ধুনট পৌরসভার কর বকেয়া ৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা
বগুড়ার ধুনট পৌরসভায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির হোল্ডিং কর বাবদ ৩ কোটি ৪২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কর আদায়ে অনীহা ও অনিয়মের কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নাগরিক সেবা পরিচালনায় আর্থিক সংকটে পড়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ১৬ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত ধুনট পৌরসভার আয়তন ৪.৮৫ বর্গ কিলোমিটার এবং বর্তমান এটি ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভা। এখানে প্রায় ২২ হাজার মানুষের বসবাস। পৌরসভার হোল্ডিং সংখ্যা ৩ হাজার ৯৪০টি। এর মধ্যে নিয়মিত কর দিচ্ছেন ৬ শতাধিক মালিক। অবশিষ্ট হোল্ডিং মালিক অনিয়মিত কর দেন। তবে সরকারি তিন প্রতিষ্ঠানের কাছেই বকেয়া কোটি টাকার বেশি। আবার অনেক বাসা বাড়ির মালিক বছরের পর বছর হোল্ডিং না খুলে পৌর কর ফাঁকি দিচ্ছেন। বকেয়া কর আদায়ে বিভিন্ন সময় পৌরসভার উদ্যোগে মাইকিং করলেও তেমন কাজে দিচ্ছে না। এদিকে কর পরিশোধ না করায় বিভিন্ন ধরনের প্রত্যয়নপত্র, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, হোল্ডিং সংক্রান্ত ছাড়পত্রসহ অন্যান্য সেবা গ্রহণে জটিলতার মুখে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। সেবা নিতে আসা কয়েকজন নাগরিক জানান, জরুরি প্রয়োজন থাকলেও কর বকে
বগুড়ার ধুনট পৌরসভায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির হোল্ডিং কর বাবদ ৩ কোটি ৪২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কর আদায়ে অনীহা ও অনিয়মের কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নাগরিক সেবা পরিচালনায় আর্থিক সংকটে পড়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ১৬ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত ধুনট পৌরসভার আয়তন ৪.৮৫ বর্গ কিলোমিটার এবং বর্তমান এটি ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভা। এখানে প্রায় ২২ হাজার মানুষের বসবাস। পৌরসভার হোল্ডিং সংখ্যা ৩ হাজার ৯৪০টি। এর মধ্যে নিয়মিত কর দিচ্ছেন ৬ শতাধিক মালিক। অবশিষ্ট হোল্ডিং মালিক অনিয়মিত কর দেন। তবে সরকারি তিন প্রতিষ্ঠানের কাছেই বকেয়া কোটি টাকার বেশি। আবার অনেক বাসা বাড়ির মালিক বছরের পর বছর হোল্ডিং না খুলে পৌর কর ফাঁকি দিচ্ছেন। বকেয়া কর আদায়ে বিভিন্ন সময় পৌরসভার উদ্যোগে মাইকিং করলেও তেমন কাজে দিচ্ছে না। এদিকে কর পরিশোধ না করায় বিভিন্ন ধরনের প্রত্যয়নপত্র, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, হোল্ডিং সংক্রান্ত ছাড়পত্রসহ অন্যান্য সেবা গ্রহণে জটিলতার মুখে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
সেবা নিতে আসা কয়েকজন নাগরিক জানান, জরুরি প্রয়োজন থাকলেও কর বকেয়া থাকার কারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারছেন না। তবে অনেকের দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এককালীন বকেয়া কর পরিশোধ করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তারা কিস্তিতে কর পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।
পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত অনেক সরকারি-বেসরকারি ও বাসাবাড়ির কর বছরের পর বছর বকেয়া রয়েছে। পৌরসভার অভ্যন্তরীণ রাজস্ব খাত হওয়ার পরেও কর আদায়ে দীর্ঘদিনের গাফিলতির কারণে পৌরসভার পক্ষে থেকে কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। যদি সময়মতো করদাতারা হোল্ডিং কর পরিশোধ করতেন, তাহলে নাগরিক সেবা আরও উন্নত করা সম্ভব হতো। তবে বর্তমান পৌর প্রশাসকের কঠোর তদারকি ও নির্দেশনার কারণে আগের তুলনায় কর আদায়ের হার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ধুনট পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম বলেন, কর আদায়ের লক্ষ্যে মাইকিং করলেও তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। এ কারণে বকেয়া হোল্ডিং কর আদায়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের কর পরিশোধে উদ্বুদ্ধ করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এল.বি/কেএইচকে/জেআইএম
What's Your Reaction?