নাইট শিফটের চাকরিতে শরীরে যেসব ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে
বর্তমানে নাইট শিফটে কাজ করেন, বিশেষ করে আইটি, কল সেন্টার, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টভিত্তিক পেশায় যুক্ত তাদের তো করতেই হয়। অনেকেই মনে করেন, রাত জেগে কাজ করলে শুধু ঘুমের সময়সূচি একটু এলোমেলো হয়। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি গভীর। বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও, শরীরের ভেতরে চলতে থাকে নীরব ক্ষয়। সাম্প্রতিক গবেষণা ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, নাইট শিফটে কাজ করা মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। গবেষণায় কী উঠে এসেছে একটি গবেষণায় একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন নাইট শিফট কর্মী এবং ৪৫ জন ডে শিফট কর্মীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। তাদের রক্তে শর্করা, হরমোন এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। ফলাফল ছিল উদ্বেগজনক। দেখা গেছে, নাইট শিফটে কাজ করা প্রায় ৭৭ শতাংশ কর্মী ইনসুলিন প্রতিরোধ সমস্যায় ভুগছেন, যা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই কর্মীদের গড় বয়স তুলনামূলক কম (প্রায় ২৮ বছর) এবং শরীরের ওজনও বেশি নয়। তবুও তাদের স্বাস্থ্য সূচক ডে শিফট কর্মীদের তুলনায় খারাপ। শরীরের ভেতরে কী পরিবর্তন ঘটে চিকিৎসকদের মতে, নাইট শিফটে কাজ করা ব্যক্তিরা বাইরে
বর্তমানে নাইট শিফটে কাজ করেন, বিশেষ করে আইটি, কল সেন্টার, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টভিত্তিক পেশায় যুক্ত তাদের তো করতেই হয়। অনেকেই মনে করেন, রাত জেগে কাজ করলে শুধু ঘুমের সময়সূচি একটু এলোমেলো হয়। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি গভীর। বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও, শরীরের ভেতরে চলতে থাকে নীরব ক্ষয়।
সাম্প্রতিক গবেষণা ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, নাইট শিফটে কাজ করা মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
গবেষণায় কী উঠে এসেছে
একটি গবেষণায় একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন নাইট শিফট কর্মী এবং ৪৫ জন ডে শিফট কর্মীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। তাদের রক্তে শর্করা, হরমোন এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। ফলাফল ছিল উদ্বেগজনক। দেখা গেছে, নাইট শিফটে কাজ করা প্রায় ৭৭ শতাংশ কর্মী ইনসুলিন প্রতিরোধ সমস্যায় ভুগছেন, যা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই কর্মীদের গড় বয়স তুলনামূলক কম (প্রায় ২৮ বছর) এবং শরীরের ওজনও বেশি নয়। তবুও তাদের স্বাস্থ্য সূচক ডে শিফট কর্মীদের তুলনায় খারাপ।
শরীরের ভেতরে কী পরিবর্তন ঘটে
চিকিৎসকদের মতে, নাইট শিফটে কাজ করা ব্যক্তিরা বাইরে থেকে সুস্থ ও ফিট মনে হলেও শরীরের ভেতরে বিপাকীয় সমস্যা তৈরি হতে থাকে। তাদের শরীরে ক্ষতিকর চর্বি (এলডিএল)বাড়ে এবং ভালো কোলেস্টেরল (এইচ ডিএল) কমে যায়। একই সঙ্গে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যেতে পারে, আর নারীদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। পাশাপাশি ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও দেখা দেয়, কারণ তারা সূর্যালোক কম পান।
জৈবিক ঘড়ির ব্যাঘাতই মূল কারণ
মানবদেহে একটি প্রাকৃতিক জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম রয়েছে, যা ঘুম, হরমোন নিঃসরণ এবং বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। স্বাভাবিকভাবে এই ঘড়ি দিন-রাতের চক্র অনুযায়ী কাজ করে। কিন্তু যখন কেউ রাতে জেগে কাজ করেন এবং দিনে ঘুমান, তখন এই প্রাকৃতিক ছন্দ ভেঙে যায়। ফলে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। এতে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না এবং কোষের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়।
হরমোন ও থাইরয়েডের ঝুঁকি
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নাইট শিফট কর্মীদের মধ্যে থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকি বেশি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। হরমোনের এই ভারসাম্যহীনতা ওজন বৃদ্ধি, ক্লান্তি, মানসিক চাপ এবং হজমের সমস্যার কারণ হতে পারে।
বাহ্যিক সুস্থতা সবকিছু নয়
চিকিৎসকদের মতে, শুধুমাত্র শরীরের ওজন বা বাহ্যিক চেহারা দেখে সুস্থতা বিচার করা বড় ভুল। অনেক নাইট শিফট কর্মী বাইরে থেকে একেবারে স্বাভাবিক দেখালেও তাদের শরীরের ভেতরে ধীরে ধীরে জটিলতা তৈরি হয়। এই ‘নীরব ক্ষতি’ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা বড় রোগে রূপ নিতে পারে।
কী করবেন নাইট শিফট কর্মীরা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা নিয়মিত নাইট শিফটে কাজ করেন, তাদের কিছু বিষয়ে বিশেষভাবে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল এবং হরমোনের মাত্রা। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার, এমনকি দিনে হলেও। ঘুমের পরিবেশ অন্ধকার ও শান্ত রাখা ভালো।
খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি। রাতের বেলায় ভারী ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
নাইট শিফটে কাজ করা অনেকের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও এর প্রভাবকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এটি শুধু ঘুমের সমস্যা নয়, বরং শরীরের গভীরে নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই সচেতনতা পারে সুস্থ রাখতে।
সূত্র: জি নিউজ, নিউজ মেটার
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?