নকল ধানবীজের কবলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ও নলকুড়া ইউনিয়নে হাইবিট ব্রী-৯৬ মোড়কে নকল বীজধান আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইগাতী বাজারের মেসার্স নুরুল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স সাব্বির বীজ ভাণ্ডার থেকে মধুপুরের মিরন সীড কোম্পানির নামে উচ্চ ফলনশীল হাইবিট ব্রী-৯৬ বীজধানের মোড়কে তাদের কাছে নকল বীজ বিক্রি করা হয়েছে। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেনের কাছে প্রতিকার চেয়ে কৃষকেরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের দিঘিরপার এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এমনই চিত্র। সবুজ ধানের মাঠে হাইবিট ব্রী-৯৬ বীজের চাষকৃত ধান গাছে শীষ আসার সময় হলেও শীষ না এসে অনেক খেতের ফসল নষ্ট হতে শুরু করেছে।  ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান, কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে তারা জানতে পারেন, ব্রী-৯৬ মোড়কে নকল বা ভিন্ন জাতের বীজ দেওয়া হয়েছে। মূলত বেশি মুনাফার আশায় ডিলারদের মাধ্যমে এ বীজ বিক্রি করা হয়েছে। ফলে এখন ধান গাছে শীষ না এসে ফসল নষ্ট হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কার্যালয় ও একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উ

নকল ধানবীজের কবলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ও নলকুড়া ইউনিয়নে হাইবিট ব্রী-৯৬ মোড়কে নকল বীজধান আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইগাতী বাজারের মেসার্স নুরুল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স সাব্বির বীজ ভাণ্ডার থেকে মধুপুরের মিরন সীড কোম্পানির নামে উচ্চ ফলনশীল হাইবিট ব্রী-৯৬ বীজধানের মোড়কে তাদের কাছে নকল বীজ বিক্রি করা হয়েছে। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেনের কাছে প্রতিকার চেয়ে কৃষকেরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের দিঘিরপার এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এমনই চিত্র। সবুজ ধানের মাঠে হাইবিট ব্রী-৯৬ বীজের চাষকৃত ধান গাছে শীষ আসার সময় হলেও শীষ না এসে অনেক খেতের ফসল নষ্ট হতে শুরু করেছে।  ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান, কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে তারা জানতে পারেন, ব্রী-৯৬ মোড়কে নকল বা ভিন্ন জাতের বীজ দেওয়া হয়েছে। মূলত বেশি মুনাফার আশায় ডিলারদের মাধ্যমে এ বীজ বিক্রি করা হয়েছে। ফলে এখন ধান গাছে শীষ না এসে ফসল নষ্ট হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কার্যালয় ও একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা সদর ও নলকুড়া ইউনিয়নের চার-পাঁচটি গ্রামে ১৫০ জন কৃষকের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জমিতে হাইবিট ব্রী-৯৬ বীজধান আবাদ করা হয়। প্রতি একরে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এবার তাদের ধান আর ঘরে তোলা হবেনা। দিঘিরপাড় গ্রামের কৃষক আরশাদুল হক বলেন, ব্রী-৯৬ বীজ কিনে ৭৫ শতক জমিতে আবাদ করেছেন। এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন ধান হওয়ার সময় হলেও উল্টো ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই অবস্থা এলাকার আরও অনেক কৃষকের। তিনি এ ঘটনার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এছাড়াও একই গ্রামের জহুরুল, ফকির আলী, ফরিদুল ইসলাম ও সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমাদের বলেছে ভালো বীজ। কিন্তু এখন ধান বের হচ্ছেনা। গাছ মরে আস্তে আস্তে নিচের দিকে আসতেছে। আমরা এর ক্ষতিপূরণ চাই। রামনগর চতল গ্রামের কৃষক নওশেদ আলী বলেন, ১৫ কাঠা মাটি (৭৫ শতক) ধান চুক্তি নিয়ে লাগাইছি। ব্রী-৯৬ বীজ আনছি, গতবার লাগাইছিলাম ভালোই হয়েছিল। এইবার যে বীজটা আনছি, কিন্তু থোর নাই, খেত মরতে শুরু করছে। আমি গরিব মানুষ। ঋণ করে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করেছি। এখন এই ঋণ কেমনে দিমু। অভিযোগ সম্পর্কে মেসার্স নুরল এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. নুরল আমিন ও সাব্বির বীজ ভাণ্ডারের মালিক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অনুমোদিত বীজই বিক্রি করেছি। তবে বীজের মোড়কে কোনো অনিয়ম থাকার কথা না। হলে সেটা কোম্পানির বিষয়। তাদের কাছ থেকে এনে আমরা শুধু বিক্রি করেছি। এ ব্যাপারে মধুপুরের মিরন সীড কোম্পানির আঞ্চলিক বিপণন কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বলেন, এ ধরনের ঘটনা শুনেছি। এ নিয়ে কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বীজে যদি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, মাঠ পর্যায়ে বিষয়টি দেখে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতিকারের চেষ্টা করা হবে। ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাইবিট ব্রী-৯৬ বীজধান নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্রী-৯৬-এর পরিবর্তে অন্য জাতের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ বীজ উৎপাদন, পরিবহন ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দেখা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে আগামী আমন মৌসুমে প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow