নজর কাড়ছে ব্যতিক্রমী বাঙ্গির বাজার 

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড। এ মৌসুমে স্ট্যান্ডটি নজরকাড়া এক ‘বাঙ্গির বাজারে’ পরিণত হয়। প্রতিদিন বিকেলে কৃষকদের উৎপাদিত ফরমালিনমুক্ত টাটকা বাঙ্গির ঘ্রাণ চারপাশে ছড়িয়ে যায়। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে বিষমুক্ত বাঙ্গি কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন এখানে। প্রতিদিন প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক অস্থায়ী এ বাজারে বাঙ্গি বিক্রি করেন। কয়েক বছর ধরে অস্থায়ী এই বাজারে বাঙ্গি বিক্রি করছেন বানিয়াজুরী ইউনিয়নের সোলধারা গ্রামের কৃষক সেন্টু মিয়া বলেন, ‘এ বাজারে আমাগো কোনো খাজনা দেওয়া লাগে না, ঝামেলাও কম। ক্ষেত থেইকা সরাসরি কাইটা নিয়া আসি। মানুষ জানে এখানকার বাঙ্গি টাটকা, তাই বিক্রিও ভালো হয়।’  একই গ্রামের আরেক কৃষক আলাল সিকদার বলেন, আকার ও মানভেদে প্রতিটি বাঙ্গি ২০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বেলে জাতের বাঙ্গির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ফলন এবার মোটামুটি ভালো। এই বাজারে কোনো ফরমালিন নাই, মানুষ নিশ্চিন্তে আমাগো কাছ থেইকা ফল কিনে বাড়ি ফেরে। পরিবারের জন্য বাঙ্গি কিনতে আসা ক্রেতা মো. সজীব মিয়া ১৮০ টাকা দিয়ে দ

নজর কাড়ছে ব্যতিক্রমী বাঙ্গির বাজার 
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড। এ মৌসুমে স্ট্যান্ডটি নজরকাড়া এক ‘বাঙ্গির বাজারে’ পরিণত হয়। প্রতিদিন বিকেলে কৃষকদের উৎপাদিত ফরমালিনমুক্ত টাটকা বাঙ্গির ঘ্রাণ চারপাশে ছড়িয়ে যায়। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে বিষমুক্ত বাঙ্গি কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন এখানে। প্রতিদিন প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক অস্থায়ী এ বাজারে বাঙ্গি বিক্রি করেন। কয়েক বছর ধরে অস্থায়ী এই বাজারে বাঙ্গি বিক্রি করছেন বানিয়াজুরী ইউনিয়নের সোলধারা গ্রামের কৃষক সেন্টু মিয়া বলেন, ‘এ বাজারে আমাগো কোনো খাজনা দেওয়া লাগে না, ঝামেলাও কম। ক্ষেত থেইকা সরাসরি কাইটা নিয়া আসি। মানুষ জানে এখানকার বাঙ্গি টাটকা, তাই বিক্রিও ভালো হয়।’  একই গ্রামের আরেক কৃষক আলাল সিকদার বলেন, আকার ও মানভেদে প্রতিটি বাঙ্গি ২০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বেলে জাতের বাঙ্গির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ফলন এবার মোটামুটি ভালো। এই বাজারে কোনো ফরমালিন নাই, মানুষ নিশ্চিন্তে আমাগো কাছ থেইকা ফল কিনে বাড়ি ফেরে। পরিবারের জন্য বাঙ্গি কিনতে আসা ক্রেতা মো. সজীব মিয়া ১৮০ টাকা দিয়ে দুটি বড় আকারের বাঙ্গি কিনেছেন। তৃপ্তির হাসি নিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর এই সময়ের অপেক্ষায় থাকি। মহাসড়কের পাশে হওয়াতে যাতায়াতের সময় সহজেই কেনা যায়। এখানে প্রান্তিক কৃষকরা নিজেরাই বিক্রেতা হওয়ায় ভেজালের ভয় থাকে না। ব্যতিক্রমী এই অস্থায়ী বাজার সম্পর্কে বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিলটু বলেন, মহাসড়কের পাশে এই বাঙ্গির বাজারটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এখানে কৃষকরা সরাসরি তাদের পণ্য বিক্রি করার সুযোগ পায় বলে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সবসময় কৃষকদের উৎসাহিত করি এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় খেয়াল রাখি। বাজারটি আরও সুশৃঙ্খল ও সম্প্রসারণের জন্য আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, মানিকগঞ্জের মাটি বাঙ্গি চাষের জন্য বেশ উপযোগী, বিশেষ করে চরাঞ্চল ও ঢালু জমিতে এর ফলন ভালো হয়। বানিয়াজুরীর এই অস্থায়ী বাজারটি প্রান্তিক কৃষকদের জন্য একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি যাতে তারা কোনো প্রকার ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার না করেই ফলন বাজারজাত করতে পারেন। বিষমুক্ত ও ফ্রেশ হওয়ায় এখানকার বাঙ্গির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow