নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ দিন যাবত বহির্বিভাগ বন্ধ, চরম দুর্ভোগে রোগীরা

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা আলতাব আলী নামের এক রোগী বলেন, কার সাথে কার মারামারি হছে তা জেনে আমাদের কি লাভ। শতশত মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে ঘুরে যাচ্ছে তাদের কথা কেউ ভাবছেনা। স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে কাহালু উপজেলার দেব খন্দ গ্রামের রুবেল আহমেদের ১২ বছর বয়সী মেয়ে মারজানা খাতুন কীটনাশক পান করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বিকেল চারটার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সে সময় জরুরি বিভাগে দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক ডা. আতিক শাহরিয়ার। ওই রোগী দেখাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে চিকিৎসকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ বিষয়ে ডা. আতিক শাহরিয়া বলেন, বিষপানকারী মারজানাকে হাসপাতালে আনার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করেন এবং স্টমাক ওয়াশের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দায়িত্বর

নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ দিন যাবত বহির্বিভাগ বন্ধ, চরম দুর্ভোগে রোগীরা

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা আলতাব আলী নামের এক রোগী বলেন, কার সাথে কার মারামারি হছে তা জেনে আমাদের কি লাভ। শতশত মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে ঘুরে যাচ্ছে তাদের কথা কেউ ভাবছেনা।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে কাহালু উপজেলার দেব খন্দ গ্রামের রুবেল আহমেদের ১২ বছর বয়সী মেয়ে মারজানা খাতুন কীটনাশক পান করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বিকেল চারটার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সে সময় জরুরি বিভাগে দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক ডা. আতিক শাহরিয়ার। ওই রোগী দেখাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে চিকিৎসকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

এ বিষয়ে ডা. আতিক শাহরিয়া বলেন, বিষপানকারী মারজানাকে হাসপাতালে আনার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করেন এবং স্টমাক ওয়াশের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দায়িত্বরত কর্মীদের ডাকেন। তবে কর্মীরা আসতে কিছুটা দেরি হলে রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন এত বড় হাসপাতালে এ ধরনের ব্যবস্থা নেই কেন। এক পর্যায়ে তারা আমার ওপর চড়াও হন এবং মারধর করে।

তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক রোগীকে ছুঁয়ে পর্যন্ত দেখেনি। বারবার অনুরোধ করার পরও কোনো চিকিৎসা না দিয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর বগুড়ায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ড হয়েছে।

নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল বলেন, চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বহির্বিভাগের চিকিৎসকরা কাজ থেকে বিরত রয়েছেন। তবে জরুরি বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে রোগীদের চিকিৎসা সেবা চালু রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক ভাবে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ হয়নি।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. এস এম নূর-ই-শাদীদ বলেন, হাসপাতালে এসে চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলেছি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শুনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে হাসপাতালের বহির্বিভাগ কবে থেকে চালুহবে সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করতে পারেনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow