নাটোরে পুলিশের বিরুদ্ধে চুরির মালামাল কেনার অভিযোগ, ধামাচাপার চেষ্টা
নাটোর জেলাজুড়ে মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে গভীর রাতে এক চোরকে ছেড়ে দিয়ে চুরি হওয়া একটি ফ্রিজ কেনার অভিযোগ উঠেছে নাটোরের সিংড়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে সাধারণ মানুষ চুরি-ছিনতাইয়ের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, সেখানে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চুরির মালামাল কেনার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।জানা যায়, নাটোরের সিংড়া পৌর এলাকার চাঁদপুর মহল্লার বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের মাদকাসক্ত ছোট ছেলে মাসুম আলী প্রায় দেড় মাস আগে তার বড় ভাই মুনছের আলীর বাসা থেকে একটি ফ্রিজসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে চুরি করা ফ্রিজ ও অন্যান্য মালামাল ভ্যানগাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় ভ্যানগাড়িটি আটক করেন সিংড়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) নজরুল ইসলাম। তবে এসময় অভিযুক্ত মাসুম পালিয়ে যায়।প্রত্যক্ষদর্শী
নাটোর জেলাজুড়ে মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে গভীর রাতে এক চোরকে ছেড়ে দিয়ে চুরি হওয়া একটি ফ্রিজ কেনার অভিযোগ উঠেছে নাটোরের সিংড়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে সাধারণ মানুষ চুরি-ছিনতাইয়ের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, সেখানে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চুরির মালামাল কেনার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
জানা যায়, নাটোরের সিংড়া পৌর এলাকার চাঁদপুর মহল্লার বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের মাদকাসক্ত ছোট ছেলে মাসুম আলী প্রায় দেড় মাস আগে তার বড় ভাই মুনছের আলীর বাসা থেকে একটি ফ্রিজসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে চুরি করা ফ্রিজ ও অন্যান্য মালামাল ভ্যানগাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় ভ্যানগাড়িটি আটক করেন সিংড়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) নজরুল ইসলাম। তবে এসময় অভিযুক্ত মাসুম পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সাজু আহমেদ ভুন্ডু ও আবু হানিফ জানান, মুনছের আলীর বাসা থেকে ফ্রিজসহ মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ দেখে পালিয়ে যায় মাসুম। পরে টহলরত এসআই নজরুল ইসলাম পথচারী দুইজনের সহযোগিতায় ফ্রিজ ও অন্যান্য মালামাল তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। তাদের দাবি, পরবর্তীতে অভিযুক্ত মাসুম সকালে নজরুল ইসলামের বাসায় গিয়ে চুরির ঘটনা স্বীকার করলে এসআই নজরুল ইসলাম ওই ফ্রিজটি ১১ হাজার ৫০০ টাকায় ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কিনে নেন।
এদিকে চুরির ঘটনা জানাজানি হলে চুরি যাওয়া মালামাল ফেরত পেতে থানায় হাজির হন মুনছের আলীর স্ত্রী ও স্বজনরা।
ভুক্তভোগী মুনছের আলী বলেন, আমার আপন ছোট ভাই আমার বাসা থেকে ফ্রিজ চুরি করেছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আমি থানায় গিয়ে চুরি হওয়া মালামাল ফেরতের জন্য অভিযোগ করি।
মুনছের আলীর মা মর্জিনা বেগম বলেন, ফ্রিজ চুরির পর সাজুর মাধ্যমে জানতে পারি পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ফ্রিজটি নিয়েছেন। পরে লোকজন ধরে টাকা দিয়ে ফ্রিজটি ফেরত নিতে হয়েছে। গত শনিবার (২৩ মে) সহকারী পুলিশ সুপার সিংড়া সার্কেল অফিসে আপোষ মিমাংসা শেষে ফ্রীজ ফেরৎ পেয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে গত শনিবার (২৩ মে) সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত একাধিকবার সিংড়া থানায় সরাসরি উপস্থিত থেকে এই প্রতিবেদক একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এসআই নজরুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর থেকেই তিনি নিজেকে আড়াল করে চলছেন এবং নিয়মিত থানায়ও আসছেন না।
তবে এ বিষয়ে সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি থানার ইনচার্জ। সংবাদ প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। নিউজ করলে পুলিশের বদনাম হবে, পুরো বাহিনীর বদনাম হবে। আপাতত ক্ষমা করেন।
অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি দ্রুত মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে ডেকে আপোষ করিয়ে দেন সিংড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নূর মোহাম্মদ আলী। তবে এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, মিডিয়ার সঙ্গে তিনি কথা বলেন না এবং এ বিষয়ে জানতে জেলা পুলিশের মুখপাত্র পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
এ বিষয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার জানান, এমন তথ্য পাওয়ার পর সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
What's Your Reaction?