নিউজিল্যান্ড ছাড়ছেন নাগরিকরা, তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীও
‘আমি কখনো ভাবিনি ওয়েলিংটনের বাইরে, বা নিউজিল্যান্ডের বাইরে কোথাও বাস করব। কিন্তু এখন আমাদের পরিবার অসহায়, কিছু করার নেই। স্থানান্তরের পর জীবনে নতুন অ্যাডভেঞ্চার আর স্বস্তি এসেছে।’ বলছিলেন ওয়েলিংটন থেকে মেলবোর্নে স্থানান্তরিত জাসিন্ডা থর্ন । পাঁচটি স্যুটকেস আর তাদের শিহ তজু কুকুর বাবলস নিয়ে থর্ন দম্পতি ও দুই সন্তান নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে চলে গেছেন। একই দামে তাদের নতুন বাড়ি আগেরটির চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ বড়। বাড়ির উঠোনে পড়ে থাকা টেডি বিয়ার, পাঠ্যবই, ক্যাম্পিং সামগ্রী আর স্বামীর ড্রাম কিট, সবকিছু মিলিয়ে ২০ বছরের স্মৃতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। সিএনএনের প্রতিবেদনে এমন কয়েকটি পরিবারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। নিউজিল্যান্ড দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ছবির মতো সুন্দর দেশ। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ যেসব দেশে যেতে চায়, তার তালিকায় এটি সবসময় উপরের দিকে থাকে। অস্থির বিশ্বে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে আসা ধনী আমেরিকানদের কাছেও এটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই দেশটিই এখন নিজের নাগরিকদের হারাচ্ছে রেকর্ড পরিমাণে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুসারে, গত চার বছরে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী
‘আমি কখনো ভাবিনি ওয়েলিংটনের বাইরে, বা নিউজিল্যান্ডের বাইরে কোথাও বাস করব। কিন্তু এখন আমাদের পরিবার অসহায়, কিছু করার নেই। স্থানান্তরের পর জীবনে নতুন অ্যাডভেঞ্চার আর স্বস্তি এসেছে।’ বলছিলেন ওয়েলিংটন থেকে মেলবোর্নে স্থানান্তরিত জাসিন্ডা থর্ন ।
পাঁচটি স্যুটকেস আর তাদের শিহ তজু কুকুর বাবলস নিয়ে থর্ন দম্পতি ও দুই সন্তান নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে চলে গেছেন। একই দামে তাদের নতুন বাড়ি আগেরটির চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ বড়। বাড়ির উঠোনে পড়ে থাকা টেডি বিয়ার, পাঠ্যবই, ক্যাম্পিং সামগ্রী আর স্বামীর ড্রাম কিট, সবকিছু মিলিয়ে ২০ বছরের স্মৃতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। সিএনএনের প্রতিবেদনে এমন কয়েকটি পরিবারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়।
নিউজিল্যান্ড দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ছবির মতো সুন্দর দেশ। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ যেসব দেশে যেতে চায়, তার তালিকায় এটি সবসময় উপরের দিকে থাকে। অস্থির বিশ্বে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে আসা ধনী আমেরিকানদের কাছেও এটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
কিন্তু এই দেশটিই এখন নিজের নাগরিকদের হারাচ্ছে রেকর্ড পরিমাণে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুসারে, গত চার বছরে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নিউজিল্যান্ডারদের অভিবাসন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাকরির বাজারের দুর্বলতাই এর মূল কারণ বলে জনসংখ্যাতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন।
এই প্রবণতার সাম্প্রতিকতম মুখ হয়ে উঠেছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। ৪৫ বছর বয়সী আরডার্ন ও তার পরিবার সম্প্রতি সিডনিতে চলে গেছেন। গত সপ্তাহে তার অফিস নিশ্চিত করেছে, তারা সিডনির উত্তরাঞ্চলের ধনী সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বাড়ি খুঁজছেন।
জাসিন্ডা থর্নের মতো অনেকেই বলছেন, নিউজিল্যান্ডে জীবনযাত্রার খরচ, বাসস্থানের সংকট এবং চাকরির অনিশ্চয়তা তাদের দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় একই আয়ে বড় বাড়ি, ভালো শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাচ্ছে বলে অনেকে সেখানে স্থানান্তরিত হচ্ছেন।
নিউজিল্যান্ড সরকার এখনো এই অভিবাসনের প্রবণতা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতি ও জনশক্তির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
What's Your Reaction?