নতুন বছরে ইসলামী ছাত্রনেতাদের ভাবনা-প্রত্যাশা

একটি উত্তাল সময় বুকে নিয়ে নতুন বছরে পা দিল লাল-সবুজের বাংলাদেশ। এ মুহূর্তে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় রাষ্ট্র সংস্কার, জাতীয় নির্বাচন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও শিক্ষাঙ্গনের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে নতুন করে ভাবনা। এই সন্ধিক্ষণে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা জমেছে অনেক। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন বছর ২০২৬ ঘিরে ইসলামী (রাজনৈতিক) ছাত্রসংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা তুলে ধরেছেন তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক প্রত্যাশার কথা। রাষ্ট্র সংস্কার থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা রোধ, ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠন ও আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির পুনরুদ্ধার—নতুন বছরে কী ভাবছেন তারা, সে কথাই উঠে এসেছে এই লেখায়। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আবু তালহা রায়হান জাহিদুল ইসলাম সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ২০২৬ আমাদের কাছে নিছক সময়ের আবর্তন নয়, এটি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রতি জাতির অঙ্গীকার বাস্তবায়নের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ ও জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এক দুঃসাহসিক অভিযাত্রার প্রারম্ভিকতা। এর চূড়ান্ত রূপ তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন গুম, খুন, নির্যাত

নতুন বছরে ইসলামী ছাত্রনেতাদের ভাবনা-প্রত্যাশা

একটি উত্তাল সময় বুকে নিয়ে নতুন বছরে পা দিল লাল-সবুজের বাংলাদেশ। এ মুহূর্তে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় রাষ্ট্র সংস্কার, জাতীয় নির্বাচন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও শিক্ষাঙ্গনের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে নতুন করে ভাবনা। এই সন্ধিক্ষণে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা জমেছে অনেক। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন বছর ২০২৬ ঘিরে ইসলামী (রাজনৈতিক) ছাত্রসংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা তুলে ধরেছেন তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক প্রত্যাশার কথা। রাষ্ট্র সংস্কার থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা রোধ, ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠন ও আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির পুনরুদ্ধার—নতুন বছরে কী ভাবছেন তারা, সে কথাই উঠে এসেছে এই লেখায়। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আবু তালহা রায়হান

জাহিদুল ইসলাম

সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

২০২৬ আমাদের কাছে নিছক সময়ের আবর্তন নয়, এটি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রতি জাতির অঙ্গীকার বাস্তবায়নের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ ও জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এক দুঃসাহসিক অভিযাত্রার প্রারম্ভিকতা। এর চূড়ান্ত রূপ তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন গুম, খুন, নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীর নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত এবং রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার হবে। ঘুণে ধরা এই সমাজের মূলোচ্ছেদ করে ইনসাফভিত্তিক এক মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে। মনে রাখতে হবে, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা কোনো রাজনৈতিক অনুগ্রহ নয়; বরং রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। আমরা চাই, সীমান্তে হত্যা বন্ধে দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান ও শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি, ফারাক্কা ও তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা আদায়। বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সচেতনতা ও মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা। বাকস্বাধীনতার নামে মিথ্যা অপপ্রচার ও সাইবার বুলিং বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও দলীয় লেজুড়বৃত্তিহীন সংবাদমাধ্যম আমরা দেখতে চাই। সর্বোপরি, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার আলোয় দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও বেকারত্বমুক্ত একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করা নতুন বছরে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।

মুনতাছির আহমাদ

কেন্দ্রীয় সভাপতি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ

২০২৬ সাল বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ছাত্ররাজনীতির নামে অপরাজনীতি চর্চা, শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা, দলদাসত্বের লেজুড়বৃত্তি ও স্বার্থান্বেষী রাজনীতির ফলে ছাত্রসমাজ তার স্বাভাবিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এর কারণে ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক ও মৌলিক ভিত্তি ক্রমশ উপেক্ষিত হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, ছাত্ররাজনীতির আদর্শিক দর্শন পুনরুদ্ধার এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

একজন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে নতুন বছরে আমার প্রত্যাশা হলো, ক্যাম্পাস হবে জ্ঞানচর্চা ও মতপ্রকাশের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। সহিংসতার সংস্কৃতি পরিহার করে নীতি, আদর্শ ও দায়বদ্ধতাভিত্তিক রাজনীতির চর্চা গড়ে উঠবে। কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক মূল্যবোধের আলোকে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার শিক্ষা ছাত্রসমাজকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনবে। একই সঙ্গে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ দাওয়াতি কার্যক্রম ও ন্যায়ের সংগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে এক নবজাগরণ সৃষ্টি করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

মুহাম্মদ রায়হান আলী

কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস

অতিক্রান্ত বছরের বিদায় ও নতুন বছরের আগমন কেবল সময়ের পরিবর্তন নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং আদর্শিক অঙ্গীকার নবায়নের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিশেষত ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় ছাত্রসমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা নতুন করে বিন্যস্ত হওয়া জরুরি। আমরা যে ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও সহাবস্থানের ছাত্ররাজনীতির স্বপ্ন দেখেছিলাম, বাস্তবে তার পূর্ণ প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি। শিক্ষাঙ্গনে নৈতিক অবক্ষয়, সহিংসতার আশঙ্কা, ভিন্নমত দমনের অপচেষ্টা ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্তের অভাব তরুণদের হতাশ করেছে। নতুন বছরে আমরা প্রত্যাশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে জ্ঞানচর্চা, যুক্তিবাদী বিতর্ক ও নিরাপদ মতপ্রকাশের উন্মুক্ত ক্ষেত্র। আমরা এমন ছাত্রসমাজ গড়ে তুলতে চাই, যারা নৈতিকতায় দৃঢ়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ। শহীদ আবরার ফাহাদ, জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ ও শরিফ ওসমান হাদিরা যে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন—নতুন বছরে সেই বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ই হোক আমাদের অঙ্গীকার। ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ‘নতুন সরকার নতুন দেশ, ইনসাফ ভিত্তিক বাংলাদেশ’—এটি আমাদের প্রত্যাশা।

আব্দুল আজিজ

কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস

গণঅভ্যুত্থানের প্রায় আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো রাষ্ট্র ও সমাজের মৌলিক সংকটগুলো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য, নৈতিক অবক্ষয়, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক আস্থাহীনতা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ আজ এক গভীর দিশাহীনতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এমন এক সময়ে আমরা নতুন বছরে প্রবেশ করছি, যখন মুসলিম বিশ্ব খেলাফত পতনের পর এক শতাব্দী পেরিয়েছে এবং দেশ আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের মুখোমুখি। এই প্রেক্ষাপটে ছাত্রসমাজের ভূমিকা কেবল প্রতিবাদী নয়, বরং রাষ্ট্রচিন্তায় দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গঠনের প্রশ্নে কেন্দ্রীয়। আমরা এমন ছাত্রনেতৃত্ব চাই, যারা রাষ্ট্রব্যবস্থা বোঝে, সংবিধান পাঠ করে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষণ করতে পারে এবং ইসলামী রাষ্ট্রচিন্তাকে যুক্তির ভাষায় উপস্থাপন করতে সক্ষম। শেষ কথা, নতুন বছর কোনো আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি এক কঠিন আত্মজিজ্ঞাসার সময়। শিক্ষা, নৈতিকতা, কর্মসংস্থান ও রাজনীতির সংকট থেকে উত্তরণ চাইলে কেবল ব্যক্তি বা দল পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। ছাত্রসমাজ যদি এই দায়িত্ব গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তবে ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণও ব্যর্থতায় পরিণত হবে।

রিদওয়ান মাযহারী

কেন্দ্রীয় সভাপতি, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ

নতুন বছরে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে ছাত্র রাজনীতির বার্তা বাহকদের করণীয় হিসেবে আমি দায়িত্ব ও নৈতিকতার বার্তা হিসেবে দুটি কথা বলতে চাই।

আমার মতে, ছাত্রসংগঠনের কাজ দুই শব্দে—পড়া এবং গড়া। পড়ার মধ্যে রয়েছে, দ্বীনি ও বিশ্বরাজনৈতিক জ্ঞান, সমসাময়িক সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞানসম্মত বোধ এবং প্রতিষ্ঠানগত কাঠামো বোঝা। অন্যদিকে গড়ার মধ্যে রয়েছে, চরিত্র, দক্ষতা ও আত্মিকতার উন্নয়ন। এটি অর্জন হয় অবিরাম ইনার স্ট্রাইভিং বা আত্মসংগ্রামের মাধ্যমে।

২০২৬ সালের মূল লক্ষ্য হিসেবে পড়া ও গড়াকে প্রধান কাজ হিসেবে গ্রহণ করতে চাই। তরুণ ও ছাত্রসমাজ যেন শিক্ষা, সততা, পরিশ্রম ও সৎ উদ্দেশ্যকে মূলমন্ত্র হিসেবে নিয়ে এগোতে পারে। পাশাপাশি, ছাত্রসংগঠনগুলো যেন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থদের কল্যাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখে। আশা করি, আমরা আল্লাহর সাহায্য ও দ্বীনের চেতনায় এগিয়ে চলব। সমাজে শান্তি, ন্যায় ও ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার পথে অটল থাকব ইনশাআল্লাহ। নববর্ষ আমাদের সবাইকে সৎপথ ও দ্বীনের খেদমতে নিবেদিত জীবনযাপনের দিকনির্দেশনা দিক।

বিএম আমীর জিহাদী

কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজ

নতুন বছর নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে। এটি শুধু ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন নয়; বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আত্মবিশ্লেষণ ও আত্মনির্দেশনার মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো তরুণ সমাজ। তাদের শক্তি, উদ্যম ও সৃজনশীলতাকে সঠিক দিকনির্দেশনা, শিক্ষা ও সুযোগের মাধ্যমে কাজে লাগানো গেলে ইনশাআল্লাহ দেশ একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় তরুণদের সক্রিয় ভূমিকাই এর প্রমাণ। আধুনিক শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে তারা দেশের মানবসম্পদকে শক্তিশালী করছে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দিচ্ছে—আলহামদুলিল্লাহ। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে দৈনিক কালবেলা এরই মধ্যে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা, গণমাধ্যম কেবল তথ্য বা বিনোদনের মাধ্যম না হয়ে জাতির নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দর্পণ হিসেবে কাজ করবে। একটি সচেতন, মানবিক ও দায়িত্বশীল মিডিয়া পরিবেশ গড়ে উঠুক, যা সমাজকে বিভ্রান্ত নয়, বরং আলোর পথে পরিচালিত করবে।

মুফতি জাকির বিল্লাহ

কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলন

নতুন বছর একজন ইসলামী ছাত্র নেতা হিসেবে আমার সামনে নতুন দায়িত্ব, নতুন চ্যালেঞ্জ ও নতুন প্রত্যাশার দ্বার খুলে দেয়। আমি বিশ্বাস করি, ইসলামী ছাত্র রাজনীতি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়; বরং এটি দ্বীন, নৈতিকতা ও সমাজ সংস্কারের এক মহান মাধ্যম। নতুন বছরে আমার প্রথম ভাবনা হলো, নিজেকে আরও বেশি তাকওয়াবান, সৎ ও আদর্শবান হিসেবে গড়ে তোলা—যেন আমার কথা ও কাজের মাঝে ইসলামের প্রতিফলন স্পষ্ট হয়। নতুন বছরে আমার আরেকটি প্রত্যাশা হলো, ছাত্রদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সাহসী কিন্তু শান্তিপূর্ণ ভূমিকা রাখা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব, তবে তা হবে শালীনতা ও ইসলামী আদবের মধ্যে থেকে। আমাদের দাবি, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান যে উদ্দেশ্য হয়েছিল, সে উদ্দেশ্যগুলো যেন অতি দ্রুতই বাস্তবায়ন হয়। শরিফ উসমান হাদি, আবরার ফাহাদ,আবু সাইদ, মুগ্ধসহ সব হত্যার বিচার দ্রুতই কার্যকর করতে হবে। এ দেশের ইসলামপন্থি দলগুলো একত্রিত হয়ে আগামীতে সুন্দর একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করবেন, এটা আমি আমাদের ইসলামী নেতৃবৃন্দের কাছে আশা রাখি। আল্লাহতায়ালা আমাদের ইখলাসের সঙ্গে কাজ করার তওফিক দান করুন।

খালেদ মাহমুদ

কেন্দ্রীয় সভাপতি, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ (অনিবন্ধিত অংশ)

ছাত্রসমাজের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা আমাদের অঙ্গীকারের একটি বড় অংশ। শিক্ষাঙ্গনে অন্যায়, দখলদারিত্ব ও ভয়ের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও নৈতিক অবস্থান—এটাই ছাত্র জমিয়তের পথ। নতুন বছরে আমরা চাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোক নিরাপদ, মানবিক ও নৈতিক চর্চার কেন্দ্র। যেখানে মতভেদ থাকবে, কিন্তু শালীনতা হারাবে না। বিশেষত চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, এটি নির্দিষ্টভাবে মূল্যায়ন করার মতো পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য গবেষণা বা চূড়ান্ত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত এখনো গড়ে ওঠেনি। তবে এটুকু বলা যায়, এই পরিবর্তনের পর নতুন বছর ঘিরে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নতুন করে ভাবনার সূচনা হয়েছে। আমরা মনে করি, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র ও সমাজে যে নৈতিক অবক্ষয় জমে উঠেছিল, নতুন বছর সেই সংকট কাটিয়ে ওঠার একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। ক্ষমতা, রাজনীতি কিংবা প্রশাসন—সব ক্ষেত্রেই নৈতিকতার প্রশ্নকে সামনে না আনলে কোনো পরিবর্তনই টেকসই হবে না। তাই নতুন বছরে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ কল্পনা করি, যেখানে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক জীবনে জবাবদিহি আবার গুরুত্ব পাবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow