ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় সাহু সিজদা বলা হয় কোনো কারণে ত্রুটিযুক্ত হয়ে পড়া নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ে শুধু ডান পাশে সালাম ফিরিয়ে দুটি অতিরিক্ত সিজদা করাকে। সাহু সিজদার পর আবার তাশাহহুদ পড়ে, দরুদ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে ডান ও বাম পাশে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়। সাহু সিজদার মাধ্যমে ওই ভুলগুলোর প্রতিবিধান হয় এবং নামাজ বিশুদ্ধ হয়ে যায়।
নামাজে মৌলিকভাবে ৫ ধরনের ভুল হলে সাহু সিজদা করতে হয়। সেগুলো হলো:
১. নামাজে কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে সাহু সিজদা করতে হয়। যেমন নামাজে দুই রাকাতের পর বসে তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব। কেউ যদি ভুল করে দুই রাকাতের পর না বসে, তাহলে সাহু সিজদা দিতে হয়।
২. কোনো ফরজ দুবার আদায় করলে সাহু সিজদা দিতে হয়। যেমন নামাজে প্রতি রুকুতে একবার রুকু ও দুইবার সিজদা করতে হয়, কেউ ভুল করে দুইবার রুকু করলে বা তিনবার সিজদা করলে সাহু সিজদা দিতে হবে।
৪. নামাজে কোনো ওয়াজিব পরিবর্তন করলে সাহু সিজদা দিতে হয়। যেমন জোহর ও আসরের নামাজে কেরাত আস্তে পড়া ওয়াজিব, কেউ যদি এই দুই ওয়াক্তের নামাজে কেরাত জোরে পড়ে, তাহলে সাহু সিজদা দিতে হয়।
৫. কোনো ফরজ বা ওয়াজিব আদায়ে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দেরি হলে সাহু সিজদা দিতে হয়। যেমন নামাজে তৃতীয় রাকাতের সিজদার পর কিয়াম করা বা দাঁড়ানো ওয়াজিব। কেউ যদি তৃতীয় রাকাতের সিজদার পর বসে থাকে এবং তিন তাসবিহ পড়তে যতটুকু সময় লাগে এর বেশি পরিমাণ সময় বসে থাকে তাহলে কিয়াম করতে দেরি হওয়ার কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়।
নামাজে এই ভুলগুলো হয়ে গেলে নামাজি যদি সাহু সিজদা দেয় তাহলে এর মাধ্যমে এই এই ভুলগুলোর প্রতিবিধান হয় এবং নামাজ বিশুদ্ধ হয়ে যায়। সাহু সিজদা আদায় না করলে ত্রুটিযুক্ত নামাজটি আবার পড়ে নেওয়া ওয়াজিব।
ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজের কোনো ওয়াজিব আমল ছেড়ে দিলে বা এসব ত্রুটি করলে সাহু সিজদার মাধ্যমে নামাজ শুদ্ধ হবে হবে না। বরং এজন্য গুনাহগার হতে হবে এবং ওই নামাজ পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব হবে।
ওএফএফ/জেআইএম