নবনিযুক্ত উপাচার্যের কর্মযজ্ঞে শাবিপ্রবি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর সফলভাবে এক মাস পূর্ণ করেছেন।  গত ২৩ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা বৃদ্ধি, টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে দূরদর্শিতার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। ফলে ক্যাম্পাসজুড়ে নতুন উদ্দীপনা ও নবজাগরণের সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বশীলতার পূর্ণ একমাসে উপাচার্যের প্রধান প্রধান উদ্যোগ ও কার্যক্রমের চিত্র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো- শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসন ও আবাসিক হলের মানোন্নয়ন দায়িত্ব নেওয়ার পরের দিনই উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিতে বিশেষ নজর দিয়েছেন। এতে ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো পরিদর্শনে যান এবং ২৬ মে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়ে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনেন। পাশাপাশি ঈদুল আজহা উপলক্ষে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ এক প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। এতে হলের শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তা প্রহরীদের জন্য প্রথমবারে

নবনিযুক্ত উপাচার্যের কর্মযজ্ঞে শাবিপ্রবি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর সফলভাবে এক মাস পূর্ণ করেছেন।  গত ২৩ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা বৃদ্ধি, টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে দূরদর্শিতার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। ফলে ক্যাম্পাসজুড়ে নতুন উদ্দীপনা ও নবজাগরণের সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বশীলতার পূর্ণ একমাসে উপাচার্যের প্রধান প্রধান উদ্যোগ ও কার্যক্রমের চিত্র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো- শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসন ও আবাসিক হলের মানোন্নয়ন দায়িত্ব নেওয়ার পরের দিনই উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিতে বিশেষ নজর দিয়েছেন। এতে ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো পরিদর্শনে যান এবং ২৬ মে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়ে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনেন। পাশাপাশি ঈদুল আজহা উপলক্ষে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ এক প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। এতে হলের শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তা প্রহরীদের জন্য প্রথমবারের মতো ২টি গরু জবাই করা হয়। পরে ১০ ও ১৬ জুন আকস্মিক হল পরিদর্শনে গিয়ে আবাসন ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি শাহপরাণ হলের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তিনি। অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ, কর্মশালা ও সেমিনার শাবিপ্রবির শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করণে এক মাসে একাধিক কর্মশালা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ১৪ জুন ‘ওবিই কারিকুলামে টিচিং-লার্নিং ও অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক কর্মশালা, ৮ জুন ‘অ্যাডভান্সড রিসার্চ মেথডোলজি’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া ১৬ জুন কর্মক্ষেত্র ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বন্ধকরণ প্রকল্প প্রোগ্রাম এবং সর্বশেষ ২২ জুন সৈয়দ মুজতবা আলীর জীবন ও সাহিত্যকর্ম বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শাবিপ্রবির ভাবমূর্তি এগিয়ে নিতে গত ১৭ জুন ‘ইন্টারন্যাশনাল সিম্পোজিয়াম অন কোস্ট, ক্লাইমেট এন্ড কমিউনিটি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অ্যাকাডেমিক সহযোগিতার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো ‘টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশীপ’ চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক কলাবরেশন ও বৈশ্বিক সুযোগ তৈরি নবনিযুক্ত উপাচার্যের সুযোগ্য নেতৃত্বে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়। এতে গত ৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে সম্পূর্ণ বিনা খরচে স্কলারশিপসহ শর্টটার্ম ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি করা হয়। এছাড়া গত ২৪ মে বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যা ভবিষ্যতে পারস্পরিক শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময়ের পথ সুগম করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। টেকসই অবকাঠামো ও অভ্যন্তরীণ সড়ক উন্নয়ন ক্যাম্পাসের ভৌত অবকাঠামোর টেকসই উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনে উপাচার্য সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেন। ফলে ২৬ মে প্রধান ফটকসহ এক কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে নিজেই পরিদর্শন করেন। এরপর ১৭ জুন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে কার্যকরী পদক্ষেপ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা আনয়নে উদ্যোগ শুরু করেন। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও জাতীয় দিবস উদযাপন প্রশাসনিক সমন্বয় ও গতিশীলতা আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করছেন উপাচার্য। এতে ২৫ মে শিক্ষক সমিতি ও সাস্টিয়ান ক্লাবের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। এরপর ৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দ ও গ্রেড-১ অধ্যাপকদের সঙ্গে এবং ১০ জুন সব বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ৮ জুন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এবং ১১ জুন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।  এছাড়াও, গত ১০ জুন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে উপাচার্যের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কুরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। ক্যাম্পাসে উৎসব ও আয়োজন গত এক মাসে শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ১৮ জুন একযোগে শাবিপ্রবির স্নাতক প্রথম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ জুন শাহজালাল ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা এবং একই দিনে সৈয়দ মুজতবা আলী হলে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা বিষয়ক আলোচনা সভা ও বিসিকের সহযোগিতায় ৫ দিনব্যাপী ‘উদ্যোক্তা উন্নয়ন’ প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হয়। ‘বায়েন্যানোসেন্স’ ল্যাবের উদ্বোধন মঙ্গলবার (২৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব এক্সিলেন্স ভবনে ‘বায়েন্যানোসেন্স’ ল্যাব উদ্বোধন করেন উপাচার্য খায়রুল ইসলাম। জীববিজ্ঞানের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে গবেষণায় এটি নতুন মাইলফলক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, হিট প্রকল্পের অধীন স্থাপিত এই মাইক্রো ফ্লইডিক বায়োসেন্সিং ল্যাবে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে রোগ বা ভাইরাস শনাক্তের প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা হবে। দায়িত্ব গ্রহণের সংক্ষিপ্ত এ সময়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলামের প্রশাসনিক সংস্কার, অ্যাকাডেমিক উন্নয়ন, ক্যাম্পাসকে আন্তর্জাতিকীকরণ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে গঠনে যে কর্মতৎপরত ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা শাবিপ্রবিকে নতুন এক দিগন্তের বার্তা দিচ্ছে। এতে শাবিপ্রবি একটি বিশ্বমানের গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পথকে আরও মসৃণ করবে বলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপাচার্যের হাতে নতুন স্বপ্ন ভুনছেন।  সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের। অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ সাধন, টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছি। আগামীতেও এ অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আমার উপর যে মহান দায়িত্ব দিয়েছেন তা যথাযথভাবে পালন করে যেতে চাই। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম ১৯৭৬ সালে বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার কেয়াড়ী পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ (উভয় পর্যায়ে ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি শিক্ষা জীবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিশেষ মেধাবৃত্তি, প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার এবং চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক অর্জন করেন তিনি।  অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক এমবিএ প্রোগ্রাম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ড. খায়রুল ইসলাম।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow