নাটকে নাটকে একুশের উচ্চারণ
ফেব্রুয়ারির হিমেল হাওয়ায় যখন শহীদ মিনারে জমতে শুরু করে মানুষের ঢল, ঠিক তখনই টেলিভিশনের পর্দাতেও জেগে ওঠে ভাষার গল্প। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন চ্যানেল আয়োজন করেছে বিশেষ নাটক, টেলিফিল্ম ও একক নাট্যপ্রযোজনা। একুশ মানেই শুধু শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, এ দিনটি বাঙালীর আত্মপরিচয়ের গভীরতম জায়গায় নাড়া দেয়। সেই আবেগ, ইতিহাস ও বর্তমান প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে নির্মিত হয়েছে একাধিক নাটক। বাংলা ভাষার প্রতি বিদেশি মেয়ের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার গল্পে নির্মিত হয়েছে বিশেষ নাটক ‘সিদ্ধান্ত’। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভিতে) আজ রাত ৯টায় প্রচারিত হবে নাটকটি। কাজী আসাদের রচনায় নাটকটি প্রযোজনা করেছেন মামুন মাহমুদ। এতে অভিনয় করেছেন মাসুম বাশার, কাজী আসাদ, সালমান আরাফাত, তাবেদার ই রসুল চান্নু, এথেনা অধিকারী, জান্নাত-ই ফেরদৌসী তারা, কবির টুটুল, আরাফাত, আয়েশা, মৌসুমী ইকবাল, মাসুদ ও ইসমাইল হোসেন প্রমুখ। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আবু রায়হানের ছেলে আব্দুল মান্নান। আব্দুল মান্নানের দুই ছেলে আব্দুল হান্নান ও
ফেব্রুয়ারির হিমেল হাওয়ায় যখন শহীদ মিনারে জমতে শুরু করে মানুষের ঢল, ঠিক তখনই টেলিভিশনের পর্দাতেও জেগে ওঠে ভাষার গল্প। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন চ্যানেল আয়োজন করেছে বিশেষ নাটক, টেলিফিল্ম ও একক নাট্যপ্রযোজনা। একুশ মানেই শুধু শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, এ দিনটি বাঙালীর আত্মপরিচয়ের গভীরতম জায়গায় নাড়া দেয়। সেই আবেগ, ইতিহাস ও বর্তমান প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে নির্মিত হয়েছে একাধিক নাটক।
বাংলা ভাষার প্রতি বিদেশি মেয়ের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার গল্পে নির্মিত হয়েছে বিশেষ নাটক ‘সিদ্ধান্ত’। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভিতে) আজ রাত ৯টায় প্রচারিত হবে নাটকটি। কাজী আসাদের রচনায় নাটকটি প্রযোজনা করেছেন মামুন মাহমুদ। এতে অভিনয় করেছেন মাসুম বাশার, কাজী আসাদ, সালমান আরাফাত, তাবেদার ই রসুল চান্নু, এথেনা অধিকারী, জান্নাত-ই ফেরদৌসী তারা, কবির টুটুল, আরাফাত, আয়েশা, মৌসুমী ইকবাল, মাসুদ ও ইসমাইল হোসেন প্রমুখ। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আবু রায়হানের ছেলে আব্দুল মান্নান। আব্দুল মান্নানের দুই ছেলে আব্দুল হান্নান ও আব্দুর রহমান এবং মেয়ে রীমা রায়হান। হান্নান উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গিয়ে সেখানেই স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকে। এদিকে রহমান দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন। সুইডিশ নাগরিক এলিনা ব্রিটিশ ভারত বিভক্তি ও বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিষয়ে থিসিসের কাজে রহমানের সাহায্য চায়। এলিনাকে সাহায্য করতে গিয়ে তাদের পরস্পরের ভালো লেগে যায়। হান্নান স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে দেশে বেড়াতে আসে। কিন্তু হান্নানের ছেলে-মেয়েরা বিকৃত বাংলায় কথা বলে এবং বাংলা ভাষার প্রতি অনীহা দেখায়। ভাষা আন্দোলকারী একজনের পরবর্তী প্রজন্মের বাংলা ভাষার প্রতি অনাগ্রহ ও অবহেলা তার দাদা আব্দুল মান্নানকে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়। এ কষ্ট লাঘবের জন্য তিনি নাতি-নাতনিদেরকে বাংলা ভাষার জন্য মানুষের আত্মউৎসর্গ এবং মাতৃভাষার গুরুত বোঝানোর চেষ্টা করেন। বাবার উপদেশে হান্নানের বোধদয় হয়। তখন সে স্ত্রী-সন্তানসহ সুইডেনে ফিরে যাওয়া আপাতত স্থগিত রাখে। এদিকে এলিনা থিসিস শেষে দেশে ফিরে যাওয়ার আগে রহমানের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাসায় আসে। বিদেশি মেয়ের বাংলা ভাষার প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেখে রহমানের পরিবারের সবাই মুগ্ধ হয়। এলিনা জানায়, সে বাংলা ভাষার উপর আরো লেখা-পড়া করতে চায় ও বাংলাদেশে থেকে যেতে চায়। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকর কাহিনী।
এদিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে চ্যানেল আইয়ের জন্য নির্মিত হয়েছে বিশেষ নাটক ‘চিঠিওয়ালা’। এতেও একজন ভাষা সৈনিকের গল্প উঠে এসেছে। শফিকুর রহমান শান্তনুর রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন হারুন রশীদ। এতে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, আহসান হাবিব নাসিম, সুষমা সরকার প্রমুখ। চ্যানেল আইতে আজ রাত ৭.৫০ মিনিটে প্রচার হবে নাটকটি। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, ভাষা সৈনিক বাবার লেখা একটি পুরোনো চিঠি নিয়ে হাশেম চাচা আসেন অনিন্দদের বাড়িতে। যে চিঠিকে কেউ গুরুত্ব দেয় না, সেই চিঠিই ধীরে ধীরে বদলে দেয় অনিকের মন আর ভাষা নিয়ে তার ভাবনা। একটি চিঠিই অনিকের মতো মানুষকে তার শিকড় আর পরিচয়ের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে।
এছাড়াও দীপ্ত টিভিতে আজ রাত ১১টা ৩৫মিনিটে প্রচার হবে বিশেষ প্রামান্য চিত্র ‘আমি কি ভুলিতে পারি’। ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক এবং সুফিয়া আহমেদের ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে অনুপ্রানিত হয়ে আবদুল গাফফার চৌধুরীর কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ রচনা এবং বিশিষ্ট শিফাবিদ ডঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ২১ শে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে বিশ্লেষনাত্নক বক্তব্য নিয়ে এই আয়োজন।
দুরন্ত টিভি দিবসটি ঘিরে নানা আয়োজন রেখেছে। এরমধ্যে দুপুর ২টায় প্রচার হবে নাটক ‘ঝুটুম পাখির কথা’। ছোট্ট পিউর পাখি পোষার খুব শখ। বাসায় তার অনেক পাখি আছে। একটাই দুঃখ, পাখিদের ভাষা সে বোঝে না। তাই তার আবদারে মা-বাবা তাকে একটা টিয়া পাখি কিনে দেয়। বাড়ি ফিরে শুরু হয় টিয়াকে কথা শেখানোর প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা। কিন্তু বিপদ হলো, মানুষের মতো করে কথা বলতে পারে না টিয়া। কিন্তু পিউ চেষ্টা চালিয়ে যায়। এমনই এক মধুর গল্পে সাজানো হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিশেষ এ নাটক । নাটকটি রচনা করেছেন নূর সিদ্দিকী ও পরিচালনা করেছেন মনিরুল হোসেন শিপন। এতে অভিনয় করেছেন সাবিহা জামান, জিতু আহসান, সুষমা সরকার ও ঋদ্ধি।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মাছরাঙায় আর রাত ৮টায় প্রচার হবে বিশেষ নাটক ‘আমার বর্ণমালা’। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনেতা তারিক আনাম খান। সীমান্ত সজলের রচনা ও পরিচালনায় নাটকটি বিশেষভাবে টেলিভিশনে প্রচার হবে আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি)। নাটকটির গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ওহাব মাস্টারকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকাররা ওহাব মাস্টারের বাড়িতে আগুন দেয়। সেই বিভীষিকাময় রাতে শিশু ওহাবের হাতে একটি বর্ণমালার বই তুলে দিয়ে তার বাবা বলেছিলেন, ‘তুই আমার বর্ণমালা বাঁচা’। তখন বর্ণমালার বই হাতে ওহাব দৌড়ে বের হতে পারলেও তার বাবা-মা আগুনে পুড়ে মারা যায়। তারপর থেকে ওহাব তার বাবার দেওয়া ‘আমার বর্ণমালা’ বইকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব নেয়।গল্পের বাঁক বদল হয় যখন ওহাব মাস্টারের স্কুলে বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি মাধ্যম চালুর পরিকল্পনা করা হয়। মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান তিনি। তবে এর পরিণতি হয় অত্যন্ত করুণ। একুশে ফেব্রুয়ারির সকালে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে দেখতে পায় সেখানে পড়ে আছে ওহাব মাস্টারের নিথর দেহ।তারিক আনাম খানের পাশাপাশি এই নাটকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী হামিদসহ আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। ভাষা দিবসের বিশেষ আবহে নির্মিত এই নাটকটি দর্শকদের মনে দাগ কাটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্মাতারা বলছেন, কেবল অতীতের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা নয়, নাটকগুলোতে উঠে এসেছে ভাষার চর্চা, বিকৃতি, এবং ডিজিটাল যুগে বাংলার অবস্থানের প্রশ্ন। কোথাও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনের পুনর্নির্মাণ, কোথাও প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের ভাষা-সংকট, আবার কোথাও ব্যক্তিগত প্রেম ও সংগ্রামের ভেতর দিয়ে উঠে এসেছে একুশের চেতনা। বিনোদনের মোড়কে ইতিহাস ও সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে এবারের নাটকগুলো কতটা সফল হবে, তা দেখার অপেক্ষায় দর্শক। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, ভাষার প্রতি ভালোবাসাই হয়ে উঠেছে এই আয়োজনগুলোর প্রধান প্রেরণা।
What's Your Reaction?