দুই স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে বিবাদে আটকা আছে দাফন; আঙ্গিনায় পড়ে আছে বাবার নিথর দেহ
জমাজমি সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিবাদের জেরে মৃত বাবার নিথর দেহখানি পড়ে আছে বাড়ির আঙ্গিনায়, হচ্ছে না দাফন! এ মর্মান্তিক ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকালে নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের পায়রাডাঙ্গা বাজার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার বাসিন্দা আজিজার রহমান (৭৫) বার্ধক্যজনিত কারণে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেন। পরদিন সকাল ১১টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে এলাকায় মাইকিং করা হয়।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজিজার রহমানের প্রথম স্ত্রী জয়গুনের ঘরে এক ছেলে মনভোলা ওরফে আব্দুল হাকিম (৫৫) এবং তিন মেয়ে জোসনা, ময়না ও কাছুয়া রয়েছেন। প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে তিনি রহিমাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে টাইগার (৩৩) ও এক মেয়ে আকলিমা (৩০) জন্মগ্রহণ করেন।অভিযোগ রয়েছে, জীবদ্দশায় আজিজার রহমান তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এলাকাবাসী জানাজায় অংশ নিতে এলে প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা দাফনে আপত্তি জানান। তাদের দাবি, বাবার রেখে যাওয়া সম্প
জমাজমি সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিবাদের জেরে মৃত বাবার নিথর দেহখানি পড়ে আছে বাড়ির আঙ্গিনায়, হচ্ছে না দাফন! এ মর্মান্তিক ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকালে নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের পায়রাডাঙ্গা বাজার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার বাসিন্দা আজিজার রহমান (৭৫) বার্ধক্যজনিত কারণে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেন। পরদিন সকাল ১১টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে এলাকায় মাইকিং করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজিজার রহমানের প্রথম স্ত্রী জয়গুনের ঘরে এক ছেলে মনভোলা ওরফে আব্দুল হাকিম (৫৫) এবং তিন মেয়ে জোসনা, ময়না ও কাছুয়া রয়েছেন। প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে তিনি রহিমাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে টাইগার (৩৩) ও এক মেয়ে আকলিমা (৩০) জন্মগ্রহণ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, জীবদ্দশায় আজিজার রহমান তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এলাকাবাসী জানাজায় অংশ নিতে এলে প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা দাফনে আপত্তি জানান। তাদের দাবি, বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি সমানভাবে বণ্টন এবং প্রয়োজনীয় দলিল সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় তারা জানাজা ও দাফন করতে দেবেন না। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত স্থানীয় মুরুব্বিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো সমাধান না হওয়ায় বিকেল পর্যন্ত মরদেহ বাড়ির বাহির আঙিনায় কাফন পরানো অবস্থায় খাটিয়ায় পড়ে থাকে।
প্রতিবেশী আমিনুর রহমান, আব্দুল আলী ও আব্দুল মালেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক ঘটনা। পারিবারিক বিষয় থাকলেও মৃত ব্যক্তির সম্মান রক্ষা করা সবার আগে প্রয়োজন। পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, দাফন সম্পন্ন করার পর আইনি বা সামাজিকভাবে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করা উচিত ছিল। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
What's Your Reaction?