দুই স্ত্রীর যৌতুক মামলা, ডিএমপির কনস্টেবল কারাগারে

দুই স্ত্রীর করা পৃথক যৌতুক মামলার মুখে কারাগারে গেলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কনস্টেবল মামুনুর রশিদ।  প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায় আগাম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রীও যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আনোয়ারুল হকের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিনের আবেদন করেন ডিএমপির কনস্টেবল মামুনুর রশিদ। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া আদালতের পরিদর্শক শহীদুল ইসলাম। মামুনুর রশিদ বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার শোলারতাইড় গ্রামের বাসিন্দা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে সারিয়াকান্দি উপজেলার ঘুঘুমারী উত্তরপাড়ার মৃত আব্দুল জলিলের মেয়ে মৌসুমী আক্তারের সঙ্গে মামুনুর রশিদের বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মামুনুর রশিদ ও তার পরিবারের সদস্যরা মৌসুমীর পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করতে থাকেন। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানা

দুই স্ত্রীর যৌতুক মামলা, ডিএমপির কনস্টেবল কারাগারে
দুই স্ত্রীর করা পৃথক যৌতুক মামলার মুখে কারাগারে গেলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কনস্টেবল মামুনুর রশিদ।  প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায় আগাম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রীও যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আনোয়ারুল হকের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিনের আবেদন করেন ডিএমপির কনস্টেবল মামুনুর রশিদ। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া আদালতের পরিদর্শক শহীদুল ইসলাম। মামুনুর রশিদ বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার শোলারতাইড় গ্রামের বাসিন্দা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে সারিয়াকান্দি উপজেলার ঘুঘুমারী উত্তরপাড়ার মৃত আব্দুল জলিলের মেয়ে মৌসুমী আক্তারের সঙ্গে মামুনুর রশিদের বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মামুনুর রশিদ ও তার পরিবারের সদস্যরা মৌসুমীর পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করতে থাকেন। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। একপর্যায়ে দ্বিতীয় বিয়ের হুমকি দিয়ে ২০২৩ সালের ৮ মার্চ প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গাঙ্গুহাটী গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে লাবনী খাতুনকে (২১) বিয়ে করেন তিনি। পরে দ্বিতীয় স্ত্রী লাবনী খাতুনও যৌতুক নিরোধ আইনে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করেন। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের পরও মৌসুমী আক্তার সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তাকে মারধর, শারীরিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় মামুনুর রশিদ ছাড়াও তার ভাই মিলন মিয়া, লাবনী খাতুন, রুমি, মিনি বেগম ও শাকিল আহমেদকে আসামি করা হয়। মামুনুর রশিদ ছাড়া অন্য চার আসামি আগাম জামিন পেয়েছেন। আদালত সূত্র জানায়, গত ২২ জুলাইও জামিন নিতে আদালতে এসেছিলেন মামুনুর রশিদ। তবে সেদিন তিনি আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যান। পরে বুধবার আবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার বাদী মৌসুমী আক্তার বলেন, আমার স্বামী একজন পুলিশ সদস্য। বিয়ের পর থেকেই আমার পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করতেন। যৌতুক দিতে না পারায় আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন। আমাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়েও করেছেন। এরপরও আমি সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নির্যাতন ও হুমকি বন্ধ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ সদস্য হয়েও মামুনুর রশিদ ফেসবুক ও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow