গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন বানচাল করার জন্য এ ধরনের হামলা আরও হতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে নগরীর চর চাক্তাই নয়া মসজিদ সংলগ্ন আমীর ফোরকানিয়া মাদরাসা মাঠে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯নং দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের দুস্থদের মাঝে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র শাহাদাত বলেন, গতকাল আমরা দেখেছি ভিপি নুরের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য এ রকম হামলা আরও হতে পারে। তাই সবাই সাবধান থাকবেন। ষড়যন্ত্র যেন দানা বেঁধে না ওঠে সেজন্য আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এমন কোনো কাজ করা যাবে না যা এ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। তাই আমাদের সাবধান থাকতে হবে এবং সতর্কভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, অতিথি পাখিরা সুসময়ে আসবে, আবার দুঃসময়ে উড়াল দেবে। কিন্তু ত্যাগী কর্মী-নেতারা দেশ ছেড়ে পালাবেন না, কর্মীদেরও ছেড়ে যাবেন না। বিএনপিতে যারা আছেন তারা নির্যাতন, অন্যায় অত্যাচার ও নিষ্পেষণের শিকার হয়েছেন। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ধানের শীষের একটা জোয়ার উঠেছে। এই জোয়ার ধরে রেখে মানুষের পাশে আপনারা কাজ করে যাবেন। কোনো ধরনের অন্যায়-অত্যাচারের শিকার যেন মানুষকে হতে না হয়। যদি কারও ওপর অন্যায়-অত্যাচার হয় তাহলে নেতাদের জানাবেন, প্রয়োজনে সিটি করপোরেশনে গিয়ে আমাকে জানাবেন। কোনো অন্যায়কারী-অত্যাচারীকে দলে রাখা যাবে না।
ডা. শাহাদাত বলেন, গত ১৬ বছরে আমার কোনো কর্মী চরিত্র হারাননি। অন্যায়, অত্যাচার, নিষ্পেষণ বুকে বেঁধে রেখেও আওয়ামী লীগে যোগ দেননি। কিছু আওয়ামী লীগের লোকজন এখনো ঘোরাফেরা করছে, অতিথি পাখিরা টোপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশপ্রেম ও সততার ভিত্তিতে দল প্রতিষ্ঠা করেছেন। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
অটোরিকশা প্রসঙ্গে মেয়র শাহাদাত বলেন, সিটি করপোরেশনের কাজ হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, নালা নর্দমা সংস্কার, জলাবদ্ধতামুক্ত রাখা, গ্রিন প্ল্যানটেশন ও রাস্তাঘাট উন্নয়ন করা। অটোরিকশার অনুমতি দেওয়া সিটি করপোরেশনের কাজ নয়। এটা দেবে বিআরটিএ এবং পরিচালনা করবে ট্রাফিক বিভাগ। সিটি করপোরেশনের চারটি বিভাগ ছাড়া আর কোনো কিছুর এখতিয়ার নেই।
তিনি আরও বলেন, গতবারও অটোরিকশা চালানোর জন্য আমি নিজে পুলিশ কমিশনার ও বিআরটিএতে কল করেছি। তবে শর্ত ছিল অটোরিকশা অলিগলিতে চলবে এবং শিশুদের দিয়ে চালানো যাবে না। কিন্তু এখন উল্টো ওরা আমাকে প্রশ্ন করছে, আপনি তো আমাদের সুপারিশ করেছিলেন! তখন বলেছিলেন, এগুলো শুধু অলিগলিতে চলবে এবং ছোট বাচ্চারা চালাবে না। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে এগুলো রাস্তাঘাটে চলে আসছে, দুর্ঘটনা বাড়ছে এবং ছোট বাচ্চারাও চালাচ্ছে। তাই বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কিছু নেই। এটা ট্রাফিক বিভাগ এবং বিআরটিএর বিষয়। আপনারা তাদের সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজনে আমি আবারও আপনাদের জন্য সুপারিশ করবো।
ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী নবাব খানের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাঈনুদ্দীন পারভেজের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু, সাবেক কাউন্সিলর ইয়াছিন চৌধুরী আসু।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা নাজমুল হক নাজু, রেজিয়া বেগম মুন্নী, নুরুল আলম কালু, ইয়াকুব খান, আবদুল মান্নান, জাকের হোসেন, তাহের জামাল, সালাউদ্দীন বাসু, আবদুল বারেক, ওমর ফারুক, নুরুল আলম নুরু, মো. শফি, মো. ইউনুস, বেলাল উদ্দিন, আবদুল কবির, আবদুল কাদের, মো. সুমন, মো. মানিক, হৃদয় হোসেন, মো. সোহাগ প্রমুখ।
এমআরএএইচ/ইএ/জেআইএম