দেশে খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুত বাড়ছে
খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুত বাড়াতে চায় সরকার। অর্থাৎ, জাতীয় সংকট মোকাবিলাসহ জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারি গুদামে সর্বনিম্ন খাদ্যশস্য মজুতের আগের নির্ধারিত সীমা বাড়বে। জানা গেছে, নিরাপত্তা মজুত পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি আগামী বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় উঠছে। এফপিএমসির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্য সদস্যরা আগামীতে নিরাপত্তা মজুত কত হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। বর্তমানে বাংলাদেশে চাল ও গম মিলে নিরাপদ খাদ্যশস্যের মজুত ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এখন দেশের উৎপাদন, চাহিদা ও বিতরণের পাশাপাশি সরকারি বিতরণ কর্মসূচিগুলোতে উপকারভোগীর সংখ্যা বেড়েছে। যে কারণে আমরা নিরাপত্তা মজুত বাড়ানোর প্রস্তাব করছি। তবে পরবর্তী মজুত পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি কমিটি চূড়ান্ত করবে।—মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ নিরাপত্তা মজুত আরও কমপক্ষে পাঁচ লাখ টন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে এফপিএমসির সভায়। সুনির্দিষ্ট না হলেও এ মজুত ১৮ থেকে সাড়ে ১৮ লাখ টনের মধ্যে হতে পারে। বর্তমানে খাদ্যশস্যের উৎপাদন, আমদানি ও বিতরণের তথ্য বিশ্লেষণ
খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুত বাড়াতে চায় সরকার। অর্থাৎ, জাতীয় সংকট মোকাবিলাসহ জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারি গুদামে সর্বনিম্ন খাদ্যশস্য মজুতের আগের নির্ধারিত সীমা বাড়বে।
জানা গেছে, নিরাপত্তা মজুত পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি আগামী বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় উঠছে। এফপিএমসির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্য সদস্যরা আগামীতে নিরাপত্তা মজুত কত হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে চাল ও গম মিলে নিরাপদ খাদ্যশস্যের মজুত ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।
এখন দেশের উৎপাদন, চাহিদা ও বিতরণের পাশাপাশি সরকারি বিতরণ কর্মসূচিগুলোতে উপকারভোগীর সংখ্যা বেড়েছে। যে কারণে আমরা নিরাপত্তা মজুত বাড়ানোর প্রস্তাব করছি। তবে পরবর্তী মজুত পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি কমিটি চূড়ান্ত করবে।—মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ নিরাপত্তা মজুত আরও কমপক্ষে পাঁচ লাখ টন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে এফপিএমসির সভায়। সুনির্দিষ্ট না হলেও এ মজুত ১৮ থেকে সাড়ে ১৮ লাখ টনের মধ্যে হতে পারে। বর্তমানে খাদ্যশস্যের উৎপাদন, আমদানি ও বিতরণের তথ্য বিশ্লেষণ করে এফপিএমসি কমিটি এটি চূড়ান্ত করবেন।
সরকার খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুত রাখে মূলত জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য। মূলত, দেশে কোনো দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা—যেন বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা যায়।
এছাড়া খাদ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, উৎপাদন কম হলে খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধ এবং সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনার জন্য মজুতকৃত এসব খাদ্য ব্যবহার করা হয়।
একটি দেশের সার্বিক খাদ্যনিরাপত্তা মজুত বাড়লে সেদেশের খাদ্য সংরক্ষণ ও বিতরণের সীমাও বাড়ে। ফলে বেড়ে যায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতাও।
আগের সবশেষ নিরাপত্তা মজুত নির্ধারণ হয়েছিল চার বছর আগে। সাধারণভাবেই ওই সময়ের চেয়ে এখন জনসংখ্যা বেড়েছে।—আনোয়ার ফারুক
খাদ্যনিরাপত্তা মজুত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) মহাপরিচালক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, সর্বশেষ ২০২২ সালে এফপিএমসির সভায় নিরাপত্তা মজুত বাড়িয়ে সাড়ে ১৩ লাখ মেট্রিক টন করা হয়েছিল। ওই সময়ের চেয়ে এখন দেশের উৎপাদন, চাহিদা ও বিতরণের পাশাপাশি সরকারি বিতরণ কর্মসূচিগুলোতে উপকারভোগীর সংখ্যা বেড়েছে। যে কারণে আমরা নিরাপত্তা মজুত বাড়ানোর প্রস্তাব করছি। তবে পরবর্তী মজুত পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি কমিটি চূড়ান্ত করবে।
দেশে সরকারি খাদ্যশস্য মজুত, সংরক্ষণ ও বিতরণের কাজ করে খাদ্য অধিদপ্তর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধিদপ্তরের সংগ্রহ বিভাগের পরিচালক মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে সরকারি খাদ্যশস্য মজুত পরিস্থিতি খুব ভালো। আমরা অতীতের মজুতের সব রেকর্ড ভেঙেছি। বোরো সংগ্রহ শেষে এ মজুত আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, সরকারি বিতরণ কার্যক্রমও বাড়ছে। আমাদের সংগ্রহের সক্ষমতাও আগের চেয়ে বেড়েছে। যে কারণে নিরাপত্তা মজুত বাড়ানো প্রাসঙ্গিক।
খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে খাদ্য মজুতের পরিমাণ ২৩ লাখ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন। এরমধ্যে চাল ১৯ লাখ ৬৬ হাজার টন, গম ২ লাখ ৮০ হাজার টন এবং ধান রয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার টন।
এসব বিষয়ে সাবেক কৃষি সচিব ও কৃষি বিশেষজ্ঞ আনোয়ার ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, আগের সবশেষ নিরাপত্তা মজুত নির্ধারণ হয়েছিল চার বছর আগে। সাধারণভাবেই ওই সময়ের চেয়ে এখন জনসংখ্যা বেড়েছে। সঙ্গে দেশে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, সাধারণ মানুষের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমও আরও বাড়ানো দরকার। ফলে নিরাপত্তা মজুত বাড়লে, বিতরণ বাড়বে। এটি ভালো উদ্যোগ।
এনএইচ/এমকেআর
What's Your Reaction?