নিয়ম ভঙের শাস্তি: চেলসিকে জরিমানা, ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়েছে চেলসি। লন্ডনের এই ক্লাবকে ১০.৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১৭৬ কোটি) জরিমানা করা হয়েছে এবং এক বছরের জন্য স্থগিত (সাসপেন্ডেড) ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্লাবটির একাডেমির ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ৯ মাসের ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই শাস্তি মূলত অতীতের আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা ২০২২ সালে ক্লাবটির মালিকানা পরিবর্তনের পর সামনে এসেছিল। মার্কিন ব্যবসায়ী টড বোহেলির নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম রোমান আব্রামোভিচ-এর কাছ থেকে ক্লাবটি অধিগ্রহণ করার পর এসব তথ্য প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে। তদন্তে জানা যায়, ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ক্লাব-সংশ্লিষ্ট তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে খেলোয়াড়, অনিবন্ধিত এজেন্ট এবং অন্যান্য পক্ষকে গোপন অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। এসব লেনদেন ক্লাবের আর্থিক প্রতিবেদনে সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব অর্থ যথাযথভাবে হিসাবভুক্ত করা হলেও ক্লাবটি লাভ-লোকসান ও টেকসই নীতিমালা (পিএসআর) ভঙ্গ করত না। ফলে চেলসি পয়েন্ট কাটা যাওয়ার মতো কঠোর শাস্তি থেকে রেহাই পেয়েছে। তদন্তে

নিয়ম ভঙের শাস্তি: চেলসিকে জরিমানা, ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়েছে চেলসি। লন্ডনের এই ক্লাবকে ১০.৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১৭৬ কোটি) জরিমানা করা হয়েছে এবং এক বছরের জন্য স্থগিত (সাসপেন্ডেড) ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্লাবটির একাডেমির ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ৯ মাসের ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এই শাস্তি মূলত অতীতের আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা ২০২২ সালে ক্লাবটির মালিকানা পরিবর্তনের পর সামনে এসেছিল। মার্কিন ব্যবসায়ী টড বোহেলির নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম রোমান আব্রামোভিচ-এর কাছ থেকে ক্লাবটি অধিগ্রহণ করার পর এসব তথ্য প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে।

তদন্তে জানা যায়, ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ক্লাব-সংশ্লিষ্ট তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে খেলোয়াড়, অনিবন্ধিত এজেন্ট এবং অন্যান্য পক্ষকে গোপন অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। এসব লেনদেন ক্লাবের আর্থিক প্রতিবেদনে সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

তবে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব অর্থ যথাযথভাবে হিসাবভুক্ত করা হলেও ক্লাবটি লাভ-লোকসান ও টেকসই নীতিমালা (পিএসআর) ভঙ্গ করত না। ফলে চেলসি পয়েন্ট কাটা যাওয়ার মতো কঠোর শাস্তি থেকে রেহাই পেয়েছে।

তদন্তে চেলসির সহযোগিতামূলক মনোভাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে। ক্লাবটি স্বেচ্ছায় তথ্য প্রকাশ, অনিয়ম স্বীকার এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করায় শাস্তি নির্ধারণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ক্লাব এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এক দশকেরও বেশি সময় আগের সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়ম স্বেচ্ছায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে এবং তদন্তে হাজার হাজার নথি সরবরাহ করেছে। এমনকি তৃতীয় পক্ষ থেকে পাওয়া নতুন তথ্যও দ্রুত প্রিমিয়ার লিগকে জানানো হয়েছে।

এদিকে ইংলিশ ফুটবল সংস্থা (এফএ) চেলসির বিরুদ্ধে আরও ৭৪টি আলাদা নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে, যেগুলোও একই সময়কার আর্থিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।

তদন্তে আরও উঠে আসে, সাবেক মালিক আব্রামোভিচ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কিছু অর্থ লেনদেন করা হয়, যা খেলোয়াড় ট্রান্সফারে সহায়তা করেছিল। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য কয়েকজন ফুটবলারের নাম রয়েছে, যেমন ইডেন হ্যাজার্ড, স্যামুয়েল ইতো এবং উইলিয়ান।

প্রিমিয়ার লিগের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব লেনদেন ক্লাবের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের জ্ঞাতসারে এবং অনুমোদনেই হয়েছিল, কিন্তু তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

সব মিলিয়ে, বড় ধরনের শাস্তি এড়ালেও আর্থিক অনিয়মের দায়ে চেলসিকে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছে, যা ক্লাবটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow