ঈদফুল
একদিকে পতন, একদিকে ঈদ
আমাদের কেমন ভাগ্য!
একদিকে শিমুলের রেণু পড়ে আছে সুন্দর মতোন
ইরানে, মানুষের রেণু যেনো কথা কওয়া শিখছে
‘আর আসিব না ফিরে’
এবারের ঈদ যে কেনো বসন্তে আসলো
কেনো যে পতনের মর্মরে বেজে উঠলো ঈদের মাইক
আমরাও কম নয়
মাইকের ধ্বণিতে গা ভাসিয়ে দিয়েছি
কে না জানে-
আমার প্রোপিতামহ অতি মুখ্যসুখ্য মানুষ ছিলেন
তিনিও জেনেছিলেন-শিমুলবৃক্ষের দুঃখ,
একেবারে শেষের শুকনো পাতাটি ঝরে পড়ার পর
কেমন হরিণের মতোন হয়ে যায়!
কৃষ্ণচূড়ার দুর্দশা,একই রকম
আমের মোলের বাহাদুরিও দুই দিনের
এই যে পতন,পতনের মর্মর... শুকনো পাতার গঙ্গানি!
অরণ্যে ঈদফুল ফুটবে কিভাবে!
আতর বিক্রেতা
মা বলছে
‘বাবা আজকে কবিতা টবিতায় হাত নিস না,
সারাদিন আতর বেচবি’
আমি আতর বেচতে শুরু করি...
এই আতর নিবি, আতর
আতর ছুঁটোছুটি করছে-ভয়ানক অবাধ্য
সদাই ক্রেতাদের মতোন
হাটের অলিগলিতে আতরের মিছিল,
আমার সাদা পাঞ্জাবীর দিকে একবার চোখ যায়
দেখি,কাঁচাবেলির সাথে মিশে দৌড়োচ্ছে ঢের, ভাঁজে ভাঁজে
এই আতর নিবি আতর...
লোকজন আতরের বদলে আমাকে কিনতে চায়...
আমি নাকি রুপোলি চাঁদের মতোন দেখতে
একজন তো বলো ফেললো,
আপনাকে সাদা পাঞ্জাবীতে মানিয়েছে বেশ
আমি রুপান্তরিত হয়ে গেলাম আতরে- খুব গোপনে
এক বোতল আতরের ভেতর আমাকে মিশিয়ে দেই
তারপর হাঁকলাম...
কে আছেন,আমাকে কিনবেন,আসুন,কিনুন,সময় কম
এক কেজি আমি= মাত্র সাতশ টাকা
পর্দার আড়াল থেকে এক রমণী বললো,
‘আমি আপনাকে কিনতে চাই’
আমি তাকে ছোট্ট এক সিসিতে আমি'কে পুরিয়ে দিলাম
একটু পর রমণী ফিরে এসে মুখের দিকে ছুঁড়ে দেন সিসি
‘আমি তো ফরমালিনযুক্ত আপনাকে কিনতে চাইনি’
-কেন,মাত্র আতর মিশিয়েছি,
তাও আবার ইন্ডিয়ান কাঁচাবেলি
-এটা কি ফরমালিন নয়?
সেদিন রাতে ঘোরঘুমে কেউে এসে বলছিলো,
... আপনি লোভী, প্রতারক
সাদা পাঞ্জাবি
আমাদের ভেতর দিয়ে ঝড় যাচ্ছে-তুমুল ঝড়
অথচ পাঞ্জাবি নামক সাদা ছতর পড়তে হবে আমাকে
সাদা পোশাক মানেই,
ইনিবিনিয়ে ঈশ্বরের প্রতি ঝুঁকে যাওয়া
ট্রাম্প ঝড় তুলেছে দেখার মতোন
সেই ঝড়ের কবলে পড়ে
মানুষের রক্ত, চিংড়ি মাছের রক্তের মতোন
সাদা হয়ে যাচ্ছে
আমাদের পাঞ্জাবিটাও
চিংড়ি মাছের রক্তের মতোন ধবধবে সাদা
ঈদের মাঠে বেরোচ্ছি-কতো আনন্দ, হুল্লোর!
সেমাই চিনি খেজুর-ইয়াত্তা নেই
কিন্তু আমার সাদা পাঞ্জাবিটা বেঁকে বসেছে,
শরীর থেকে খুলে খুলে দৌড়োচ্ছে এদিক সেদিক
ফের পড়ছি,ফের খুলে যায় শরীর থেকে
পাঞ্জাবী এইবার খট খট করে হেঁটে এসে বলছে,
ইরানীদের রক্ত কি আজ লাল হবে, নাকি সাদা?
আমি বল্লাম... সাদা,কারণ ওখানেও তো ঈদ হবে
পাঞ্জাবি বলে উঠলো,
...ওখানে আজ ভোর থেকে লাল রক্ত বইতে শুরু করেছে
...তাহলে শরীরে আসছো না কেন?
...না, আপনি মিথ্যাবাদী
আমি মৃত মানুষের ঘ্রাণ বিক্রি করি।
আতরের এতো অদৃশ্য গর্জন আগে দেখিনি
কানের লতির ভেতর আতর... তুলো গুঁজিয়ে দিচ্ছি
আতর তবু গর্জে ওঠে-
আতর বলছে- আজ আমাদের দৌড়োনোর দিন
পাশের বাড়ির চামেলি আসে বাড়িতে
তার অসুস্থ মা ভোরে মারা গেছেন
একটু পর রিয়া আসে সেমাই হাতে
একদিকে সেমাইয়ের ঘ্রাণ
আরেকদিকে চামেলির মৃত মায়ের ধুপ ধুনোর গন্ধ
কেউ কারো সাথে মিলমিশ হচ্ছে না
ধুপের স্রোতে বয়ে চলেছে চামেলির মা
আমাদের ভাগ্য-
ঈদের মাঠে সাদা ঘোড়া দৌড়োচ্ছে আনন্দে
চামেলি দৌড়োচ্ছে গোরের সরু রাস্তার দিকে
আর রিয়া, সেমাইয়ের কাদা রাস্তায়
আমি দৌড়োচ্ছি ভুল সিদ্ধান্তের স্রোতে
কানের আতর আমাকে তাড়া করছে--
ঈদের মাঠে যেনো আমি তাকে বিক্রি করি
অথচ,আমি বিক্রি করতে এসেছি ধূপের গন্ধ
... এই ধুপের গন্ধ নিবি, ধুপের গন্ধ
চামেলির মায়ের শরীর থেকে কিনেছিলাম এক চিলতে
মুসল্লিগণ কচকচে টাকা বের করে বলে,
... এক সিসি ধূপের গন্ধ দিন
আরেকজন বললো,
... আমাকে আতরের ঘ্রাণ দিন এক সিসি
পরের ক্রেতাকে বললাম,
আমি আতর বিক্রেতা নই
আমি মৃত মানুষের ঘ্রাণ বিক্রি করি
একটা নিরপরাধ সেহরির বিদায়
কোনো অপরাধ করেনি সে
কিন্ত এভাবে গুট্টিগাট্টি বেঁধে চলে যেতে হচ্ছে তাকে
আরো কয়েকটা দিন থেকে যেতে পারতে
এই তো, তিরিশ দিন আগে কোন ভোরে
লজ্জাবতি ইনান্নার মতো
জরজায় এসে টোকা দিয়ে বলেছিলে
‘আমি আবার এসেছি, আমাকে নেবে না ‘
আমি আত্নহারা হয়েছিলাম...
যেনো আমার ভেতরে ঝড় উঠেছে দেখার মতোন
ঘরে বাইরে হস্তিরঙের অন্ধকার নাই হয়ে যাচ্ছে
আমি খুশি হয়ে পিঁড়ি দিলাম বসতে
এর পর যখন,আমার পাতে তুলে দিচ্ছিলে
মাছের ঝোল আর রুপোলি রঙের ভাত
স্বাদ মতো খেয়েছি...
ঠোঁটে লেপ্টে গেছিলো তোমারও শান্ত ঠোঁট
এভাবে প্রতি রাতে তুমি আসো, ডাকো...
আর আমি আস্থির প্রেমিকের মতোন ধরপর করে উঠি
ঘুমঘোরের পরওয়া করিনি,
প্রিয়তমা আসলে ঘুম আবার কি!
পূথিবীতে মুসলিম দেশগুলোতে তুমি একাই সামলাও
আমার ঘর, আমার দেশ, এদেশ, ওদেশ
তুমি হাঁপিয়ে ওঠোনা... তোমার কি দম নেই একদণ্ড?
তুমি চলে যাচ্ছো- সেই ভোরের মতোই
যেমন এসেছিলে নিঃসঙ্গে, তেমনি একা একা
কেউ আটকাতে পারছে না তোমাকে
তোমার কালো শাড়ির আঁচলে
এক লোকমা ভাত আর সালুন বেঁধে দিয়েছি
তুমি আঁচলটা একটাবার খুলে দেখো সই
আমাদের বড্ড ব্যস্ত সময়
তোমাকে বলা'ই হয়নি... তুমিও আমার সাখে বসো,খাও