দুয়েকটি নয়, তিন-চারটি ম্যাচ জেতার সামর্থ্যও আমাদের আছে: জ্যোতি
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আর বেশি দেরি নেই। আগামী ১২ জুন ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে শুরু হতে যাওয়া এই বৈশ্বিক আসরে অংশ নিতে দুই ধাপে দেশ ছাড়ছেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। প্রথম বহর রোববার (২৪ মে) রাতেই স্কটল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেবে। এরপর দ্বিতীয় দল যাবে মঙ্গলবার (২৬ মে)। স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় প্রস্তুতি সিরিজ শেষ করেই সেখান থেকে সরাসরি ইংল্যান্ডে যাবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের অতীত অবশ্য খুব বেশি উজ্জ্বল নয়। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে প্রথমবার নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর থেকে নিয়মিত খেললেও সাফল্য খুব সীমিত। এখন পর্যন্ত ২৫ ম্যাচে মাত্র তিনটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম আসরে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডকে হারানোর পর দীর্ঘ সময় কোনো জয় পায়নি দলটি। পরে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে আবার জয়ের দেখা মিললেও ধারাবাহিকতা গড়ে ওঠেনি। এবার সেই অতীত বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ। রোববার সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি জানালেন, পুরোনো ব্যর্থতাকে চাপ হিসেবে নয়, বরং নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন তিনি। জ্যোতি বলেন, ‘সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা দুবাইয়ে
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আর বেশি দেরি নেই। আগামী ১২ জুন ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে শুরু হতে যাওয়া এই বৈশ্বিক আসরে অংশ নিতে দুই ধাপে দেশ ছাড়ছেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। প্রথম বহর রোববার (২৪ মে) রাতেই স্কটল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেবে। এরপর দ্বিতীয় দল যাবে মঙ্গলবার (২৬ মে)। স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় প্রস্তুতি সিরিজ শেষ করেই সেখান থেকে সরাসরি ইংল্যান্ডে যাবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের অতীত অবশ্য খুব বেশি উজ্জ্বল নয়। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে প্রথমবার নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর থেকে নিয়মিত খেললেও সাফল্য খুব সীমিত। এখন পর্যন্ত ২৫ ম্যাচে মাত্র তিনটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম আসরে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডকে হারানোর পর দীর্ঘ সময় কোনো জয় পায়নি দলটি। পরে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে আবার জয়ের দেখা মিললেও ধারাবাহিকতা গড়ে ওঠেনি।
এবার সেই অতীত বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ। রোববার সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি জানালেন, পুরোনো ব্যর্থতাকে চাপ হিসেবে নয়, বরং নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন তিনি।
জ্যোতি বলেন, ‘সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা দুবাইয়ে একটি ম্যাচ জিতেছিলাম। এর আগের আসরেও খেলেছিলাম, তবে তখন কোনো ম্যাচ জিততে পারিনি। সেই জায়গা থেকে আমি মনে করি, গতবারের তুলনায় এবার আমাদের দলগত সমন্বয় আরও ভালো। তাই ম্যাচ জয়ের সংখ্যাও বাড়ানোর সুযোগ আছে। আমার কাছে মনে হয়, এখন টি-টোয়েন্টি দলে আগের চেয়ে বেশি পাওয়ার হিটার রয়েছে, যা আগে ছিল না। আগে দুই-একজন ক্রিকেটারের ওপরই টি-টোয়েন্টি অনেকটা নির্ভর করত। কিন্তু এখন নতুন কয়েকজন খেলোয়াড় এসেছে, যারা নিয়মিত দলের পারফরম্যান্সে অবদান রাখছে। যেমন নাহিদা আছে, মারুফা আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন একটা ক্ষুধা কাজ করছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে ভালো খেলতে হবে, ম্যাচ জিততে হবে। এই দিকগুলো বিবেচনা করলে আমার বিশ্বাস, এবার আমরা আরও ভালো করতে পারব। দুই-একটি নয়, তিন-চারটি ম্যাচ জেতার সামর্থ্যও আমাদের আছে। দলের বর্তমান অবস্থান, কয়েকজন ক্রিকেটারের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আমাদের যে শক্তি তৈরি হয়েছে, সেগুলো ইতিবাচক দিক। আমরা যদি সম্মিলিতভাবে নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে গত বিশ্বকাপের চেয়ে অবশ্যই ভালো ফল করা সম্ভব।’
প্রথমবারের মতো এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে ১২টি দল। দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে দলগুলো লড়বে শিরোপার জন্য। ১২ জুন শুরু হওয়া আসরের ফাইনাল হবে ৫ জুলাই, ঐতিহ্যবাহী লর্ডসে।
গ্রুপ ‘এ’-তে বাংলাদেশ পেয়েছে নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তানকে। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড।
বাংলাদেশ নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৪ জুন, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এজবাস্টনে। এরপর একে একে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে জ্যোতির দল।
বিশ্বকাপের আগে এবার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচ পাচ্ছে বাংলাদেশ, যা নিয়ে সন্তুষ্ট অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকবার আইসিসি ইভেন্টের আগে আমরা তেমন আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচ পেতাম না। এটা আমাদের একটা কমপ্লেইন ছিল। এবার কিন্তু সেটা নেই। আমরা অনেক ম্যাচ খেলেছি, সামনে আরও ম্যাচ আছে। আমার মনে হয় টুর্নামেন্টের আগে কম্বিনেশন ঠিক করার জন্য যথেষ্ট সময় পাব।’
দলের ব্যাটিং নিয়ে অতীতে প্রশ্ন থাকলেও এবার স্কোয়াডকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ মনে করছেন জ্যোতি। তার ভাষায়, ‘আগে দুই-একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। এখন কয়েকজন ক্রিকেটার নিয়মিত টিম পারফরম্যান্সে অবদান রাখছে। আমরা শুধু ভালো খেলতে না, ম্যাচ জিততে চাই।’
বাংলাদেশ দলের কাছে স্কটল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজটি তাই কেবল প্রস্তুতি নয়, বিশ্বকাপের আগে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার বড় সুযোগও। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, সেরা একাদশ ঠিক করা এবং ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো। এই তিন বিষয়েই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
এসকেডি/আইএন
What's Your Reaction?