দেশে ফিরলেন লিবিয়ায় আটক সেই যুবক
কক্সবাজারের পেকুয়ার এক যুবককে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি রাখার ঘটনায় অবশেষে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) ভোরে তিনি দেশে পৌঁছান। সকাল ৬টার দিকে ঢাকা শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পেকুয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা তাকে গ্রহণ করেন। ফেরত আসা যুবক হলেন পেকুয়া পৌরসভার বাংলাপাড়া এলাকার নাছির উদ্দীন সিকদার ও রাজিয়া সুলতানা (কল্পনা) দম্পতির ছেলে নাবিদুল ইসলাম ফাহিম প্রকাশ বাপ্পু (২৩)। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই একটি মানবপাচারকারী চক্র বাপ্পুকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে তাকে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রটি তাকে জিম্মি করে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। তাদের দাবির মুখে পরিবার তিন দফায় মোট ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধ করে। এরপরও চক্রটি আরও অর্থ দাবি করলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বাপ্পু মানবপাচারকারী চক্রের হাতে নির্যাতনের শিকার হন এবং মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় বাপ্পুর মা বাদী হয়ে ২০২৫ সালে নভেম্বর মাসে মানবপ
কক্সবাজারের পেকুয়ার এক যুবককে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি রাখার ঘটনায় অবশেষে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) ভোরে তিনি দেশে পৌঁছান। সকাল ৬টার দিকে ঢাকা শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পেকুয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা তাকে গ্রহণ করেন।
ফেরত আসা যুবক হলেন পেকুয়া পৌরসভার বাংলাপাড়া এলাকার নাছির উদ্দীন সিকদার ও রাজিয়া সুলতানা (কল্পনা) দম্পতির ছেলে নাবিদুল ইসলাম ফাহিম প্রকাশ বাপ্পু (২৩)।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই একটি মানবপাচারকারী চক্র বাপ্পুকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে তাকে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রটি তাকে জিম্মি করে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। তাদের দাবির মুখে পরিবার তিন দফায় মোট ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধ করে। এরপরও চক্রটি আরও অর্থ দাবি করলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বাপ্পু মানবপাচারকারী চক্রের হাতে নির্যাতনের শিকার হন এবং মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।
এ ঘটনায় বাপ্পুর মা বাদী হয়ে ২০২৫ সালে নভেম্বর মাসে মানবপাচারকারী চক্রের ১২ সদস্যের নাম উল্লেখ করে পেকুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্য ও তদন্তের সূত্র ধরে ভিকটিমকে উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এনসিবি (ইন্টারপুল বাংলাদেশ) বিষয়টি ইন্টারপুলের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লিবিয়া পুলিশের এনসিবির কাছে উপস্থাপন করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ইন্টারপুল এবং লিবিয়া পুলিশ এনসিবির সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাপ্পুর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
এরপর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কূটনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে তিনি নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিদেশে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদেশগামীদের বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং দালালচক্র সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মানবপাচার মামলাটি রুজুর পর বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ইন্টারপুল বাংলাদেশ এবং লিবিয়া পুলিশ এনসিবির সমন্বিত উদ্যোগে মাত্র সাত মাসের মধ্যে ভিকটিমকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এটি মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতার একটি সফল উদাহরণ। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
What's Your Reaction?