নির্ভরা
নির্ভরা বলেছিল আমাকে আকাশ দেখাবে- যেখানে চলে শুধু নীল আর নীলের রাজত্ব নেই কোন সীমা, কোন বাধা, কোন দাসত্ব সে উড়ে চলে ডানা মেলে দিক হতে দিগন্ত পুরা নভোটাই নাকি নির্ভরার বিচরণের খোরাক। নির্ভরা বলেছিল আমাকে মেঘ দেখাবে- সাদা মেঘ, কালো মেঘ, তুলা-ধুনা মেঘ সে নাকি মেঘের সাথে পাল্লা দিয়ে দৌড়ায় আকাশজুড়ে গোল্লাছুট খেলেই মন জোগায় বর্ণচ্ছটা হয়ে ছুটে চলে এক প্রান্ত হতে অন্ত। সে নাকি বিনা বাধায় সূর্যকে আলিঙ্গন করে দেয়াল হয়ে আকাশকে অন্ধকারে ঠেলে দেয় কখনো সাদা মেঘে উঁকি মারে সূর্যদীপ্ত মুখ নিয়ে কখনো ঘন মেঘে তার দামিনী চিৎকার নয়নদ্বয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে অভিমানী শরীরটা হালকা করে নেয়। নির্ভরা বলেছিল আমাকে সূর্য দেখাবে- থালাপতি সূর্য নাকি বিশ্বকে আলোকিত করে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তে বিচ্ছুরিত বিভিন্ন আভা রশ্মি তাঁর খুবই পছন্দ, সে দেখেছে ধরণীর বুকে সূর্যের আলোর বিভিন্ন অবয়ব ও বৈচিত্র্যতা। সে নাকি সূর্যের কক্ষপথ পরিক্রমন করেছে রবির নির্বাক চোখে চোখ রেখে কথা বলেছে প্রজ্জ্বলিত কিরণমালায় বেষ্টিত হয়ে তপ্ত হয়েছে কখনো হিমালয়ের তুষারাচ্ছন্ন পোষাক পরেও সূর্যের সম্মুখ দাড়িয়ে ঠান্ডায় কম্পিত হয়েছে সে নাকি সূর্যের
নির্ভরা বলেছিল আমাকে আকাশ দেখাবে-
যেখানে চলে শুধু নীল আর নীলের রাজত্ব
নেই কোন সীমা, কোন বাধা, কোন দাসত্ব
সে উড়ে চলে ডানা মেলে দিক হতে দিগন্ত
পুরা নভোটাই নাকি নির্ভরার বিচরণের খোরাক।
নির্ভরা বলেছিল আমাকে মেঘ দেখাবে-
সাদা মেঘ, কালো মেঘ, তুলা-ধুনা মেঘ
সে নাকি মেঘের সাথে পাল্লা দিয়ে দৌড়ায়
আকাশজুড়ে গোল্লাছুট খেলেই মন জোগায়
বর্ণচ্ছটা হয়ে ছুটে চলে এক প্রান্ত হতে অন্ত।
সে নাকি বিনা বাধায় সূর্যকে আলিঙ্গন করে
দেয়াল হয়ে আকাশকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়
কখনো সাদা মেঘে উঁকি মারে সূর্যদীপ্ত মুখ নিয়ে
কখনো ঘন মেঘে তার দামিনী চিৎকার নয়নদ্বয়ে
বৃষ্টি ঝরিয়ে অভিমানী শরীরটা হালকা করে নেয়।
নির্ভরা বলেছিল আমাকে সূর্য দেখাবে-
থালাপতি সূর্য নাকি বিশ্বকে আলোকিত করে
সূর্যোদয়-সূর্যাস্তে বিচ্ছুরিত বিভিন্ন আভা রশ্মি
তাঁর খুবই পছন্দ, সে দেখেছে ধরণীর বুকে
সূর্যের আলোর বিভিন্ন অবয়ব ও বৈচিত্র্যতা।
সে নাকি সূর্যের কক্ষপথ পরিক্রমন করেছে
রবির নির্বাক চোখে চোখ রেখে কথা বলেছে
প্রজ্জ্বলিত কিরণমালায় বেষ্টিত হয়ে তপ্ত হয়েছে
কখনো হিমালয়ের তুষারাচ্ছন্ন পোষাক পরেও
সূর্যের সম্মুখ দাড়িয়ে ঠান্ডায় কম্পিত হয়েছে
সে নাকি সূর্যের তিলক নিজ কপালে চড়িয়েছে।
নির্ভরা বলেছিল আমাকে চাঁদ দেখাবে-
নক্ষত্ররাজির সাথে একে একে পরিচয় করিয়ে দিবে
সে আমাকে গ্যালাক্সি, সৌরজগৎ আরো কতকিছু
অদূর ভিনগ্রহের সাথে তার সম্পর্কের কথা বলেছিল
আমি তাঁর প্রলাপ অট্টহাসি দিয়ে থামিয়েছিলাম।
চাঁদে নাকি টালির ঘরে তার বুড়ি দাদি থাকেন
সেখানে তিনি নির্ভরার প্রেমিকের আঙ্গুলে বিয়ের
আংটি পরিয়ে বাগদত্তা সম্পন্নের অপেক্ষায় আছেন।
নির্ভরা বলেছিল ধ্রুবতারা, শুকতারা, রোহিণী
সকল তারাই নাকি তার দু’চোখে দোদুল্যমান
সে চোখ বন্ধ করলেই তারাগুলি বিলীন হয়ে যায়।
নির্ভরা বলেছিল আমাকে পর্বত দেখাবে-
উঁচু-খাঁদি-খাঁড়া পাহাড় পৃথিবীতে যতই বিদ্যমান
সকল শৃঙ্গই নাকি তার মনান্তরের গহীনে মুহ্যমান।
সে চাইলে পলকেই এক চূড়া হতে অন্য চূড়ায়
আন্দিজ, রকি, আল্পস, ককেশাস পর্বতমালায়
মুহূর্তেই বিচরণ করতে পারে নির্দ্বিধা অবলীলায়।
সে আমাকে দেখাবে পাহাড়ের বুক চিরে বহমান
শীতল পানির জলপ্রপাত পাথরকে নিয়ে ধাবমান
তার দু’নয়নে যেন বিশাল স্রোতোস্বিনী প্রবাহমান
প্রতিটি পাপড়ি কণায় সকল ঝর্ণার নাকি অবস্থান।
সে এতটাই শীতল যে হিমালয়ের হিম বাতাস,
তুষার আর বরফে আচ্ছাদিত পর্বত কোন কিছুই
তার মনে প্রশান্তির শীতলতা দিতে পারে না।
নির্ভরা বলেছিল আমাকে সমুদ্র দেখাবে-
গভীর-অগভীর, নীল-সবুজ-ফিরোজা রত্নাকর,
মৃত-লাল-কালো কতই না সাগর-মহাসাগর।
সে একটি ক্ষুদ্র জলকণা যে কিনা সকল জলস্তরে
দ্রুত সময়ে মিশে নিজের রঙ পরিবর্তন করে।
প্রতিটি দ্বীপপুঞ্জে আছড়ে পড়া স্রোতের বুকে
লুটিয়ে থাকা বালুকণার ফাঁকেই তাঁর দীর্ঘশ্বাস।
সে আমাকে জল তরঙ্গের ছন্দে ডলফিনের পিঠে
ভাসিয়ে নিয়ে সাগর পেরিয়ে মহাসাগরের অতলে
মৎসকুমারী হয়ে প্রেমের অমলিন গল্প শোনাবে।
সমুদ্রের পানি তাঁর চোখের জলের মতই নোনা
সমুদ্রের জল প্রবাহ সংযুক্তির যত চ্যানেল-প্রণালী
এ সকল বিভাজনের একত্রিত রূপ তাঁর নেত্রনালী।
সমুদ্রের সাদা ফেনা তাঁর অভাবী প্রেমের নিঃসরন
সেখানকার কলকল ধ্বনি, গর্জনের গভীর অনুরণন
সবকিছুর মাঝেই জেগে ওঠে তাঁর প্রেমের আলাপন।
নির্ভরা বলেছিল আমাকে সুন্দরবন দেখাবে-
তাঁর শরীরে শিরা-উপশিরা আছে যে কয়টি
সুন্দরবনের আনাচে-কানাচে ঠিক সে কয়টি
ছোট-বড় নদী-নালা-খাল জালের মতো প্রবাহিত।
সেখানকার জলধারায় সুন্দরী গাছের স্রাব মিশ্রিত
কিন্তু নির্ভরার শিরায় ভালোবাসার রক্ত সঞ্চালিত।
বনের গাছপালা, প্রাণী ও পাখ-পাখালির মিলনে
স্নিগ্ধ নয়নাভিরাম যে জীবন্ত পরিবেশ সম্প্রসারিত
তাঁর হৃদয়ের একাংশ বন হতে বহুলাংশে মুখরিত।
বনের গাছ-গাছালি, ঘাস-লতা-গুল্ম, বৃক্ষরাজি
অক্সিজেন বিলিয়ে জীবক‚লকে বাঁচিয়ে রাখে
অথচ নির্ভরার নিঃসৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছাড়া
সেই বনও নাকি পূর্ণ নিশ্বাস নিতে পারে না।
বনে বিষাক্ত সাঁপ, মানুষখেকো হিংস্র প্রাণীর বাস
তবু জঙ্গল জীম, টারজান, মোগলিকেও হার মানিয়ে
সেই অরণ্য শাসন করেছে সে নিরঙ্কুশ স¤্রাজ্ঞী হয়ে।
নির্ভরা বলেছিলো আমাকে ফুল দেখাবে-
গোলাপ, জুঁই, রজনীগন্ধা, সূর্যমুখী, শাপলা
সব ফুলের কোমলতা, গঠন ও শিল্পকর্ম যেন
তাঁর শারিরীক সৌন্দর্যের কাছেই অবনত।
ফুলের নিজস্ব রং, বিমোহিত সুগন্ধ, স্নিগ্ধ সুবাস
সব মনোহারিতা যেন নির্ভরার কাছে নতজানু।
সে যেন নিজেই এক মৌমাছি, ফুলে ফুলে ঘুরে
মধু সংগ্রহ করে পরাগায়নের উৎসবে অংশ নেয়।
তাঁর শারিরীক উষ্ণতা, চোখের জলের স্নেহ ছাড়া
কোনো ফুলই নাকি পূর্ণ প্রস্ফুটিত হতে শেখে না।
নির্ভরা বলেছিলো আমাকে পাখি দেখাবে-
প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি বিচিত্র আকারের রঙিন পাখি
তাঁর ঘন চুলের বুননে বোনা হয়েছে পাখির রঙিন ডানা
নকশী আঁকা পালক তাঁর মায়াবি স্পর্শে তৈরি হয়েছে।
নির্ভরার নাকি পাখির মতোই বন-জঙ্গল, হাওড়-বাওড়,
পাহাড় আর মরুভুমি সকল ক্ষেত্রেই অবিরাম বিচরন।
তাঁর গুনগুন সুরেলা কন্ঠ চুরি করে পাখিরা গেয়ে যায়
ময়ূরের পেখমের সাথে এক অলৌকিক বন্ধন রয়েছে
সে একটুখানি হাসলেই নাকি ময়ূর পেখম মেলে নাচে।
নির্ভরাকে ডানা ছাড়া উড়তে দেখে উটপাখি, পেঙ্গুইন,
অস্ট্রিচ, পেঁচা তোতা পাখিদেরও উড়ার স্বপ্ন জাগে।
নির্ভরা বলেছিলো-
আমার মতো পাখিকে দেখার জন্য বিশ^বিদ্যালয়ের
সিনিয়র জুনিয়র সকলেই চলতি পথে থমকে যেত।
আমি তোমাকে এমন একটি ক্ষুদ্র পাখি দেখাবো
যা উড়তেও পারে আবার মানুষের সংগ পছন্দ করে
পেটফাটা রক্তের নেশায় নিরবে চারপাশ ঘুরঘুর করে
নির্ভরার কাছে স্ত্রী মশা একটি মানুষ হত্যাকারী পাখি।
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় পেশিগুলো সক্রিয় হওয়াতে
তেলাপোকাও পাখির রুপ ধারন করে উড়তে থাকে।
সে বলে, পুরুষ পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে
বর্ষাকালে বংশবিস্তার করার সময় পিঁপড়ার পাখা গজায়
ঝাঁক বেঁধে ওড়ে বিধায় পিপীলিকাকেও পাখি মনে হয়।
নির্ভরা বলেছিলো-
ডানা ছাড়াও বড়সড় ওজনের কিছু পাখি উড়তে পারে
মিসাইল, রকেট, টিয়ারশেল শব্দের আগেই উড়ে চলে।
ক্যাম্পাস হতে বের হতেই কখন যে টিয়ারশেল উড়ে
আমার কোলে এসে বসলো বুঝতেই পারলাম না।
পাখি হলে একটু ধরার, একটু ছোয়ার চেষ্টা করতাম
কিন্তু এমন ঠাস ঠাস বিকট পাখি আমি কখনো দেখিনি
দেখলে চিনলে হয়তো পরিচয় থাকলে দৌড়ে পালাতাম
এটির পেটে এত বিভৎস গ্যাস জমা ছিল বুঝতে পারিনি
চারিদিকে শুধু ঘন সাদা মেঘের রাজত্ব অনুভব করেছি।
চোখ ছিনিয়ে নেয়া পাখিটি মুহূর্তেই অন্ধকারে ঠেলে দিল
চোখ ফিরিয়ে দেয়া পাখি কি কখনো আমায় স্মরন করবে
যেকিনা পুনরায় আগের মতো আমার চোখে আলোকিত
লাল, নীল, সবুজ, হলুদ রঙের পরিচয় করিয়ে দিবে।
১৯ জুলাই ২০২৪
নির্ভরা সর্বশেষ পুলিশের হাতে ছোড়া টিয়ারশেল দেখেছিল।
What's Your Reaction?