নিজের দত্তক সন্তানকে জাকাত দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন: নিজের দত্তক বা পালক সন্তানকে জাকাত দেওয়া যাবে কি? উত্তর: ইসলামে দত্তক নেওয়া সন্তান বা পালিত সন্তান প্রকৃত সন্তান গণ্য হয় না। প্রকৃত সন্তানের কোনো বিধানও তার ব্যাপারে প্রযোজ্য হয় না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি তোমাদের মুখে ডাকা পুত্রদেরকে তোমাদের প্রকৃত পুত্র সাব্যস্ত করেননি। এটা তো তোমাদের মুখের কথামাত্র। (সুরা আহযাফ: ৪) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা শাওকানি রহ. বলেন, পালক পুত্রকে পুত্র বলা শুধুই মুখের কথা। বাস্তবে এর কোনো কার্যকারিতা নেই। যেমন কোনো নারী কোনো শিশুকে পালক হিসেবে নিলে ওই নারী ওই সন্তানের মা সাব্যস্ত হবে না এবং ওই ছেলেও এর ফলে বাস্তবিক পুত্র সাব্যস্ত হবে না। আর এ রকম ক্ষেত্রে মা ও ছেলের কোনো বিধানও প্রযোজ্য হবে না। (ফাতহুল কাদির: ৪/৩০১) তাই নিজের সন্তানকে জাকাত দেওয়া নিষিদ্ধ হলেও দত্তক নেওয়া সন্তানকে জাকাত দেওয়া নিষিদ্ধ নয়। দত্তক সন্তান যদি প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং দরিদ্র হয়, তাহলে তাকে জাকাত দেওয়া যাবে এবং জাকাতের টাকা থেকে তার ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা যাবে। আরও পড়ুন ইসলামে দত্তক সন্তান কি মা-বাবার সম্পত্তি পায়? দত্তক সন্তান যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়, তাহলে

নিজের দত্তক সন্তানকে জাকাত দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন: নিজের দত্তক বা পালক সন্তানকে জাকাত দেওয়া যাবে কি?

উত্তর: ইসলামে দত্তক নেওয়া সন্তান বা পালিত সন্তান প্রকৃত সন্তান গণ্য হয় না। প্রকৃত সন্তানের কোনো বিধানও তার ব্যাপারে প্রযোজ্য হয় না।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি তোমাদের মুখে ডাকা পুত্রদেরকে তোমাদের প্রকৃত পুত্র সাব্যস্ত করেননি। এটা তো তোমাদের মুখের কথামাত্র। (সুরা আহযাফ: ৪)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা শাওকানি রহ. বলেন, পালক পুত্রকে পুত্র বলা শুধুই মুখের কথা। বাস্তবে এর কোনো কার্যকারিতা নেই। যেমন কোনো নারী কোনো শিশুকে পালক হিসেবে নিলে ওই নারী ওই সন্তানের মা সাব্যস্ত হবে না এবং ওই ছেলেও এর ফলে বাস্তবিক পুত্র সাব্যস্ত হবে না। আর এ রকম ক্ষেত্রে মা ও ছেলের কোনো বিধানও প্রযোজ্য হবে না। (ফাতহুল কাদির: ৪/৩০১)

তাই নিজের সন্তানকে জাকাত দেওয়া নিষিদ্ধ হলেও দত্তক নেওয়া সন্তানকে জাকাত দেওয়া নিষিদ্ধ নয়।

দত্তক সন্তান যদি প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং দরিদ্র হয়, তাহলে তাকে জাকাত দেওয়া যাবে এবং জাকাতের টাকা থেকে তার ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা যাবে।

দত্তক সন্তান যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়, তাহলে দেখতে হবে তার প্রকৃত বাবা জাকাত গ্রহণ করার উপযুক্ত হওয়ার মত দরিদ্র কি না। প্রকৃত বাবা দরিদ্র হলে তাকে জাকাত দেওয়া যাবে এবং জাকাতের টাকায় তার ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা যাবে। প্রকৃত বাবা সম্পদশালী হলে তাকে জাকাত দেওয়া যাবে না বা জাকাতের টাকায় তার ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা যাবে না। কারণ অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে জাকাত দেওয়া তখনই জায়েজ হয়, যখন তার প্রকৃত বাবা দরিদ্র ও জাকাত গ্রহণ করার উপযুক্ত হয়।

উল্লেখ্য, ইসলাম এতিম, অসহায়, বা দরিদ্র শিশুদের সাহায্য করতে, তাদের দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করে। কোরআনে আল্লাহ বার বার এতিম শিশুদের সাহায্য করতে, আশ্রয় দিতে, স্নেহ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ যদি এতিম বা অসহায় কোনো শিশুকে আশ্রয় দেন, পালিত ছেলে বা মেয়ে হিসেবে গ্রহণ করেন, তা নিঃসন্দেহে অপরিসীম সওয়াবের কাজ। কিন্তু ইসলামের বিধান অনুযায়ী কারো পিতা মাতার পরিচয় বদলানো বৈধ নয়। পালিত হিসেবে নেওয়ার পর শিশুর আইডেন্টিটি বদলে প্রকৃত বাবা মায়ের পরিচয় গোপন করে শিশুটিকে নিজেদের সন্তান হিসেবে পরিচিত করা যাবে না। তাকে তাদের পালিত সন্তান হিসেবে পরিচিত করতে হবে।

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow