নায়েগ্রার কাছে...

ছোটবেলায় বইয়ে পড়েছি নায়েগ্রা জলপ্রপাতের কথা। নায়েগ্রা জলপ্রপাত প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৌন্দর্য।  বারো হাজার বছর আগে নায়াগ্রার জলপ্রপাতের শুরু। নায়েগ্রার  খুব বিমোহিত করেছিলো। একটা জাহাজে করে জলপ্রপাতের কাছে যাওয়া। কাছ থেকে দেখা। আমেরিকার অংশ থেকে একটা আর কানাডা থেকে একটা জাহাজ  ছাড়ে। কেউ কারুর জল সীমা অতিক্রম করেনা।   দু'টো জলপ্রপাত থেকেই জলের ঝাপটা আসে। ঝিরঝির বৃষ্টির মতো ভিজিয়ে দেয়। জাহাজে ওঠার আগে সবাইকে দেয় একটা করে রেইন কোট। জলের রাশি পড়ছে চুলের বিনুনির মতো। লম্বা চুল যেন ঝুলে পরছে। আমি ছবি তুলিনি। ভিডিও করেছিলাম যতটা পারি। জলের গর্জন খুব কাজ থেকে শুনছিলাম। আবার বেশী কাছে জাহাজ ভিড়ে না। একটা নিরাপদ  দূরত্বে থেকে ঘুরে ফিরে আসে। নদীর উপর দিয়ে পাখি উড়ে যাচ্ছে। নদী চলতে চলতে হঠাৎ পড়ে গেছে পা ফসকে। নদী জানে না সেখানে একটা বিশাল খাদ আছে।  জলে যেমন  টেড  তেমনি হয় ফেনা। জলের ভেতর থেকে একটা গন্ধ নাকে ভেসে আসে। শুধু মনে হয় কোথা থেকে আসে এতো জলরাশি।      জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়েছিল যখন হিমবাহ গলে। সৃষ্টি হলো বিশাল মিঠা পানির পাঁচটা হ্রদ। যাদেরকে বলা হয় গ্রেট  লেকস। নায়েগ

নায়েগ্রার কাছে...

ছোটবেলায় বইয়ে পড়েছি নায়েগ্রা জলপ্রপাতের কথা। নায়েগ্রা জলপ্রপাত প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৌন্দর্য। 
বারো হাজার বছর আগে নায়াগ্রার জলপ্রপাতের শুরু।


নায়েগ্রার  খুব বিমোহিত করেছিলো। একটা জাহাজে করে জলপ্রপাতের কাছে যাওয়া। কাছ থেকে দেখা। আমেরিকার অংশ থেকে একটা আর কানাডা থেকে একটা জাহাজ  ছাড়ে। কেউ কারুর জল সীমা অতিক্রম করেনা।

 


দু'টো জলপ্রপাত থেকেই জলের ঝাপটা আসে। ঝিরঝির বৃষ্টির মতো ভিজিয়ে দেয়। জাহাজে ওঠার আগে সবাইকে দেয় একটা করে রেইন কোট। জলের রাশি পড়ছে চুলের বিনুনির মতো। লম্বা চুল যেন ঝুলে পরছে। আমি ছবি তুলিনি। ভিডিও করেছিলাম যতটা পারি। জলের গর্জন খুব কাজ থেকে শুনছিলাম। আবার বেশী কাছে জাহাজ ভিড়ে না। একটা নিরাপদ  দূরত্বে থেকে ঘুরে ফিরে আসে। নদীর উপর দিয়ে পাখি উড়ে যাচ্ছে। নদী চলতে চলতে হঠাৎ পড়ে গেছে পা ফসকে। নদী জানে না সেখানে একটা বিশাল খাদ আছে।  জলে যেমন  টেড  তেমনি হয় ফেনা। জলের ভেতর থেকে একটা গন্ধ নাকে ভেসে আসে। শুধু মনে হয় কোথা থেকে আসে এতো জলরাশি। 

 

 

জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়েছিল যখন হিমবাহ গলে। সৃষ্টি হলো বিশাল মিঠা পানির পাঁচটা হ্রদ। যাদেরকে বলা হয় গ্রেট  লেকস। নায়েগ্রার প্রবাহের উৎপত্তি দু’টো হ্রদ এরি লেক ও লেক অন্টারিও। ছুটতে ছুটতে এসে দু’দিকে ভাগ হয়ে খাড়া পাহাড়ের উপর দিয়ে পড়ে জলপ্রপাতের সৃষ্টি করেছে। নায়াগ্রা নদী প্রায় ৩৫ মাইল/ঘনটা বেগে প্রবাহিত হয়। নায়াগ্রায় দু’টো জলপ্রপাত রয়েছে, আমেরিকান অংশে ও কানাডিয়ার অংশে ঘোড়ার খুরাকৃতির জলপ্রপাত। জলপ্রপাতের পর হয়েছে নায়েগ্রা হ্রদ। সেখান থেকে নদী হয়ে মিশেছে আটলান্টিক সাগরে। নায়েগ্রা জলপ্রপাত দুইদেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমানায়। হ্রদের মাঝখান দিয়ে গেছে সীমানা।  দুই দেশ থেকেই নায়েগ্রা দেখা যায়। তবে কানাডার অংশ থেকে উপভোগ করা যায় সবচেয়ে বেশী। যুক্তরাষ্ট্র থেকে গাড়ি চালায়ে ব্রিজ পার হয়ে কানাডায় ঢুকে খুব দু’টো জলের প্রপাত দেখা যায় যদি ভিসা বা প্রয়োজনীয়  কাগজপত্র সাথে থাকে। 

 

 

কানাডায় গিয়েছিলাম ২০১৯ সালে। ১০ আগস্ট গিয়েছিলাম নায়েগ্রা দেখতে। গাড়ি থেকে নামতেই  দূর থেকে আসা পানির শব্দ শুনতে পেলাম। যত কাছে আসছি শব্দের তীব্রতা ততো বাড়ছে। অদ্ভুত এক অনুরণন মনের ভেতর। অবারিত জল রাশি ফুলে ফেঁপে পড়ছে নীচে। যেখানে পড়ে সেখানে তৈরি হয় অশ্ব খুরাকৃতির ভূমি। ভেসে যাচ্ছে বাতাসে বাষ্প হয়ে জলকণা, তার উপর পড়ছে পড়ন্ত সূর্যের আলো। জলপ্রপাতের সাথে আবার সাতটা রঙের রঙধনু।

তীর ঘেঁষে হেটে যাচ্ছি। তীরে শক্ত রেলিং। হাটতে হাটতে একদম কাছে চলে এসেছি। পানি ছুটে যাচ্ছে একটানা কলকল শব্দ তুলে। আছড়ে পড়ছে নীচে। সন্ধ্যার আলো আধারিতে অদ্ভুত এক অনুভূতি। মনে হলো হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখি পানি। 

 

 

সন্ধ্যায় নানা রঙের আলো জ্বলে একের পর এক। সেই 
আলোতে রঙিন হয়ে ওঠে জলপ্রপাতের ফেনিল জলরাশি। 

খুরাকৃতির জলপ্রপাতের উচ্চতা ১৮০ ফুট এবং প্রতি ৬ মিলিয়ন ঘনফুট পানির প্রপাত ঘটায়। কেবল কারে করে কানাডার অংশ থেকে নায়েগ্রা জলপ্রপাত দেখা যায়। ৭৭৫ ফুট উঁচু স্কাইলন টাওয়ারে উঠে নায়েগ্রাকে দেখা যায়। হেলিকপ্টারে চড়ে দেখা যায়। পাহাড়ের গা ঘেঁষে নেমে জল প্রপাত দেখা যায় কয়েক হাত দূর থেকে। ভিজে যেতে হয়। গায়ে রাখতে হয় রেইনকোট। 

 

 

আমার মেয়ে অণিমা  বললো,  প্রতি বছর এখানে ঝাঁপ দিয়ে মানুষ আত্মহত্যা করে গড়ে ৪০-৫০ জন। তাদের মধ্যে একজন দু'জন কে বাঁচানো যায়। এমন একজন বেঁচে গিয়ে বলেছিলো- তার মৃত্যু না হওয়ার জন্য সে খুশি।

বিশাল তরঙ্গ নায়েগ্রার। মন ভরে যায়। প্রকৃতির অনন্য এক সৃষ্টি ও বৈচিত্র্য। নায়েগ্রার জলের শব্দ এখনো কানে আসে।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow