না ফেরার দেশে কিংবদন্তিতুল্য পপ তারকা বনি টাইলার

আশির দশকের বিশ্বখ্যাত গান ‘টোটাল ইক্লিপস অব দ্য হার্ট’ ও ‘হোল্ডিং আউট ফর আ হিরো’র কণ্ঠশিল্পী, ওয়েলশ পপ-রক তারকা বনি টাইলার আর নেই। বুধবার (৮ মে) (স্থানীয় সময়) পর্তুগালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। বৃহস্পতিবার (৯ মে) বনি টাইলারের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর পর্তুগালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানানো হয়েছে। জানা গেছে, গত মে মাসে পর্তুগালের ফারো শহরে জরুরি অন্ত্রের অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বনি টাইলার। অস্ত্রোপচারের পর তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়। সে সময় তার নির্ধারিত গ্রীষ্মকালীন কনসার্ট সফরও স্থগিত করা হয়েছিল। জুনে কোমা থেকে জেগে উঠলেও তার শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। দীর্ঘ সময় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। ১৯৫১ সালের ৮ জুন ওয়েলসের স্কিউয়েন

না ফেরার দেশে কিংবদন্তিতুল্য  পপ তারকা বনি টাইলার

আশির দশকের বিশ্বখ্যাত গান ‘টোটাল ইক্লিপস অব দ্য হার্ট’ ও ‘হোল্ডিং আউট ফর আ হিরো’র কণ্ঠশিল্পী, ওয়েলশ পপ-রক তারকা বনি টাইলার আর নেই। বুধবার (৮ মে) (স্থানীয় সময়) পর্তুগালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) বনি টাইলারের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর পর্তুগালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, গত মে মাসে পর্তুগালের ফারো শহরে জরুরি অন্ত্রের অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বনি টাইলার। অস্ত্রোপচারের পর তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়। সে সময় তার নির্ধারিত গ্রীষ্মকালীন কনসার্ট সফরও স্থগিত করা হয়েছিল।

জুনে কোমা থেকে জেগে উঠলেও তার শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। দীর্ঘ সময় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।

১৯৫১ সালের ৮ জুন ওয়েলসের স্কিউয়েনে গেইনর হপকিন্স নামে জন্মগ্রহণ করেন বনি টাইলার। পরে ট্যালেন্ট স্কাউট রজার বেলের হাত ধরে সংগীতজগতে তার যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭৭ সালে ‘লস্ট ইন ফ্রান্স’ গান এবং ‘দ্য ওয়ার্ল্ড স্টার্টস টুনাইট’ অ্যালবামের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।

ক্যারিয়ারের শুরুতেই স্বরযন্ত্রে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল তাকে। সেই অস্ত্রোপচারের পর তার কণ্ঠে যে স্বতন্ত্র কর্কশতা তৈরি হয়েছিল, সেটিই পরবর্তীতে তার পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়।

আশির দশকে প্রযোজক ও গীতিকার জিম স্টেইনম্যানের সঙ্গে কাজ শুরু করার পর বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পান বনি টাইলার। ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত ‘টোটাল ইক্লিপস অব দ্য হার্ট’ তাকে আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি এনে দেয়। গানটি যুক্তরাজ্যে সে সময়ের অন্যতম সর্বাধিক বিক্রীত সিঙ্গেল ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকায় টানা চার সপ্তাহ শীর্ষস্থান ধরে রাখে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের চার্টে এক নম্বরে ওঠা প্রথম ওয়েলশ শিল্পী হিসেবে ইতিহাস গড়েন তিনি।

পরের বছর ‘হোল্ডিং আউট ফর আ হিরো’ হলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘ফুটলুজ’র সাউন্ডট্র্যাকে স্থান পায়। এছাড়া ‘হিয়ার শি কামস’সহ আরও বেশ কয়েকটি গানও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

সংগীতজীবনে তিনবার গ্র্যামি পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন বনি টাইলার। ২০১৩ সালে ‘বিলিভ ইন মি’ গান নিয়ে ইউরোভিশন সং প্রতিযোগিতায় যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। ২০২১ সালে প্রকাশিত ‘দ্য বেস্ট ইজ ইয়েট টু কাম’ ছিল তার শেষ স্টুডিও অ্যালবাম। ২০২৩ সালে প্রকাশ করেন আত্মজীবনী ‘স্ট্রেইট ফ্রম দ্য হার্ট’। একই বছর সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (এমবিই)’ সম্মানে ভূষিত করা হয়।

ব্যক্তিজীবনে ১৯৭৩ সালে ব্যবসায়ী রবার্ট সুলিভানকে বিয়ে করেন বনি টাইলার। মৃত্যুর সময় স্বামীকে রেখে গেছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। তার মৃত্যুতে বিশ্ব সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এমএমএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow