ধরলার তীব্র স্রোতে ধসে পড়ল কালভার্ট, ৫০ ফুট সড়ক বিলীন

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ধরলা নদীর তীব্র স্রোতে একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ ফুট সড়ক বিলীন হয়ে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবারের সঙ্গে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  জানা গেছে, গত ২৯ জুন গভীর রাতে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ধরলা নদীর পানি বেড়ে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়। এতে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। বন্যার তীব্র স্রোতে ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গোরকমন্ডল এলাকার কালভার্টটি ধসে যায়। একই সঙ্গে কালভার্টের দুই পাশের প্রায় ৫০ ফুট সড়ক ভেঙে গিয়ে বড় নালার সৃষ্টি হয়। ফুলবাড়ী উপজেলার আনন্দবাজার থেকে চর গোরকমন্ডল এলাকায় যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বেড়েছে যাতায়াত ব্যয়ও। স্থানীয় বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চর গোরকমন্ডল এলাকায় ধরলা নদীর তীরে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কো

ধরলার তীব্র স্রোতে ধসে পড়ল কালভার্ট, ৫০ ফুট সড়ক বিলীন

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ধরলা নদীর তীব্র স্রোতে একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ ফুট সড়ক বিলীন হয়ে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবারের সঙ্গে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

জানা গেছে, গত ২৯ জুন গভীর রাতে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ধরলা নদীর পানি বেড়ে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়। এতে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। বন্যার তীব্র স্রোতে ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গোরকমন্ডল এলাকার কালভার্টটি ধসে যায়। একই সঙ্গে কালভার্টের দুই পাশের প্রায় ৫০ ফুট সড়ক ভেঙে গিয়ে বড় নালার সৃষ্টি হয়।

ফুলবাড়ী উপজেলার আনন্দবাজার থেকে চর গোরকমন্ডল এলাকায় যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বেড়েছে যাতায়াত ব্যয়ও।

স্থানীয় বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চর গোরকমন্ডল এলাকায় ধরলা নদীর তীরে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ফলে ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলের তীব্র স্রোতে কালভার্ট ও সড়কটি ভেঙে গেছে। এখন কোমরসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিনা বেগম বলেন, পাঁচ দিন ধরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করছি। এলাকায় তিনটি আবাসন প্রকল্পসহ পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসবাস। দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ অথবা অন্তত বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করা জরুরি।

চর গোরকমন্ডল এলাকার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈম সরকার বলেন, এটি ফুলবাড়ী উপজেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান সড়ক। পাঁচ দিন আগে বন্যার পানির স্রোতে সড়কটি ভেঙে গেলেও এখনো কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়নি। শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করছে।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী বলেন, কালভার্ট ধসের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা এবং স্থায়ীভাবে একটি সেতুসহ সড়ক পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সিরাজুদ্দৌলা বলেন, ধরলা নদীর তীব্র স্রোতে চর গোরকমন্ডল এলাকায় একটি কালভার্ট ধসে পড়ায় প্রায় ৫০ ফুট সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে বড় পরিসরে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আকতার বলেন, কয়েকদিন আগে পানির তীব্র স্রোতে ওই এলাকার ছোট কালভার্টটি ভেঙে গেছে বলে জেনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলাকাবাসীর যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow