দুর্নীতির অভিযোগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এ সিদ্ধান্ত নেয়। বুধবার (২০ মে) দুপুরে বরখাস্তের এই আদেশ সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ অনুযায়ী গত ৪ মে গ্রেফতারের তারিখ থেকে এ আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে পিআইও আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানে তার নিজের পাশাপাশি স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালকের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য পায় দুদক। এরপর ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পিআইও আবুল কালাম আজাদ নিজে ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তার অবৈধ আয়ের সহায়তায় স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকার সম্পদ ভো

দুর্নীতির অভিযোগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এ সিদ্ধান্ত নেয়।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে বরখাস্তের এই আদেশ সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ অনুযায়ী গত ৪ মে গ্রেফতারের তারিখ থেকে এ আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে পিআইও আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানে তার নিজের পাশাপাশি স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালকের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য পায় দুদক। এরপর ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পিআইও আবুল কালাম আজাদ নিজে ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তার অবৈধ আয়ের সহায়তায় স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকার সম্পদ ভোগদখলে রেখেছেন। এছাড়া ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বিরুদ্ধে পিতার অবৈধ ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকার সম্পদ নিজের নামে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুধু স্ত্রী বা ছেলেই নয়, পিআইও আবুল কালাম আজাদের শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের নামেও অস্বাভাবিক সম্পদের খোঁজ পেয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা। শ্যালকের দেওয়া সম্পদ বিবরণী যাচাই করে ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার স্থাবর এবং ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ১৮২ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য মেলে। এই ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর দুদকের একই কর্মকর্তা বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় শ্যালক জামাল উদ্দিনকে প্রধান এবং দুলাভাই পিআইও আবুল কালাম আজাদকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ বরখাস্তের আদেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সচিব সাইদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত বরখাস্তের চিঠি আমরা পেয়েছি। ৪ মে গ্রেফতারের পর থেকে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন। বিধি অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কেবল খোরপোষ ভাতাদি পাবেন।

এম এ মালেক/কেএইচকে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow