নারীর ইতিকাফের বিধি-বিধান
আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো ইতিকাফ। ইতিকাফ তিন প্রকার। এর মধ্যে রমজানের শেষ দশদিন ইতেকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদায়ে কেফায়া। এই ইতিকাফের বিধানটি মূলত পুরুষদের জন্য, যা মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত। এ ক্ষেত্রে কোনো মহল্লা বা এলাকা থেকে একজন পুরুষ ইতেকাফ করলে পুরো মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে এটি আদায় হয়ে যাবে। আর কেউ ইতেকাফ না করলে সবাই গোনাহগার হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/২১১, আদ্দুররুল মুখতার : ২/৪৪৪) তাহলে কি নারীরা ইতিকাফ করতে পারবেন না? ইতিকাফ শুধু পুরুষের জন্যই নয়; বরং শর্তসাপেক্ষে নারীরাও ইতিকাফ করতে পারবেন। হজরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুল (সা.) আজীবন রমজানের শেষ দশকগুলো ইতিকাফ করেছেন। তার ওফাতের পর তার স্ত্রীরাও ইতিকাফ করতেন।’ (আলফিয়্যাতুল হাদিস: ৫৪৬)। তবে নারীদের জন্য ইতিকাফ সুন্নত নয়; বরং মোস্তাহাব। কারণ, রাসুল (সা.) এর স্ত্রীরা ইতিকাফ পালনের জন্য তাঁর অনুমতি চেয়েছেন। এতে প্রমাণ হয়, ইতিকাফের জন্য অভিভাবকের অনুমতি নেওয়া জরুরি। (আলবানি, কিয়ামু রমজান : ২৯) কিন্তু কোনও নারীর স্বামী যদি এমন অসুস্থ বা অক্ষম হন যে তার নিবিড় শুশ্রূষার প্রয়োজন, তা
আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো ইতিকাফ। ইতিকাফ তিন প্রকার। এর মধ্যে রমজানের শেষ দশদিন ইতেকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদায়ে কেফায়া। এই ইতিকাফের বিধানটি মূলত পুরুষদের জন্য, যা মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত।
এ ক্ষেত্রে কোনো মহল্লা বা এলাকা থেকে একজন পুরুষ ইতেকাফ করলে পুরো মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে এটি আদায় হয়ে যাবে। আর কেউ ইতেকাফ না করলে সবাই গোনাহগার হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/২১১, আদ্দুররুল মুখতার : ২/৪৪৪)
তাহলে কি নারীরা ইতিকাফ করতে পারবেন না?
ইতিকাফ শুধু পুরুষের জন্যই নয়; বরং শর্তসাপেক্ষে নারীরাও ইতিকাফ করতে পারবেন। হজরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুল (সা.) আজীবন রমজানের শেষ দশকগুলো ইতিকাফ করেছেন। তার ওফাতের পর তার স্ত্রীরাও ইতিকাফ করতেন।’ (আলফিয়্যাতুল হাদিস: ৫৪৬)।
তবে নারীদের জন্য ইতিকাফ সুন্নত নয়; বরং মোস্তাহাব। কারণ, রাসুল (সা.) এর স্ত্রীরা ইতিকাফ পালনের জন্য তাঁর অনুমতি চেয়েছেন। এতে প্রমাণ হয়, ইতিকাফের জন্য অভিভাবকের অনুমতি নেওয়া জরুরি। (আলবানি, কিয়ামু রমজান : ২৯)
কিন্তু কোনও নারীর স্বামী যদি এমন অসুস্থ বা অক্ষম হন যে তার নিবিড় শুশ্রূষার প্রয়োজন, তাহলে তার ইতিকাফে বসা উচিত হবে না। কিংবা কারও ছোট ছোট সন্তান থাকলে যদি তাকে দেখার কেউ না থাকে, তবে তারও উচিৎ হবে না ইতিকাফে বসা। (আহকামে রমজান ও জাকাত : ৬৪)
তবে সবকিছু ঠিক থাকলে স্বামীর উচিৎ যুক্তিসংগত ও গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া স্ত্রীর ইতিকাফে বাধা না দেওয়া এবং তাকে ইতিকাফের সওয়াব থেকে বঞ্চিত না করা। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২৭৪)
আর কোনও নারী ইতিকাফ করতে চাইলে তার নিয়ম হলো, সে তার ঘরের মসজিদে (নিজ নামাজের জন্য নির্ধারিত কক্ষ বা জায়গায়) ইতিকাফ করবে। যদি আগ থেকে নামাজের জন্য জায়গা নির্ধারিত না থাকে, তাহলে একটি জায়গা নির্ধারণ করে নেবে এবং সেখানে ইতিকাফে বসবে। এ ক্ষেত্রে সে সুন্নত ইতিকাফের নিয়ত করলে সুন্নাত ইতিকাফের বিধিবিধান তার জন্যও প্রযোজ্য হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১১)
ইতিকাফ অবস্থায় নারীরা যা করতে পারবেন, যা পারবে না
ইতিকাফকারী নারী ইতিকাফের নির্ধারিত স্থান থেকে মানবিক প্রয়োজন ছাড়া বের হতে পারবেন না, তাহলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। খাবার পৌঁছে দেওয়ার লোক না থাকলে খাবার আনার জন্য বাইরে যেতে পারবেন। পানাহারও সেই নির্ধারিত স্থানেই করতে হবে। ( হেদায়া : ১/২৩০)
ইতিকাফের স্থান থেকে অন্যদের সাংসারিক কাজের নির্দেশনা দেওয়া যাবে। তবে বাইরে যাওয়া যাবে না। রান্নার লোক না থাকলে ইতেকাফের স্থানে বসে রান্না করা সম্ভব হলে করা যাবে (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ১৫/৩৩৪)। দরকার হলে সেখানে বাইরের কাউকে ডাকতে পারবেন, কথা বলতে পারবেন। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২৮২)
ইতিকাফ অবস্থায় স্বামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া যাবে না। তবে তিনি চাইলে পাশে থাকতে পারবেন (ফাতাওয়ায়ে শামি : ৩/৪৪২)। শিরক বা কুফরি কাজে লিপ্ত হলে এবং অজ্ঞান বা পাগল হয়ে গেলে বা মাতাল হয়ে পড়লে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে এবং ঋতুস্রাব শুরু হলে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে কিংবা গর্ভপাত হলে ইতিকাফ বহাল থাকবে না। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫০২)
What's Your Reaction?