‘নতুনরা আগামীতে সাহিত্যাঙ্গণে নেতৃত্ব দিতে পারে সে চেষ্টাই অব্যাহত থাকবে’
একপ্রকার পর্দার আড়ালে থেকে নিভৃতে সাহিত্যচর্চা করে চলেছেন আহমদ রাজু। যিনি একাধারে কবি, গল্পকার, উপন্যাসিক ও চিত্রশিল্পী। তার প্রতিটি গল্প- উপন্যাস জীবন ও বাস্তবতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। সাহিত্যচর্চা, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন কালবেলার বিশেষ প্রতিনিধি মৃধা আলাউদ্দিন। মৃধা : আপনার লেখালেখি কেমন চলছে? আগামী বইমেলার প্রস্তুতি কেমন? আহমদ রাজু : ওই যে বললাম- সংগঠনের প্রধান হলে যা হয়। সারাদিনতো আসলে সময় পাইনা। তবে চলছে বেশ। একসময় ছিল- প্রচুর লেখা বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতো। এখন আর ওভাবে পাঠাতে পারি না ঠিকই তবুও লেখালেখি কোনদিন থেমে থাকেনি। লিখে যাচ্ছি, কী হবে জানি না। আর বইমেলার প্রস্তুতি? বেশ ক’টি উপন্যস, গল্প আর কবিতার পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করে রেখেছি। ভালো প্রকাশনা সংস্থার সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে গ্রন্থ আকারে প্রকাশের। মৃধা : বৈশাখ কেমন কাটলো? আমি তো শুনেছি বাংলা নববর্ষের বিশাল আয়োজনে যুক্ত ছিলেন আপনি। আহমদ রাজু : যদি ব্যক্তি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন তবে বললো- অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছরটা অসাধারণ কেটেছে। আর যদি সামগ্রিকভাবে ধরি তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাত
একপ্রকার পর্দার আড়ালে থেকে নিভৃতে সাহিত্যচর্চা করে চলেছেন আহমদ রাজু। যিনি একাধারে কবি, গল্পকার, উপন্যাসিক ও চিত্রশিল্পী। তার প্রতিটি গল্প- উপন্যাস জীবন ও বাস্তবতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। সাহিত্যচর্চা, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন কালবেলার বিশেষ প্রতিনিধি মৃধা আলাউদ্দিন।
মৃধা : আপনার লেখালেখি কেমন চলছে? আগামী বইমেলার প্রস্তুতি কেমন?
আহমদ রাজু : ওই যে বললাম- সংগঠনের প্রধান হলে যা হয়। সারাদিনতো আসলে সময় পাইনা। তবে চলছে বেশ। একসময় ছিল- প্রচুর লেখা বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতো। এখন আর ওভাবে পাঠাতে পারি না ঠিকই তবুও লেখালেখি কোনদিন থেমে থাকেনি। লিখে যাচ্ছি, কী হবে জানি না। আর বইমেলার প্রস্তুতি? বেশ ক’টি উপন্যস, গল্প আর কবিতার পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করে রেখেছি। ভালো প্রকাশনা সংস্থার সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে গ্রন্থ আকারে প্রকাশের।
মৃধা : বৈশাখ কেমন কাটলো? আমি তো শুনেছি বাংলা নববর্ষের বিশাল আয়োজনে যুক্ত ছিলেন আপনি।
আহমদ রাজু : যদি ব্যক্তি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন তবে বললো- অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছরটা অসাধারণ কেটেছে। আর যদি সামগ্রিকভাবে ধরি তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাতো থাকবেই। আপনি বুকে হাত দিয়ে বলুনতো, আমরা সত্যিই কি বাঙালি হতে পেরেছি? প্রতিটি কথায়- চলনে বলনে বাঙলা তো মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে! সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা পক্ষ তো যারা বৈশাখ পালন করেন তাদের বিভিন্নভাবে ধুয়ে দিচ্ছেন। আমরা ভয়ে ভয়ে ছিলাম, কখন কী নির্দেশনা আসে; শেষপর্যন্ত সব অনুষ্ঠান ঠিকমতো সম্পন্ন করতে পারবো কি না! তবে সুখকর একটা ব্যাপার হলো- আমার প্রাণের সংগঠন, বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ বৈশাখের ৫ দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা সম্পন্ন করেছে অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণভাবে। সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিটি বিষয় ছিল বাঙলা ও বাঙালির সাথে ওতপ্রেতোভাবে জড়িত। কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা, র্যালি, ভাঁজপত্র প্রকাশ, দেয়ালিকা প্রকাশ, ক্যালেন্ডার বিতরণ, মিষ্টিমুখ আরো কত কী।
মৃধা : বৈশাখ উপলক্ষে ৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা সচরাচর চোখে পড়ে না। আপনারা এটা করার অনুপ্রেরণা পেলেন কীভাবে?
আহমদ রাজু : দেখুন, বৈশাখী উদ্যাপনের মূল আকর্ষণ শোভাযাত্রা। আর তা কিন্তু শুরু হয় যশোর থেকেই। এই যশোরের দেখাদেখি ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। সেই যশোরের সাহিত্য সংগঠন- বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ। তাহলে বুঝুন, বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদই পারে এমন অনুষ্ঠানযজ্ঞের নেতৃত্ব দিতে। যদিও নববর্ষ উদ্যাপনের জন্য একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করেছিলাম, তবুও সভাপতি হিসেবে সকল দায়ভার আমার ওপরেই বর্তায়।
মৃধা : ঠিক বুঝলাম না। এই ‘ভালো প্রকাশনা সংস্থার সদিচ্ছা’ বলতে কী বুঝাতে চাচ্ছেন? যদি একটু বুঝিয়ে বলতেন।
আহমদ রাজু : আপনি একটা ভালো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। ভালো প্রকাশনা সংস্থা বলতে আমি তাদের বুঝিয়েছি যারা লেখাকে গুরুত্ব দিয়ে বই প্রকাশ করেন- টাকার বিনিময়ে নয়। আমার সাথে এমনও হয়েছে- পান্ডুলিপি প্রতিযোগিতায় সেরা নির্বাচিত হয়েছে। মেইলে- মোবাইলে শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছি। ক’দিন পরে জিজ্ঞাসা করে- ‘আপনি কত কপি বই কিনতে পারবেন?’ কিংবা ‘প্রকাশনার খরচটা আপনাকেই বহন করতে হবে।’ আমি সানন্দে প্রত্যাখ্যান করেছি তাদের সমস্ত প্রস্তাব। বই প্রকাশ না হলেও এমন প্রকাশকের ধারের কাছেও থাকতে চাই না।
মৃধা : সাহিত্যের কোন মাধ্যমে কাজ করতে আপনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
আহমদ রাজু : সাহিত্যচর্চায় আমি সবার ওপরে রাখতে চাই রহস্য বিভাগটিকে। আমার প্রতিটা গল্প-উপন্যাসে কোন না কোনভাবে রহস্য এসেই যায়।
মৃধা : আপনি গল্প বেশি লেখেন। এর বিশেষ কারণ কী?
আহমদ রাজু : আপনি যথার্থ বলেছেন- আমি বরাবরই গল্প লিখি বেশি। গল্পে কেন জানি প্রাণ খুঁজে পাই অহর্নিশ। দু’এক দিনের মধ্যে একটা গল্প সৃষ্টি করা যায়। বিপরীত দিকে- একটা মানসম্মতত উপন্যাস লিখতে বছরের পর বছর কেটে যায়। সম্প্রতি একটি উপন্যাস লেখা শেষ করেছি। যেটা ১০/১২ বছর আগে লেখা শুরু করেছিলাম।
মৃধা : তবে কি আপনি বলতে চাচ্ছেন- গল্পে প্রাণ থাকে আর উপন্যাসে প্রাণ নেই?
আহমদ রাজু : না না, আমি তা বলছি না। আমার বক্তব্য হলো- গল্প অল্প সময়ে জীবন- জীবীকার একটা নির্দিষ্ট চিত্র যত সহজে আপনাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে সক্ষম, উপন্যাস সেটা পারে না। এর কারণ একটাই। উপন্যাস জীবনের খুটিনাটি, পার্থিব-অপার্থিব চিত্র বিস্তারিতভাবে তুলে আনে। এ কারণে উপন্যাসকে জীবনের বাহন বলা অত্যুক্তি হবে না।
মৃধা : আপনার কী কী বই প্রকাশিত হয়েছে? তার মধ্যে কোনটিকে আপনি বেশি গুরুত্ব দেন?
আহমদ রাজু : গল্পগ্রন্থ- মেঘবালিকা, ছায়াবতী, নীল ঠোঁটে ঘুম। উপন্যাস- নিঃশব্দের আঁধারে আলো, রূপা এখন একা। কবিতা- স্বপ্নচূড়। প্রতিটি বইয়ের স্বাদ আলাদা- চিত্রণ আলাদা। তার ভেতরে নিঃসন্দেহে ‘নীল ঠোঁটে ঘুম’ গল্প গ্রন্থটিকে আমি সবার উপরে রাখতে চাই। গল্পগুলিতে বরাবরের মতো সমাজের এমন কিছু চিত্র তুলে আনা হয়েছে যেখানে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, সংগতি-অসংগতি, জীবন-তৃষ্ণা, বিরহ- বোধ আবশ্যিক অনুসঙ্গ হয়ে ধরা দিয়েছে। প্রেমকে সম্মুখ সারিতে উপস্থাপন না করলেও গল্পের প্রতিটি পরতে পরতে মানব প্রেম অঙ্কন করার চেষ্টা করেছি। তবে দুর্বোধ্যতাকে আমি একেবারেই প্রশ্রয় দেইনা। এ গল্পগ্রন্থে মোট ২০টি গল্প স্থান পেয়েছে। যে গল্পগুলি অধিকাংশ দেশ-বিদেশের জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত।
মৃধা : সাহিত্য নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আহমদ রাজু : বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদকে সাংগঠনকিভাবে আরও মজবুত করতে চাই। তরুণ কবি-সাহিত্যিকেরা যেন আগামীতে সাহিত্যাঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়ে সুস্থ সাহিত্য- সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে পারে সে চেষ্টা অব্যহত থাকবে। তাছাড়া বাড়িতে আমার ছোট একটা লাইব্রেরি আছে। সেটাকে বৃদ্ধি করতে চাই। শুধু বৃদ্ধি বললে ভুল হবে, পাঠকের আনাগোনা হোক সেটাও চাই। অদুর ভবিষ্যতে কী হবে জানি না। কারণ চারিদিকে তাকিয়ে বই পড়া মানুষকে দেখতে পাই না। আগে একসময় যখন অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল, তখন মাঝে মধ্যে আলমারি থেকে বই হারিয়ে যেতো। (আমি একে চুরি বলবো না) তখন ভীষণ মন খারাপ হতো। যেহেতু নতুন বই কেনার সংগতি ছিল না তখন। আর এখন আলমারি থেকে বই হারিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা কেউ সেদিকে তাকিয়ে দেখে কি না সন্দেহ।
মৃধা : আপনার দৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত আপনার সবচেয়ে ভালো লেখা কোনটি?
আহমদ রাজু : সেটা আমি একেবারেই বলতে পারবো না। পাঠকই এর একমাত্র বিচারক। হয়তো এখনও তেমন কিছু লেখা হয়ে ওঠেনি। সবচেয়ে বড় কথা, কালের আঘাত সহ্য করে যে সাহিত্যকর্ম টিকে থাকবে সেটিই আশাকরি শ্রেষ্ঠ হবে। তবে সেদিন আমি থাকবো কিনা সন্দেহ।
মৃধা : আপনার সাহিত্যকর্ম নিয়ে আপনি কি সন্তুষ্ট?
আহমদ রাজু : নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট। আমার প্রতিটি লেখাই আমার সন্তানের মতো। তাদের আমি অত্যন্ত যত্ন করে তৈরি করি, আদর করি, ভালোবাসি। হাসি- কাদি। আর সন্তানের মুখ দেখে কোন বাবা-ই বা অসন্তুষ্ট হন? তাতে সন্তান কালো হোক- সাদা হোক, কিংবা অন্য কিছু।
মৃধা : সাহিত্যচর্চায় আপনি কোন লেখককে অনুসরণ করেন?
আহমদ রাজু : এভাবে ঠিক বলা সম্ভব নয়। তবে আমার অন্তরে রবি ঠাকুর বসবাস করেন সেই ছেলেবেলা থেকে। বিশেষ করে যেদিন আমি গান শুনতে শিখেছি।
মৃধা : সাহিত্যের সাথে সঙ্গীতের মেলবন্ধন আজন্ম। আপনি গান লেখার চেষ্টা করেছেন কি? আর কার গান শুনতে ভালোবাসেন?
আহমদ রাজু : ঐ যে বললাম, অন্তরে রবি ঠাকুরের বসবাস। বালকবেলা থেকে আজ পর্যন্ত রবীন্দ্রসঙ্গীত ছাড়া একটি দিন পার করেছি, মনে করতে পারি না। লেখাপড়া করতে বসলে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজতেই হবে।
মৃধা : আপনার ছেলেবেলার কোনো তিক্ত-মধুর স্মৃতি বলবেন?
আহমদ রাজু : আমি ক্লাস এইটে উঠার পরে সামনের বেঞ্চগুলি ফাঁকা থাকলেও বরাবরই পেছনের বেঞ্চে যেয়ে বসতাম। ক্লাস টিচার পাঠদান করতেন আর আমি আপন মনে ছবি আঁকতাম। পড়া জিজ্ঞাসা করলে আমি কোনদিন বলতে পারিনি। জানলেও হবে না বলতাম। স্যারও প্রথম প্রথম শাস্তি দিতেন। একদিন ইংরেজির তালেব স্যার লাইব্রেরিতে ডেকে আমার মুখোশ উন্মোচন করেন। সেদিনই স্কুলের প্রায় সকলে জানতে পারে আমি পড়াশুনা না করে খাতার পাতা ভরি ছবি এঁকে- কবিতা-গল্প লিখে। সেদিন শিক্ষকেরা হয়তো ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছিলেন। যেহেতু পড়া জিজ্ঞাসা করলে বলি না, বাড়ির কাজ কিছুই করে আসি না; সে কারণে তাঁরা সেদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমাকে আর পড়া জিজ্ঞাসা করবেন না, এমনকি মারবেনও না। তারপর থেকে কোন শিক্ষক কোনদিন কোন বিষয়ে পড়া জিজ্ঞাসা করেনি।
আর একটা কথা মনে পড়ছে। পাশের বাড়ির আলী হোসেন কাকা তার বাড়ির সামনে একটা কাঠের তৈরি দোকান দিয়েছেন। অল্প ক’দিনে সেই দোকানের অবস্থা খুবই শোচনীয় হয়ে যায়। তাকে নিয়ে একটি ছড়া লিখেছিলাম। কাকার কানে গিয়েছিল আমার ছড়া লেখার কথা। তিনিতো রেগে আগুন। মায়ের কাছে নালিশ করেন। কথাটা শোনার পর মা’র তো রাগ আর শেষই হয় না। মুরব্বী কাকাকে নিয়ে ছড়া-কবিতা লেখা! কী সব্বনেশে কথা! তিনি রাগ থামাতে আমাকে আচ্ছামত পিটিয়েছিলেন সেদিন। কোন কবিতা-ছড়া মুখস্ত না থাকলেও সেই ছড়া আমি আজও ভুলতে পারিনি।
মৃধা : দুঃখজনক বিষয়। যদি আপত্তি না থাকে সেই ছড়াটি একটু যদি বলতেন।
আহমদ রাজু : না না, আপত্তি থাকবে কেন। ছড়াটির কোন নাম ছিল না। ছড়াটি হলো-
চিক্ চিক্ করে কাদা
কোথাও নাই বালি,
এক ধারে পাট জাগ দিয়েছে
পাশের বাড়ির আলি।
বাড়িতে একটা দোকান ছিল
ছিল সেটা খালি,
বাকি সে বাড়িয়ে দিতো
বাকি কিছু চালি।
মৃধা : আপনি কোথায় বেড়ে উঠেছেন? আপনার ছেলেবেলার দিনগুলো কেমন ছিল?
আহমদ রাজু : যশোরের প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা। শৈশব- কৈশোরে কখনো কোনদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া, খেলাধুলা করা, দুষ্টুমি করা যেটা একেবারেই কোনদিন করিনি। এমনকি স্কুল-কলেজে আমার কোন বন্ধু তৈরি হয়নি- ছিল না। একা থাকতে ভালো লাগতো। ছবি আঁকা আর লেখালেখিতেই নিজেকে ব্যস্ত রাখতাম। জানিনা, সেদিন কোন লেখা লেখা হয়ে উঠতো কি না। ছবিগুলি ছবি হতো কি না।
লেখক পরিচিতি : আহমদ রাজু গল্পকার হলেও তিনি একাধারে কবি, উপন্যাসিক, চিত্রশিল্পী। শিক্ষায় হাতেখড়ি স্থানীয় জঙ্গলবাঁধাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। লেখালেখি শুরু ছেলেবেলায়। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছড়া, কবিতা, গান মোটকথা সাহিত্যের সব শাখাতেই পদার্পণ তার। দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকসহ স্থানীয় ও বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হচ্ছে নিয়মিত। ‘মেঘবালিকা’ তার প্রথম গল্পগ্রন্থ।
২০১৩ সালে ‘অরণি গল্প প্রতিযোগিতা’য় তার ‘মুকুট’ গল্প শ্রেষ্ঠ গল্পের পুরস্কার লাভ করে। তাছাড়া ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ান সংবাদপত্র ‘সুপ্রভাত সিডনি’ তাকে শ্রেষ্ঠ গল্প লেখক সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করে।
ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই সন্তান ওয়ায়েয কাব্য ও কিয়াস প্রাঙ্গণ’র জনক।
লেখক বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র ‘সুপ্রভাত সিডনি’র বিশেষ বিভাগীয় সম্পাদক, বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ, যশোরের সভাপতি ও সামাজিক সংস্থা আদর্শ মানুষ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
What's Your Reaction?