নির্মাণ কাজ শেষ হলেও চালু হয়নি ঠাকুরগাঁওয়ের নেকমরদ বাজার, নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামো
২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শেষ হলেও ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ‘নেকমরদ বাজার’ ভবনটি এখনো চালু হয়নি। দোকান মালিকরা ব্যবসার কার্যক্রম শুরু না করায় ভবনটির অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার জন্য প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘকাল ধরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন ভবনের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যও পূরণ হচ্ছে না। প্রতি বছর রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ‘দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে এই বাজারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এলজিইডি ঠাকুরগাঁও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণ কাজ শেষ হলেও দুই বছর পার হয়ে গেলেও বাজারটি এখনো চালু হয়নি।প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ বাজার উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি ও অকৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের সুবিধা বাড়ানো, গ্রামীণ পর্যায়ে ব্যবসার পরিবেশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। নেকমরদ বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, তাঁ
২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শেষ হলেও ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ‘নেকমরদ বাজার’ ভবনটি এখনো চালু হয়নি। দোকান মালিকরা ব্যবসার কার্যক্রম শুরু না করায় ভবনটির অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার জন্য প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘকাল ধরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন ভবনের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যও পূরণ হচ্ছে না। প্রতি বছর রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ‘দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে এই বাজারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এলজিইডি ঠাকুরগাঁও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণ কাজ শেষ হলেও দুই বছর পার হয়ে গেলেও বাজারটি এখনো চালু হয়নি।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ বাজার উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি ও অকৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের সুবিধা বাড়ানো, গ্রামীণ পর্যায়ে ব্যবসার পরিবেশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। নেকমরদ বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, তাঁদের বাজারটি অনেক পুরোনো, তবে এর উন্নয়নে সরকারের তেমন নজর নেই। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এখান থেকে ধান-গম ও গবাদিপশু কিনে নিয়ে যান। প্রতি রোববার সাপ্তাহিক হাট বসে এবং অন্যান্য দিনেও দোকান খোলা থাকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নেকমরদ বাজারে চার শতাধিক এর বেশি দোকান রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী খোলা আকাশের নিচে অথবা খড়ের ঘর তৈরি করে দোকান সাজিয়ে বসেছেন। হাটের মাঝের দ্বিতল বাজার ভবনটি খালি পড়ে আছে। ভবনের নিচতলায় ৩৪টি দোকান রয়েছে, যেখানে সবজি, মাছ ও মাংসের দোকান বসার কথা ছিল। দোতলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ২৪টি দোকানঘর বরাদ্দের কথা থাকলেও, দীর্ঘদিন পরিচর্যার অভাবে ভবনটিতে ধুলোর আস্তরণ জমেছে এবং টাইলস নষ্ট হতে বসেছে। নিচতলায় এখন লোকজনের আড্ডা ও নেশার আসর বসে।
ভবনটির নিচতলায় শিশুদের পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসা আমপাতারি গ্রামের মো. বাবু জানান, বাজারটি দুই বছর ধরে পড়ে আছে। ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করলে তাঁদের বলা হয়েছে, ‘তোমরা দোকান নিয়ে বসো, পরে একটা ব্যবস্থা করা হবে।’ তবে কী ব্যবস্থা, সে বিষয়ে তাঁরা কিছু বলেননি। ভবানন্দপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, দোতলার একটি ঘর তাঁর স্ত্রী রাশিদা বেগমের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দোকানটিতে তিনি তৈরি পোশাক বিক্রি করবেন। দোকানের জন্য এক লাখ টাকা জামানত দিতে হয়েছে এবং মাসিক ভাড়া এক হাজার টাকা। নেকমরদ বাজারের ব্যবসায়ী জুয়েল বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে। তিনি লিজ বাতিল করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ঘরগুলো পুনরায় বরাদ্দ দিয়ে মার্কেটটি চালু করার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
রানীশংকৈল উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জানান, এলজিইডি বাজারটি বাস্তবায়ন করেছে এবং নির্মাণ শেষে উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে। এটি চালুর দায়িত্ব তাঁদের নয়। নেকমরদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, বাজারটিতে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তবে তাঁরা এখনো দোকান শুরু করেননি। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারটি চালু করার এবং যাঁরা দোকান শুরু করবেন না, তাঁদের নোটিশ দেওয়ার কথা জানান। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
What's Your Reaction?