নরেন্দ্র মোদি কি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন?

17 hours ago 10

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস নাউ-এর লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডের মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন।’

ফ্যাক্টচেক রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, নরেন্দ্র মোদি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন দাবিতে টাইমস নাউ কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড প্রচার করেনি বরং গণমাধ্যমটির লোগো ব্যবহার করে ভুয়া এই দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে প্রচারিত পোস্টগুলোতে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস নাউ-এর লোগোর সূত্রে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ ও এক্স অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করে এমন কোনো ফটোকার্ডের অস্তিত্ব মেলেনি। গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটেও এ-সংক্রান্ত দাবিতে কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।

পরবর্তী অনুসন্ধানে দেশটির মূলধারার গণমাধ্যম ও নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি (বা তার দল বিজেপিও) তার রাজনীতি থেকে অবসরের তারিখ জানিয়ে প্রকাশ্যে এমন কোনো মন্তব্যও করার তথ্য মেলেনি।

ভারতীয় একাধিক ফ্যাক্টচেকারও রিউমর স্ক্যানারকে নিশ্চিত করেছেন, মোদি প্রকাশ্যে এমন কোনো মন্তব্য করেননি।

দাবিটির প্রেক্ষাপট নিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ৭৫ বছর বয়সে পা দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির রাজনীতির একটি রীতি হচ্ছে, দলটির রাজনীতিবিদরা কারও বয়স ৭৫ হলে অবসর নিতে হয়। এরই প্রেক্ষিতে ফটোকার্ডে মোদির জন্মদিনের আগের দিনের তারিখ উল্লেখ করে ভুয়া দাবিটি প্রচার হচ্ছে।

তবে এই সংক্রান্ত আলোচনার প্রেক্ষাপট হিসেবে আরেকটি ঘটনা সামনে এসেছে। সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদি নাগপুরে ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সদর দপ্তরে গিয়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরই বিরোধী জোটের শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত দাবি করেন, সংঘ চায় মোদি এবার অবসর নিন।

রাউত মুম্বাইতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সেপ্টেম্বরে অবসরের আবেদন লেখার জন্য সম্ভবত তিনি আরএসএস সদর দপ্তরে গেছিলেন। আমি যা জানি, গত ১০ থেকে ১১ বছরে মোদিজি কখনো আরএসএস সদর দপ্তরে যাননি। মোদিজি এটাই মোহন ভাগবতকে বলার জন্য গেছিলেন, টা টা, বাই বাই। আমি যাচ্ছি।

এরপরই এই নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতারা অবশ্য বলছেন, এ রকম কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সুতরাং, নরেন্দ্র মোদি ১৬ সেপ্টেম্বর রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন দাবিতে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস নাউ-এর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।

Read Entire Article