ধর্ষণের শিকার শিশু আইসিইউতে, জেল হাজতে মাদ্রাসা সুপার
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ধর্ষণের শিকার ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশু আশঙ্কাজনক অবস্থায় এখনো আইসিইউতে রয়েছে। মধ্যখানে কিছু সময়ের জন্য তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার আবারও আইসিউতে নেওয়া হয়েছে। ধর্ষণ এবং সহযোগিতার অভিযোগে জড়িত তিনজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে রাজশাহী হাসপাতাল থেকে এসে ভেড়ামারা থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী শিশুর মা।
মামলায় মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইদুর রহমানের স্ত্রী মোছা. শামীমা খাতুন ও রিশা খাতুনকে আসামি করা হয়। সোমবার পুলিশ মাদ্রাসার সুপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।
শিশুর পরিবার ও ভেড়ামারা থানা সূত্রে জানা গেছে, ভেড়ামারার পার্শ্ববর্তী থানা দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের বাসিন্দা ১০ বছরের এক শিশু বিগত ৮ মাস আগে উপজেলার চৈতন্য মোড়ে অবস্থিত জামিলাতুন্নেসা মহিলা মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। সে অন্য সহপাঠীদের সঙ্গে সেখানে আবাসিক ছাত্রী হলে থেকে লেখাপড়া করতো। দোতলায় মাদ্রাসা আর নিচ তলায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাইদুর রহমান পরিবারসহ থাকতেন।
মাদ্রাসায় পুরুষ শিক্ষক
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ধর্ষণের শিকার ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশু আশঙ্কাজনক অবস্থায় এখনো আইসিইউতে রয়েছে। মধ্যখানে কিছু সময়ের জন্য তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার আবারও আইসিউতে নেওয়া হয়েছে। ধর্ষণ এবং সহযোগিতার অভিযোগে জড়িত তিনজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে রাজশাহী হাসপাতাল থেকে এসে ভেড়ামারা থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী শিশুর মা।
মামলায় মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইদুর রহমানের স্ত্রী মোছা. শামীমা খাতুন ও রিশা খাতুনকে আসামি করা হয়। সোমবার পুলিশ মাদ্রাসার সুপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।
শিশুর পরিবার ও ভেড়ামারা থানা সূত্রে জানা গেছে, ভেড়ামারার পার্শ্ববর্তী থানা দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের বাসিন্দা ১০ বছরের এক শিশু বিগত ৮ মাস আগে উপজেলার চৈতন্য মোড়ে অবস্থিত জামিলাতুন্নেসা মহিলা মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। সে অন্য সহপাঠীদের সঙ্গে সেখানে আবাসিক ছাত্রী হলে থেকে লেখাপড়া করতো। দোতলায় মাদ্রাসা আর নিচ তলায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাইদুর রহমান পরিবারসহ থাকতেন।
মাদ্রাসায় পুরুষ শিক্ষক হিসেবে সুপার একাই থাকতেন। গত রোববার মাদ্রাসা ছুটি হওয়ায় শিশুর মা তাকে বাড়ি নিতে আসেন। এ সময় সুপারের স্ত্রী শিশুর জ্বর এসেছে বলে তার মাকে জানায়। তারা ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দেখতে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, শিশুর অবস্থা বেগতিক হওয়ায় ডাক্তাররা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেছেন। বর্তমানে তাকে সেখানের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। পরে হাসপাতাল থেকে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, সংস্থার লোকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশ সোমবার এতেকাফ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষক সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
শিশুটির মা বলেন, তার মেয়ের ভর্তির সময় এ মাদ্রাসায় ছাত্রী ছিল ৪০-৪৫ জন। পরে তা কমে সাতজনে এসেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে শেষ করে দিয়েছে। আমি এর কঠিন বিচার চাই।
শিশুটির বাবা বলেন, আমার বাচ্চাকে কোরআন শেখানোর জন্য মাদ্রাসায় দিয়েছি। কিন্তু এমন সর্বনাশ কেন করল? এমনটি যেন কারোর শত্রুর সঙ্গেও না হয়। এরা পশুর চেয়েও জঘন্য।
মঙ্গলবার বিকেলে শিশুটির বাবা বলেন, তিনি প্রথম থেকেই তার মেয়ের পাশে আছেন। অবস্থার কোনো উন্নতি নেই। অল্প কিছুক্ষণের জন্য কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার তাকে আবার আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। একটু শব্দ শুনলেই ঘুমের মধ্যে শুধু আঁতকে উঠে চিৎকার করছে। এই কষ্ট আমি আর সহ্য করতে পারছি না।
ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, শিশুটির মা বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার ৩ আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।