নির্বাচনী প্রচারের সময় বিক্ষোভকারীদের হামলার মুখে পড়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই। বুধবার (২৭ আগস্ট) বুয়েনস আইরেস প্রদেশের লোমাস দে জামোরা এলাকায় প্রচারণা চলাকালে বিক্ষোভকারীরা তার গাড়িবহরে পাথর ও বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন। ফলে নিরাপত্তারক্ষীরা তড়িঘড়ি করে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিলেই একটি খোলা পিকআপ ট্রাকের পেছনে দাঁড়িয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তার বোন ও চিফ অব স্টাফ কারিনা মিলেই ও নিরাপত্তা সদস্যরা। এ সময় জনতার একাংশ ‘মিলেই, চলে যাও’ বলে স্লোগান দিতে দিতে গাড়ির দিকে পাথর ছোড়েন। একটি পাথর গাড়ির হুডে আঘাত করে, আরও কয়েকটি বস্তু প্রেসিডেন্টের মাথার উপর দিয়ে ছুঁড়ে মারা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পিকআপটি দ্রুত গতিতে এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র মানুয়েল আদর্নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, বিরোধীদলীয় সমর্থকরাই প্রেসিডেন্টের কনভয়ে আক্রমণ চালিয়েছে। তবে কেউ আহত হননি।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর মিলেই এক টুইটে বোন ও এক কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করে লেখেন, জনগণ সমর্থন না করায় বিরোধীরা কী করবে, তা বুঝে উঠতে পারছে না। তাই তারা আবারও সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছে।
এসময় তিনি চলমান দুর্নীতি কেলেঙ্কারি নিয়েও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার প্রতিবন্ধী বিষয়ক সংস্থায় ঘুষ-কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে, যেখানে মিলেইয়ের বোন কারিনার নামও জড়িয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত অডিওতে সংস্থার প্রধান দিয়েগো স্পানগুয়েলোর কণ্ঠসদৃশ এক ব্যক্তিকে ঘুষের বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়, যেখানে কারিনার নামও উল্লেখ করা হয়।
গত সপ্তাহে মিলেই সরকার স্পানগুয়েলোকে বরখাস্ত করেছে। এ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট বলেন, স্পানগুয়েলোর সব কথা মিথ্যা। আমরা তাকে আদালতে নিয়ে যাব ও প্রমাণ করব যে তিনি মিথ্যাচার করেছেন।
এদিকে, প্রেসিডেন্টের কঠোর ‘কৃচ্ছ্রসাধন নীতি’ আর্জেন্টিনায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি সরকারি ব্যয় কেটে দিচ্ছেন, যা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক খাতে গভীর সংকট তৈরি করেছে। বিরোধীরা তার ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, আর মিলেই বিশ্বাস করেন এ পদক্ষেপে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে ও বাণিজ্যে গতি আসবে।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, মিলেইয়ের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বেড়েছে। আগস্টে তার নেতিবাচক ভাবমূর্তি ৫৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা জুনের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি।
আগামী ৭ সেপ্টেম্বর বুয়েনস আইরেস প্রদেশে স্থানীয় নির্বাচন ও ২৬ অক্টোবর জাতীয় মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ভোট মিলেইয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকেই তিনি নিজের ক্ষমতা বিস্তারের সুযোগ খুঁজছেন।
সূত্র: রয়টার্স
এসএএইচ