নটর ডেম কলেজ রোভার স্কাউটদের প্রাণের স্পন্দন

সেবা আর ভ্রাতৃত্বের চিরন্তন দীক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে আরও একবার নস্টালজিয়ায় সিক্ত হলো নটর ডেম কলেজ প্রাঙ্গণ। কারও হাতে ধরা ছোট্ট সন্তান, কেউবা এসেছেন সপরিবারে—পুরানো ডেরায় যেন এক মহাউৎসব। পুরানো আর নতুনের মেলবন্ধনে এভাবেই আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে নটর ডেম কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের ইফতার মাহফিল। যেখানে ২০০০ ব্যাচ থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৭ ব্যাচ—সুদীর্ঘ ২৭টি প্রজন্মের রোভারদের উপস্থিতিতে অভূতপূর্ব এক সেতুবন্ধন রচিত হয়। সম্প্রতি (২৬ ফেব্রুয়ারি) কলেজ প্রাঙ্গণে ২০০০ ব্যাচ থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৭ ব্যাচের রোভার ও সহচরদের অংশগ্রহণে এই মিলনমেলা সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নটর ডেম কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও, সি.এস.সি.। আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজের ছাত্রপরিচালক ফাদার রবার্ট নক্রেক, সি.এস.সি. এবং ব্রায়েন ডি. রোজারিও। দেশের স্কাউটিং জগতের দিকপালদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্য পায়। এতে বাংলাদেশ স্কাউটসের বিভিন্ন পর্যায়ের এন.সি., ডি.এন.সি., রোভার অঞ্চলের যুগ্ম সম্পাদক ও ডি.আর.সি.-গণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঢাকা জেলার প্রাক্তন সম্পাদক, বর্তমান কম

নটর ডেম কলেজ রোভার স্কাউটদের প্রাণের স্পন্দন

সেবা আর ভ্রাতৃত্বের চিরন্তন দীক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে আরও একবার নস্টালজিয়ায় সিক্ত হলো নটর ডেম কলেজ প্রাঙ্গণ। কারও হাতে ধরা ছোট্ট সন্তান, কেউবা এসেছেন সপরিবারে—পুরানো ডেরায় যেন এক মহাউৎসব। পুরানো আর নতুনের মেলবন্ধনে এভাবেই আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে নটর ডেম কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের ইফতার মাহফিল। যেখানে ২০০০ ব্যাচ থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৭ ব্যাচ—সুদীর্ঘ ২৭টি প্রজন্মের রোভারদের উপস্থিতিতে অভূতপূর্ব এক সেতুবন্ধন রচিত হয়। সম্প্রতি (২৬ ফেব্রুয়ারি) কলেজ প্রাঙ্গণে ২০০০ ব্যাচ থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৭ ব্যাচের রোভার ও সহচরদের অংশগ্রহণে এই মিলনমেলা সম্পন্ন হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নটর ডেম কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও, সি.এস.সি.। আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজের ছাত্রপরিচালক ফাদার রবার্ট নক্রেক, সি.এস.সি. এবং ব্রায়েন ডি. রোজারিও।

দেশের স্কাউটিং জগতের দিকপালদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্য পায়। এতে বাংলাদেশ স্কাউটসের বিভিন্ন পর্যায়ের এন.সি., ডি.এন.সি., রোভার অঞ্চলের যুগ্ম সম্পাদক ও ডি.আর.সি.-গণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঢাকা জেলার প্রাক্তন সম্পাদক, বর্তমান কমিশনার এবং বেশ কয়েকজন প্রাক্তন সহকারী কমিশনারও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এদিন বিকেল থেকেই প্রাক্তন ও বর্তমান রোভারদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। দীর্ঘ ২৭ বছরের (২০০০-২০২৭ ব্যাচ) রোভারদের এই সম্মিলনে অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন। অনেক প্রাক্তন রোভার সপরিবারে অংশ নেওয়ায় অনুষ্ঠানটি শেষমেষ একটি পারিবারিক উৎসবে পরিণত হয়। প্রায় ২৫০ জন সদস্যের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইফতার মাহফিলটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় পরিচিতি পর্বের মাধ্যমে, যেখানে নবীন ও প্রবীণ রোভাররা একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন। পরিচিতি পর্বে যখন একে একে ২০০০ থেকে ২০২৭ ব্যাচ পর্যন্ত সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দিচ্ছিলেন, তখন গোটা হলের আবহে এক আবেগঘন নিস্তব্ধতা নেমে আসে। অনেক প্রাক্তন রোভার আবেগাপ্লুত হয়ে তাদের স্কাউটিং জীবনের রোমাঞ্চকর দিনগুলোর স্মৃতি চারণ করেন। ইফতারের আগ মুহূর্তে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

সবশেষে নটর ডেম কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক এবং কলেজের ক্রিড়া শিক্ষক শেখ আবু মোঃ নুরুল হুদা উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তিনি তাঁর সমাপনী বক্তব্যে সকলকে স্কাউটিংয়ের আদর্শ বুকে নিয়ে পথ চলার আহ্বান জানান। আনন্দ ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই ইফতার আয়োজন। এদিনের আয়োজনে সিনিয়র রোভার থেকে শুরু করে নবীন সহচরদের মাঝে যে প্রাণবন্ত আড্ডা আর কুশল বিনিময় চলেছে, তা প্রমাণ করে দেয়—নটর ডেম রোভাররা কেবল একটি সংগঠন নয়, বরং একটি পরিবার।

ইফতার শেষে সূর্যাস্তের আলো ম্লান হয়ে নামে রাত, তখনও ২৭টি ব্যাচের রোভারদের সবার চোখেমুখে একটিই প্রতিচ্ছবি—‘একবার যে স্কাউট, চিরকাল সে স্কাউট’। এই ইফতার মাহফিল কেবল খাবারের আয়োজন ছিল না, বরং তা ছিল হৃদয়ের টানে শেকড়ে ফেরার এক অনন্য মাহেন্দ্রক্ষণ।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow