নজর কাড়ছে ‘বাংলার চেরি’ জারুল

প্রকৃতিতে ঋতুচক্রের আবর্তে এখন গ্রীষ্মকাল। কাঠফাটা রোদ আর তপ্ত নিশ্বাসের মাঝেও প্রকৃতি নিজেকে সাজাতে ভোলেনি। গ্রীষ্মের এই খরতাপে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রকৃতিতে প্রাণের স্পন্দন হয়ে ফুটেছে নয়নাভিরাম ‘জারুল’। বেগুনি রঙের এই ফুলের মায়াবী রূপ দেখে মনে হয়, যেন কোনো নিপুণ শিল্পী পরম মমতায় প্রকৃতিকে রাঙিয়ে দিয়েছেন। রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ থেকে শুরু করে আধুনিক কবি আহসান হাবিব, সবার লেখনীতেই জারুল পেয়েছে বিশেষ মর্যাদা। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় যেমন ফুটে উঠেছে ‘কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজলের’ রূপ, তেমনি আহসান হাবিবের ‘স্বদেশ’ কবিতায় জারুল গাছে দুটি হলুদ পাখির চিত্রকল্প বাঙালির আজন্ম চেনা। এই চিরচেনা জারুলই এখন ব্রাহ্মণপাড়ার গ্রাম-বাংলার পথপ্রান্তকে মোহনীয় করে তুলেছে। জারুলের বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa। ল্যাটিন শব্দ ‘লেজারস্ট্রমিয়া’র অর্থই হলো সুন্দর। ইংরেজিতে একে ‘প্রাইড অব ইন্ডিয়া’ বলা হলেও এর মুগ্ধকর সৌন্দর্যের কারণে একে ‘বাংলার চেরি’ বলা হয়। জারুল গাছের আদি নিবাস মূলত দক্ষিণ এশিয়া। এই গাছের কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও টেকসই, যা পানির নিচেও নষ্ট হয় না। গ্রীষ্মের শুরুতে ফো

নজর কাড়ছে ‘বাংলার চেরি’ জারুল

প্রকৃতিতে ঋতুচক্রের আবর্তে এখন গ্রীষ্মকাল। কাঠফাটা রোদ আর তপ্ত নিশ্বাসের মাঝেও প্রকৃতি নিজেকে সাজাতে ভোলেনি। গ্রীষ্মের এই খরতাপে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রকৃতিতে প্রাণের স্পন্দন হয়ে ফুটেছে নয়নাভিরাম ‘জারুল’। বেগুনি রঙের এই ফুলের মায়াবী রূপ দেখে মনে হয়, যেন কোনো নিপুণ শিল্পী পরম মমতায় প্রকৃতিকে রাঙিয়ে দিয়েছেন।

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ থেকে শুরু করে আধুনিক কবি আহসান হাবিব, সবার লেখনীতেই জারুল পেয়েছে বিশেষ মর্যাদা। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় যেমন ফুটে উঠেছে ‘কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজলের’ রূপ, তেমনি আহসান হাবিবের ‘স্বদেশ’ কবিতায় জারুল গাছে দুটি হলুদ পাখির চিত্রকল্প বাঙালির আজন্ম চেনা। এই চিরচেনা জারুলই এখন ব্রাহ্মণপাড়ার গ্রাম-বাংলার পথপ্রান্তকে মোহনীয় করে তুলেছে।

জারুলের বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa। ল্যাটিন শব্দ ‘লেজারস্ট্রমিয়া’র অর্থই হলো সুন্দর। ইংরেজিতে একে ‘প্রাইড অব ইন্ডিয়া’ বলা হলেও এর মুগ্ধকর সৌন্দর্যের কারণে একে ‘বাংলার চেরি’ বলা হয়। জারুল গাছের আদি নিবাস মূলত দক্ষিণ এশিয়া। এই গাছের কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও টেকসই, যা পানির নিচেও নষ্ট হয় না। গ্রীষ্মের শুরুতে ফোটা এই ফুলের রং গাঢ় বেগুনি হলেও কখনো কখনো তা সাদার কাছাকাছি আভা তৈরি করে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার ধার কিংবা বাড়ির আঙিনায় গুচ্ছ গুচ্ছ জারুল ফুল ফুটে আছে। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী, সবাই একবারের জন্য হলেও থমকে দাঁড়াচ্ছেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে। অনেকেই মুঠোফোনে ফ্রেমবন্দি করছেন এই নৈসর্গিক দৃশ্য। 

স্থানীয় শিক্ষার্থী তানজিলা ইবনে রহমান বলেন, প্রকৃতি আমাদের মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ সময় জারুলের মতো ফুলগুলো আমাদের চোখ ও মনকে প্রশান্তি দেয়। 

শুধু সৌন্দর্যই নয়, জারুলের রয়েছে অসাধারণ ভেষজ গুণ। 

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (ইউনানি) ডা. মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, জারুলের পাতা, মূল ও ফল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, কাশি, আমাশয় ও বাতের ব্যথার প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে দুঃখজনকভাবে দিন দিন এই গাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।

প্রবীণ শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন প্রজন্মকে প্রকৃতিপ্রেমী করে গড়ে তুলতে হলে জারুলের মতো দেশীয় গাছের চারা বেশি করে রোপণ করা প্রয়োজন। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি প্রকৃতির সৌন্দর্যও অটুট থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow