জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ নামে নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করা হয়েছে। ছয় সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে নতুন সংগঠনের। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের স্লোগান ঠিক করা হয়েছে ‘শিক্ষা ঐক্য মুক্তি’।
নতুন এই ছাত্রসংগঠনের আহ্বায়ক করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু বাকের মজুমদারকে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন তিনি।
‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’-এর কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব করা হয়েছে জাহিদ আহসানকে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনিও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলের সম্পাদক।
সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৌহিদ সিয়ামকে। সিনিয়র সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন রিফাত রশীদ।
নতুন ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক করা হয়েছে তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরীকে। আর মুখপাত্রের দায়িত্ব পেয়েছেন আশরেফা খাতুন। তারা দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
এর আগে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে এ নতুন ছাত্র সংসদ আত্মপ্রকাশ করে।
এদিন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ও সদস্য সচিব হিসেবে সমন্বয়ক মহির আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক লিমন মাহমুদ, সিনিয়র সদস্য সচিব আল আমিন সরকার, মুখ্য সংগঠক হাসিব আল ইসলাম এবং মুখপাত্র হিসেবে রাফিয়া রেহনুমা হৃদি দায়িত্ব পেয়েছেন।
গত বছরের জুলাইয়ে কোটাবিরোধী ও পরে সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তাদের অব্যাহত আন্দোলনে নির্বিচার গুলির মুখেও দমেননি সংগঠনের শিক্ষার্থীরা। তাদের বিভিন্ন দাবির মুখে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। শেখ হাসিনা আশ্রয় নেন ভারতে।
সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের একটি অংশ নতুন একটি ছাত্র সংগঠনের গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা জানান, জুলাই-আগস্টে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা যুক্ত হয়েছিলেন। এখন সবাই নিজেদের সংগঠনে ফিরে গেছেন। এর বাইরে সাধারণ শিক্ষার্থী যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের নিয়েই নতুন সংগঠন করবেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে বেরিয়ে ছাত্র সংগঠন করার ঘোষণা দেন একাংশের ছাত্রনেতারা। তারা বলেন, নতুন সংগঠনটির মূল কাজ হবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করা।
ওই সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘বাংলাদেশের সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে স্বীকার করে এবং সাতচল্লিশ, বায়ান্ন, বাষট্টি, ছেষট্টি, আটষট্টি, উনসত্তর, একাত্তর, নব্বই এবং চব্বিশের সব গণআন্দোলন এবং ছাত্র-জনতার সংগ্রামী চেতনাকে ভিত্তি করে ছাত্র রাজনীতি আমরা সক্রিয় করব।’