলাম কেন? মূলত নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে তারা আমাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।
রাফি আরও বলেন, অডিও রেকর্ডের একটি কপি ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে চিলমারী মডেল থানার সরকারি ইমেইলে পাঠানো হয়েছে।
চিলমারী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাওরাত হোসেন সোহেল বলেন, অনিয়ম হলে সাংবাদিকরা লিখবেন। এ কারণে তাদের হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।
চিলমারী মডেল থানার ওসি নয়ন কুমার বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, হুমকি দিয়ে থাকলে এটি ফৌজদারি অপরাধ। এমন হয়ে থাকলে থানায় অভিযোগ করতে পারেন।
What's Your Reaction?