নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যকে ‘ভোট যুদ্ধ’ ও তাদের ‘পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজি’ বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
তিনি বলেন, রাজনীতির সংস্কৃতি এবং ভোটের সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। পরস্পর বিভিন্ন কথা বলতেছে বা একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বলতেছে। আমরা এটাকে বলব ভোটযুদ্ধ, এটা জাস্ট তাদের পলিটিক্যাল একটা স্ট্র্যাটেজি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রংপুর সার্কিট হাউসে নির্বাচন উপলক্ষে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, একটা বড় দলের প্রধান অনেক দিন পরে তার বাড়িতে যাবেন, এটা তার ফান্ডামেন্টাল রাইট। তার মুভমেন্টকে রেস্ট্রেইন (বাধাগ্রস্ত) করার অধিকার কারো নেই। উনি কবর জিয়ারত করতে যাবেন, বিভিন্ন জায়গায় যাবেন এটা তার অধিকার। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কিন্তু সেই অধিকারে হস্তক্ষেপ করেছি শুধুমাত্র পরিবেশকে সুষ্ঠু রাখার জন্য। তপশিল ঘোষণার পর পোস্টার সরানোর ঘোষণায় একটা দলের একজন আমির আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, সমস্ত পোস্টারগুলো ছিঁড়ে দেন। দুটি বড় দলের নেতা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এবং পূর্ব পরিকল্পিত ট্যুর বাতিল করেছেন। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের রাজনীতির সংস্কৃতিতে এবং ভোটের সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন।
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, আমরা এরকম ইঞ্জিনিয়ারিং কোনো কিছু লক্ষ্য করছি না। আমাদের সকল রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত প্রায় আঠারো লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসারসহ সবাই এখন জাতিকে একটা ভালো নির্বাচন দেওয়ার জন্য তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা যথেষ্ট ভালো আছে এবং নির্বাচনের জন্য সহায়ক পরিবেশ আছে।
ভোটের মাঠে রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে ইসি কমিশনার বলেন, আমরা এরকম কিছু লক্ষ্য করিনি। আমরা বলব যে একটা ভোটযুদ্ধ। ওনারা যেভাবে কথা বলতেছেন, এটা ওনাদের একটা রাজনীতিক কৌশল মাত্র। আমরা আগেও বলেছি, আজকেও আপনার জানাই যে, আরেকটা হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সেটা একটা সাধারণ জিনিস নিয়ে একটা ঘটনার উৎপত্তি।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো চাপ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো চাপে নেই। তবে যেসব আন্দোলন নির্বাচনের প্রতিকূলে যায় আমরা এ ধরনের আন্দোলনের বিরোধী। আমরা তাদেরকে আহ্বান জানাব যে, নির্বাচনে যাতে একটা সুষ্ঠু পরিবেশ থাকে এ ধরনের একটা পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য আপনারা কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।
ইসি মাসউদ বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে সবসময় আহ্বান জানানো হয়েছে যে, সকল প্রকার সহিংসতা বর্জিত একটা দেশ থাকুক। সকল প্রকার হত্যার আমরা নিন্দা জানাই। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে যে, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে মূল অপরাধীদেরকে আইনের হাতে সোপর্দ করে তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে নির্বাচন উপলক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য এবং রংপুরের ৬ আসনে দায়িত্বরত সকল বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল আহসান।