নখ কামড়ানোর অভ্যাসে হতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

দাঁত দিয়ে অনেকেই নখ কাটেন। আসলে এটি এক ধরনের বদভ্যাস। এটি কেবল শুধু ছোটদের নয়, বড়দের মধ্যেও এই অভ্যাস চোখে পড়ে। সাধারণ মানুষের চোখে এটি হয়তো কেবল একটি বদভ্যাস মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ডার্মাটোফেজিয়া। আর এই সাধারণ অভ্যাসটিই যে আপনার শরীরের স্থায়ী পঙ্গুত্বের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নখ কামড়ানো এক ধরনের বডি-ফোকাসড রিপিটেটিভ বিহেভিয়ার ( বিএফআরবি)। সহজ কথায়, যখন কোনো মানুষ প্রবল মানসিক চাপ বা উদ্বেগের মধ্যে থাকে, তখন মস্তিষ্ককে শান্ত করতে তিনি নিজের নখ বা আঙুলের চারপাশের চামড়া কামড়াতে শুরু করেন। চিকিৎসকরা একে এক ধরনের অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার (ওসিডি)এর পর্যায়ে ফেলছেন। নখ কামড়ানো বিপজ্জনকধীরে ধীরে এই অভ্যাস আঙুলের নেইল বেড ক্ষতিগ্রস্ত করে। নেইল বেড হলো নখের নিচের নরম অংশ, যা নখকে স্বাভাবিকভাবে বাড়তে সাহায্য করে। একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে নখ আর স্বাভাবিকভাবে বাড়ে না, বরং ত্বকের গভীরে ঢুকে যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। নখ কামড়ানো শুধু আঙুলকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না। মুখে থাকা লালা এবং নখের কোণে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া ক্ষুদ্র ক্ষতের মাধ্যমে সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে। এর ফলে প্যারোনিচিয়া বা নখের কোণে

নখ কামড়ানোর অভ্যাসে হতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

দাঁত দিয়ে অনেকেই নখ কাটেন। আসলে এটি এক ধরনের বদভ্যাস। এটি কেবল শুধু ছোটদের নয়, বড়দের মধ্যেও এই অভ্যাস চোখে পড়ে। সাধারণ মানুষের চোখে এটি হয়তো কেবল একটি বদভ্যাস মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ডার্মাটোফেজিয়া। আর এই সাধারণ অভ্যাসটিই যে আপনার শরীরের স্থায়ী পঙ্গুত্বের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নখ কামড়ানো এক ধরনের বডি-ফোকাসড রিপিটেটিভ বিহেভিয়ার ( বিএফআরবি)। সহজ কথায়, যখন কোনো মানুষ প্রবল মানসিক চাপ বা উদ্বেগের মধ্যে থাকে, তখন মস্তিষ্ককে শান্ত করতে তিনি নিজের নখ বা আঙুলের চারপাশের চামড়া কামড়াতে শুরু করেন। চিকিৎসকরা একে এক ধরনের অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার (ওসিডি)এর পর্যায়ে ফেলছেন।

নখ কামড়ানো বিপজ্জনক
ধীরে ধীরে এই অভ্যাস আঙুলের নেইল বেড ক্ষতিগ্রস্ত করে। নেইল বেড হলো নখের নিচের নরম অংশ, যা নখকে স্বাভাবিকভাবে বাড়তে সাহায্য করে। একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে নখ আর স্বাভাবিকভাবে বাড়ে না, বরং ত্বকের গভীরে ঢুকে যন্ত্রণার সৃষ্টি করে।

নখ কামড়ানো শুধু আঙুলকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না। মুখে থাকা লালা এবং নখের কোণে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া ক্ষুদ্র ক্ষতের মাধ্যমে সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে। এর ফলে প্যারোনিচিয়া বা নখের কোণে পুঁজ জমে যাওয়ার মতো সংক্রমণ দেখা দেয়। সংক্রমণ যদি হাড়ের গভীরে পৌঁছে যায়, তবে সেখানে গ্যাংগ্রিন বা পচন ধরার আশঙ্কা থাকে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে গেলে আক্রান্ত আঙুল কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না।

 JAGO

নখ কামড়ানোর মানসিক কারণ
প্রথমে বুঝতে হবে কেন আপনি এই অভ্যাস করছেন। এটি সাধারণত মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা অবসাদজনিত। নিয়মিত প্রাণায়াম, যোগব্যায়াম বা শরীরচর্চা করলে মন শান্ত থাকে এবং এই অভ্যাস কমতে পারে।

নখ কামড়ানো রোধ করার পদ্ধতি
নখ সবসময় ছোট করে ছেঁটে রাখুন। নখের ডগায় তিতা স্বাদের নিরাপদ কোনো প্রলেপ ব্যবহার করতে পারেন, যাতে মুখে দিলেই বিরক্তি বা অস্বস্তি আসে। প্রয়োজনে নিজের হাতে বা থেরাপিস্টের সাহায্যে এই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

যদি সমস্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে আঙুলের ক্ষতি রোধ করা সম্ভব এবং সংক্রমণের ভয়াও কমে যায়।

নখ কামড়ানো কেবল একটি ছোটবেলার অভ্যাস নয়; এটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। ডার্মাটোফেজিয়া দীর্ঘমেয়াদে আঙুলের নখ, ত্বক এবং শরীরের অন্যান্য অংশে স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তাই নিজের মানসিক কারণ খুঁজে বের করা, নখকে ছোট রাখা, নিরাপদ প্রলেপ ব্যবহার করা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: হেলথ লাইন, মেডিকেল নিউজ টুডে

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow