নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে এফডিসিতে বসানো হয়েছে খাবার হোটেল!
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে খাবার হোটেল ভাড়া দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিএফডিসির প্রধান প্রবেশ পথের বা দিকে কারওয়ান বাজার রেল গেইটের কাছের দেয়াল ভেঙে হোটেলটি করা হয়েছে। এর প্রবেশ মুখ রাস্তার দিকে। আর বাকি অংশ এফডিসির ভেতরে, যা কেপিআই’র নিয়ম লঙ্ঘন করে। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত কেউই ইজারার ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছেন না। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুমা রহমান তানি নিয়মবর্হিভূতভাবে এটি করেছেন । একইসঙ্গে এ বিষয়টি বিএফডিসির নিরাপত্তার জন্য হুমকি হবে আশঙ্কা করছেন চলচ্চিত্রের মানুষেরা। চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজকসহ প্রতিষ্ঠানটির অনেক কর্মকর্তা বিষয়টিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টিতে নিয়মের চেয়ে মানবিকতা প্রাধান্য পেয়েছে বলে দাবি করছেন এমডি মাসুমা রহমান তানি। তিনি বলেন, ‘এটি কালা ভুনার জন্য বিখ্যাত কালুর হোটেলকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তার আগের হোটেলটি কিছুদিন আগে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। ফলে সে আমাদের কাছে আবেদন করে। আমরা মানবিক কারণে তাকে এখানে হোটেল করার অনুমতি দিই।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে খাবার হোটেল ভাড়া দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিএফডিসির প্রধান প্রবেশ পথের বা দিকে কারওয়ান বাজার রেল গেইটের কাছের দেয়াল ভেঙে হোটেলটি করা হয়েছে। এর প্রবেশ মুখ রাস্তার দিকে। আর বাকি অংশ এফডিসির ভেতরে, যা কেপিআই’র নিয়ম লঙ্ঘন করে। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত কেউই ইজারার ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছেন না।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুমা রহমান তানি নিয়মবর্হিভূতভাবে এটি করেছেন । একইসঙ্গে এ বিষয়টি বিএফডিসির নিরাপত্তার জন্য হুমকি হবে আশঙ্কা করছেন চলচ্চিত্রের মানুষেরা। চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজকসহ প্রতিষ্ঠানটির অনেক কর্মকর্তা বিষয়টিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিষয়টিতে নিয়মের চেয়ে মানবিকতা প্রাধান্য পেয়েছে বলে দাবি করছেন এমডি মাসুমা রহমান তানি। তিনি বলেন, ‘এটি কালা ভুনার জন্য বিখ্যাত কালুর হোটেলকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তার আগের হোটেলটি কিছুদিন আগে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। ফলে সে আমাদের কাছে আবেদন করে। আমরা মানবিক কারণে তাকে এখানে হোটেল করার অনুমতি দিই।’
হোটেলটি হওয়ায় বিএফডিসির নিরাপত্তার কোনো হুমকি হয়নি বলেও মনে করেন এমডি। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো করে দেখেছি। এর ভেতর দিয়ে এফডিসিতে কোনোভাবে ঢোকা যায় না। বরং কারওয়ান বাজার সাইট দিয়ে অনেক বহিরাগত ও আজে বাজে লোক দেয়াল টপকে ভিতরে প্রবেশ করত। আমরা তাদেরকে বলেছি, তা দেখে রাখতে— যেহেতু এফডিসির নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা কম। এছাড়া আমরা তো এটি একদমই ফ্রি ভাড়া দিইনি। মাসিক একটা ভাড়া আসবে এর থেকে।’
তিনি দাবি করেন, কালুর হোটেল আগের জায়গা থেকে উচ্ছেদের শিকার হওয়ায় অনেক পরিচালক-প্রযোজক তাকে জানিয়েছিলেন, তারা শুটিংয়ে ঠিকঠাক খাবার পাচ্ছেন না। তাদের কথাও বিবেচনা করা হয়েছে, হোটেলটি ইজারার ক্ষেত্রে।
দেয়াল ভেঙে হোটেল করায় ক্ষুব্ধ পরিচালক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘এফডিসি একটি কেপিআইভুক্ত (key point installation) এলাকা। এটার নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে হোটেল করা দুঃখজনক। উনি যদি মানবিক কারণে অনুমতি দিয়েছেন বলেন, তাহলে আমি এটাকে বলব তার অজ্ঞতা। উনি হয়ত জানেনই না কেপিআই এলাকায় কী করা যায়, কী করা যায় না।’
এতে প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্যহানিও হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু। তিনি বলেন, ‘এটি এমনভাবে করা হয়েছে তা দেখতে ভালো লাগে না।’
আশি দশকের তারকা চিত্রনায়ক উজ্জ্বল বলেন, ‘বিষয়টি আমার কানে এসেছে। আমি এখনও সরাসরি দেখিনি। এটা হয়ে থাকলে দুঃখজনক। কারণ এটা তো নিয়ম লঙ্গন করা। আশা করি, বিষয়টা কর্তৃপক্ষ দেখবেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এফডিসির একজন বলেন, ‘মোটা অংকের টাকায় এটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে নিয়ম না মেনেই। শুরুতে চার লাখ টাকা নিয়েছে। প্রতি মাসেও টাকা নিবে। এছাড়া প্রতিদিন দুপুরে বিনামূল্যে কয়েক জনের খাবার নিচ্ছে। এই এমডিকে নিয়ে শুরু থেকেই বির্তক রয়েছে।’
এদিকে, এমডি মাসুমা তানিকে পলাতক ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করে তার সকল অপকর্মের প্রতিবাদে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এফডিসিতে জরুরি সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশন। তার অপসারণে একাট্টা হয়ে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানায় তারা। আর তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এফডিসির অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সিনেমা নির্মাণের সঙ্গে জড়িত অনেক নির্মাতা ও কলাকুশলী। বর্তমান এমডিকে অপসারণ করা না হলে তাকে এফডিসি থেকে যেকোনো মূল্যে বিতাড়িত করা হবে বলে জানান জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের নেতারা।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা তানিকে নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক। ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করে তার নিয়োগ প্রক্রিয়াও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তার অপসারণে বেশ কয়েকবার আন্দোলন করলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে পার পেয়ে যান তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, তানি প্রথমে স্বৈরাচারের দোসর ছিলেন, এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এনসিপির নেত্রী পরিচয় দেন। এনসিপির নেতাদের খুশি করতে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যেও নাচ গানের ব্যবস্থা করেন এবং এনসিপির প্রতীক শাপলা কলি এফডিসির ঝর্ণাস্পটের পানিতে ভাসান এবং ১২ ফেব্রুয়ারির পর মাসুমা তানি এখন বিএনপি সাজার চেষ্টা করছেন! এমনকি সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ঘনিষ্ট বলেও এফডিসিপাড়ায় চাউর রয়েছে।
What's Your Reaction?