হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত একটি প্রমোদতরিতে আটকে পড়া নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ বিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি চার্টার বিমানে করে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
শনিবার (০৯ মে) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন। ডাচ জাহাজ এমভি হন্ডিয়াসের কয়েকজন যাত্রী দেশে ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ছয়টি অঙ্গরাজ্য সম্ভাব্য সংক্রমণের নজরদারি শুরু করেছে। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) হান্টাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবকে ‘লেভেল-৩’ জরুরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে ঘোষণা করেছে। এটি দেশটির জরুরি সক্রিয়তার সর্বনিম্ন স্তর।
ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনস পরিচালিত বিলাসবহুল এই প্রমোদতরিটি গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। এটি আগামী ১০ মে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সিডিসি শুক্রবার জানিয়েছে, মার্কিন যাত্রীদের দেশে ফেরানোর জন্য ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে একটি বিশেষ দল পাঠানো হচ্ছে। তারা চার্টার বিমানে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসবে।
বিবিসি জানিয়েছে, আরেকটি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দল নেব্রাস্কায় যাবে। সেখানে যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে।
সিডিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, মার্কিন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো মার্কিন যাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা। যাত্রীদের মার্কিন সরকারের বিশেষ মেডিকেল রিপ্যাট্রিয়েশন ফ্লাইটে নেব্রাস্কার ওমাহার একটি বিমানঘাঁটিতে নেওয়া হবে। সেখান থেকে তাদের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা, ওমাহার কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে।
জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, বর্তমানে জাহাজটিতে ১৭ মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ অন্তত ছয়জন যাত্রীর ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। এর মধ্যে জর্জিয়ায় দুজন, টেক্সাসে দুজন, ভার্জিনিয়ায় একজন, অ্যারিজোনায় একজন এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও কয়েকজন রয়েছেন।
ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনস জানায়, ২৪ এপ্রিল ছয়জন মার্কিন নাগরিকসহ দুই ডজনের বেশি যাত্রী ব্রিটিশ ভূখণ্ড সেন্ট হেলেনায় জাহাজ থেকে নেমে যান। এ পর্যন্ত হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে আটটি ঘটনার মধ্যে পাঁচটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল শুক্রবার জানান, ওই ক্রুজ থেকে নামার পর হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত এক যাত্রীর সঙ্গে একই বিমানে ভ্রমণ করায় অঙ্গরাজ্যের দুই বাসিন্দা সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকতে পারেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বর্তমান প্রাদুর্ভাব কোভিড-১৯–এর মতো বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, এই ধরনের হান্টাভাইরাস মূলত ‘ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ সংস্পর্শে’ ছড়ায়। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, রোগটির সুপ্তিকাল ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। তাই আরও সংক্রমণ সামনে আসতে পারে।