ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও নুরুল হক নুরকে দেখতে যান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত ১০টায় তিনি আইসিইউতে প্রবেশ করে নুরুল হক নুরকে দেখেন এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার সর্বশেষ অবস্থা জানেন।
আমান মেহেরপুরে দলের জেলা সম্মেলন শেষ করে ঢাকায় এসে সরাসারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নূরকে দেখতে যান। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নুরের ওপরে হামলার ঘটনার অবশ্যই তদন্ত করতে হবে। এহেন ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।
উল্লেখ্য যে, উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর রাতে আল রাজী টাওয়ারের সামনে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের মারধরে আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, লাঠির আঘাতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নাক ও চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে।
তিনি বলেন, আহত অবস্থায় রাতে হাসপাতালে আনা হলে প্রথমে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে দেখেন। সেখান থেকে তাকে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে (ওসেক) রাখা হয়। পরে রাতে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, রাতেই পাঁচ বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং তাদের পরামর্শে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রাতে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সকালেও মাথার সিটিস্ক্যান করানো হয়েছে। দেখা গেছে, তার মাথার হাড় ভেঙে গেছে। এ ছাড়া নাকের হাড় ও ডান চোয়ালের হাড়ও ভেঙে গেছে। মাথার ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে, তবে তা অতি সামান্য। তার চোখ-মুখ ফোলা রয়েছে। চোখেও রক্ত জমে আছে। তবে শরীরের অন্যান্য স্থানে কোথাও আঘাত দেখা যায়নি।
এদিকে, এ ঘটনার পর জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে শনিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকায় বিক্ষোভ করেছে গণ অধিকার পরিষদ। এছাড়া ঢাকার বাইরেও বেশ কয়েকটি জেলায় বিক্ষোভ করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।