ধূমকেতুর মতো উত্থান ইউপি সদস্য কামালের
দুই দশক আগেও তিনি কখনো মাছ ধরতেন, কখনো দিনমজুরের কাজ করতেন। দৃশ্যমান ব্যবসা বলতে এখনো একটি ছোট দোকান ছাড়া তেমন কিছু নেই। অথচ এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে তার পাকা ভবন, নোহা গাড়ি, পাশাপাশি ক্রয় করেছেন কোটি কোটি টাকার জমি। বিপুল অর্থ খরচ করে নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রতিনিধিও। আর মাদক কারবারের মাধ্যমে কয়েক বছরে কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কামাল উদ্দিন। এমনটাই জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও প্রশাসনের একাধিক সূত্র। র্যাব, পুলিশ, ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসী থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন পালংখালী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের রহমানের বিল এলাকার কলিম উল্লাহ বলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে উখিয়াসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০০ সালের দিকে কামাল উদ্দিন ছিলেন বেকার। তার বাবা কলিম উল্লাহ বলী বৈশাখ মাসে বলী ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এসময় কামাল উদ্দিন কখনো মাছ শিকার, কখনো দিন মজুরের কাজ করে সংসারের হাল ধরতেন। বছর সাতেক আগে পালংখালীর থাইংখালী বাজারে একটি কাপড়ের দোকান দেন। দোকানটি বর্তমানে চালু রয়েছে। নিজের জন্মস্থা
দুই দশক আগেও তিনি কখনো মাছ ধরতেন, কখনো দিনমজুরের কাজ করতেন। দৃশ্যমান ব্যবসা বলতে এখনো একটি ছোট দোকান ছাড়া তেমন কিছু নেই। অথচ এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে তার পাকা ভবন, নোহা গাড়ি, পাশাপাশি ক্রয় করেছেন কোটি কোটি টাকার জমি। বিপুল অর্থ খরচ করে নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রতিনিধিও। আর মাদক কারবারের মাধ্যমে কয়েক বছরে কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কামাল উদ্দিন। এমনটাই জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও প্রশাসনের একাধিক সূত্র।
র্যাব, পুলিশ, ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসী থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন পালংখালী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের রহমানের বিল এলাকার কলিম উল্লাহ বলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে উখিয়াসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০০ সালের দিকে কামাল উদ্দিন ছিলেন বেকার। তার বাবা কলিম উল্লাহ বলী বৈশাখ মাসে বলী ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এসময় কামাল উদ্দিন কখনো মাছ শিকার, কখনো দিন মজুরের কাজ করে সংসারের হাল ধরতেন। বছর সাতেক আগে পালংখালীর থাইংখালী বাজারে একটি কাপড়ের দোকান দেন। দোকানটি বর্তমানে চালু রয়েছে।
নিজের জন্মস্থান পরিবর্তন করে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পালংখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এর আগে রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় না থাকলেও উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর ঘনিষ্ঠতায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে তার দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকলেও তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় এক প্রার্থীকে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন বলে কামাল উদ্দিন নিজেই এলাকায় প্রচার করে বেড়াচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদক কারবারের মাধ্যমে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা কামাল উদ্দিন নিজের বিতর্কিত অতীত আড়াল করতে জন্মস্থান ৩ নম্বর ওয়ার্ড পরিবর্তন করে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে অর্থ ছড়িয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন।
ইউপি সদস্যের পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি সীমান্ত এলাকার মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কথায় কথায় তিনি সংসদ সদস্য কিংবা তাঁর পরিবারের নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটান এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে চাপে রাখেন।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আইনের একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামী কামাল উদ্দিন।
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কামাল উদ্দিন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পড়ালেখার সুযোগ পাননি। বাবা কলিম উল্লাহ বলীর পক্ষে কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পদ ছিল না। তিনি থাকতেন মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বনভূমিতে, যা থেকে কামালের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সীমান্তবর্তী মাদক চক্রের সঙ্গে। ২০১০ সালের দিকে সরাসরি মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন এবং এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
অনুসন্ধান বলছে, তিনি পালংখালীর তেলখোলা এলাকায় সমতল ও পাহাড়ি জমি মিলিয়ে প্রায় ২০ একর জমি ক্রয় করেছেন। রহমানের বিল এলাকায় একটি সেমিপাকা ঘর তৈরি করেছেন এবং পালংখালী স্টেশনে ৪০ শতক জমিও কিনেছেন। এছাড়া তার সংগ্রহে রয়েছে একটি প্রাইভেট কার ও একটি নোহা।
এবিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্য বলেন, এক সময় কামাল উদ্দিন ও তার পরিবার দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থান বদলে গেছে। তাদের পরিবার ইয়াবা কারবার করেই টাকার পাহাড় গড়েছেন। এদের বিরুদ্ধে ইয়াবা মামলাও রয়েছে।
তারা আরো বলেন, কামাল কিংবা তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যের দৃশ্যমান কোন ব্যবসা বানিজ্য নেই। তবে বর্তমানে তাদের রয়েছে বহুতল ভবন, গাড়ি, জমিজমা সহ আরো অনেক সম্পদ।
পালংখালী ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বলেন, কামাল ও তার ভাই মিয়ানমারের একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন। এদের গ্রুপে আরো অনেকে রয়েছে। ক্যাম্পের অধিকাংশ মাদকের জোগান দিচ্ছেন তিনি।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন বলেন, যতদূর জানি, কামাল উদ্দিন ও তার বাবার উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়-সম্পত্তি নেই। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় অন্যরা তার চেয়ে বেশি তথ্য দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদক মামলাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বর্তমানে আমি সব মামলায় জামিনে রয়েছি।
সম্পত্তি কেনার অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, তার একটি পুরোনো ব্যক্তিগত গাড়ি ও একটি নোহা রয়েছে। আর যে জমিগুলোর কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো পাহাড়ি জমি হওয়ায় কিনতে বেশি অর্থ লাগে না।
প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সম্প্রতি কামাল উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের আগাম খবর পেয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে সূত্রটি দাবি করে।
What's Your Reaction?