নির্বাচন যেতেই তেলের দামে বড় লাফ, তোপের মুখে মোদী সরকার

ভারতের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই সাধারণ মানুষের পকেটে বড় কোপ দিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গসহ তিন রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের পরপরই দেশটিতে বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, মোদী সরকারের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে দেশটির সাধারণ মানুষকে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় শুক্রবার (১৫ মে) ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় পর দেশটিতে এক ধাক্কায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি তিন রুপি করে বাড়ানো হলো। ‘ভুল মোদী সরকারের, খেসারত দেবে জনগণ’ জ্বালানি তেলের এই নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধির পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) কড়া প্রতিক্রিয়া জানান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, ‘ভুল মোদী সরকারের, আর খেসারত দেবে জনগণ।’ মোদী সরকারের নীতিকে কটাক্ষ করে

নির্বাচন যেতেই তেলের দামে বড় লাফ, তোপের মুখে মোদী সরকার

ভারতের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই সাধারণ মানুষের পকেটে বড় কোপ দিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গসহ তিন রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের পরপরই দেশটিতে বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দেশটির বিরোধী দলগুলো।

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, মোদী সরকারের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে দেশটির সাধারণ মানুষকে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় শুক্রবার (১৫ মে) ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় পর দেশটিতে এক ধাক্কায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি তিন রুপি করে বাড়ানো হলো।

‘ভুল মোদী সরকারের, খেসারত দেবে জনগণ’

জ্বালানি তেলের এই নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধির পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) কড়া প্রতিক্রিয়া জানান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, ‘ভুল মোদী সরকারের, আর খেসারত দেবে জনগণ।’ মোদী সরকারের নীতিকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ‘তিন রুপির প্রাথমিক ধাক্কা তো চলেই এসেছে, বাকি উশুল কিস্তিতে কিস্তিতে করা হবে।’

আরও পড়ুন>>
মোদীর ইউটার্ন/ ভোটের আগে ‘সংকট নেই’, ভোটের পরে ‘মহাসংকট’
এক বছর সোনা কিনবেন না, বিদেশ যাবেন না, ঘরে বসে কাজ করুন: মোদী
তেল সংকটে গাড়িবহর ছোট করলেন মোদী, চলছেন মাত্র ২ গাড়ি নিয়ে
জ্বালানি সংকটেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিশ্চিন্ত যেসব দেশ

কংগ্রেসের আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা জয়রাম রমেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমছিল, তখন মোদী সরকার তার সুফল ভারতের সাধারণ ক্রেতাদের দেয়নি। তিনি বলেন, এখন প্রধানমন্ত্রীর ‘ভালো বন্ধু’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বেঁধেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে। আর ঠিক এই সময়ে রাজ্যের নির্বাচনগুলো শেষ হতেই পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো; যার আগে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছিল।

রমেশ সতর্ক করে বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে চলতি অর্থবছরে ভারতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ছয় শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এই মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করে সদ্য নির্বাচিত পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারকে নিশানা করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এখন যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে ‘দিল্লি-নিয়ন্ত্রিত’ সরকার গঠিত হয়েছে এবং কেন্দ্রের কাছ থেকে তহবিল আটকে রাখার কোনো ভয় নেই, তাহলে নতুন এই বিজেপি সরকার কি রাজ্যে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর থেকে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) কমাবে?

বামপন্থি দলগুলো অবিলম্বে এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই(এম)-এর পলিটব্যুরো এক বিবৃতিতে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত সাধারণ মানুষের ওপর আরও বড় বোঝা চাপিয়ে দেবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলোর ক্ষতি হচ্ছে—এমন দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে সিপিআই(এম)। দলটি তাদের বিবৃতিতে বলে, ‘আন্ডার-রিকভারি’ শব্দটাই আসলে একটি শুভংকরের ফাঁকি ও বিভ্রান্তিকর। এটি তেল কোম্পানিগুলোর কোনো প্রকৃত লোকসানকে বোঝায় না। বরং এটি একটি কাল্পনিক ঘাটতি, যা তারা আরও বেশি দামে তেল বিক্রি করে যে অতিরিক্ত মুনাফা করতে পারত, তা না পাওয়ার আক্ষেপ মাত্র।

দলটির অভিযোগ, পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই এতদিন কেন্দ্রীয় সরকার এই মূল্যবৃদ্ধি আটকে রেখেছিল।

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা দেশের প্রতিটি সাধারণ পরিবারের বাজেটে এসে লাগবে। তিনি বলেন, ‘জনগণকে যখন কৃচ্ছ্রসাধনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তখন মোদী সরকার করপোরেট মুনাফাখোরদের আড়াল করছে এবং নিজেদের ব্যর্থতার পুরো দায় জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দিচ্ছে।’

সূত্র: দ্য হিন্দু
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow