নেদারল্যান্ডস সিরিজে ‘রিস্ক ফ্যাক্টর’ থেকেই যাচ্ছে

5 hours ago 2

নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দল শক্তি-সামর্থ্য বিবেচনায় বাংলাদেশের চেয়ে অনেক দুর্বল, আন্তর্জাতিক খেলার অভিজ্ঞতায় অনেক পিছিয়ে। সিরিজ শুরুর আগে সব হিসেব নিকেশই কথা বলছে বাংলাদেশের পক্ষে। সর্ব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ সমৃদ্ধ দল, শ্রেয়তর প্রতিপক্ষ ও ফেবারিট।

সামগ্রিক বিচার বিবেচনায় নেদারল্যান্ডস দল বাংলাদেশের জন্য মোটেই চিন্তার কারণ হতে পারে না। বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকরা ডাচদের সেভাবে আমলেও আনছেন না। তাই টাইগারদের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়ে সেভাবে উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই।

আগামীকাল শনিবার (৩০ আগস্ট) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হলেও তা নিয়ে সারা দেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

ভক্ত-সমর্থকদের উৎসাহ না থাকুক, একটা ব্যাপার কিন্তু আছে। দল ও প্রতিপক্ষ হিসেবে নেদারল্যান্ডস যতই দুর্বল হোক না কেন, এ সিরিজে বাংলাদেশের জন্য একটা ‘রিস্ক ফ্যাক্টর’ থেকেই যাচ্ছে।

লিটন দাসের দল জিতে গেলে কোনো কথাই হবে না। কিন্তু হারলে অনেক কথা উঠবে। বাংলাদেশ এখন নেদারল্যান্ডসের মতো ছোট দলের সঙ্গে ঘরের মাঠেও পারে না। দিনদিন দেশের ক্রিকেটটা রসাতলে যাচ্ছে- এমন মন্তব্য বেরিয়ে আসবে। ক্রিকেটবিশ্বও জানবে, বাংলাদেশের শক্তি কতটা কমে গেছে।

এরপর হারের ধাক্কা নিয়েই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপ খেলতে যেতে হবে বাংলাদেশকে। তাতে নিজেদের আত্মবিশ্বাসও কমে যাবে। এশিয়া কাপে ভালো খেলার পথে তা হবে বড় বাধা।

লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, তাসকিন আহমেদ, শেখ মেহেদী, মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামদের বারবার মনে হবে, ঘরের মাঠে ডাচদের সঙ্গে পারলাম না; এশিয়া কাপে আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা , ভারত ও পাকিস্তানের মতো দলের সঙ্গে কী করবো?

কাজেই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজটি খালি চোখে যতই ছোট ও গুরুত্বহীন মনে হোক না কেন; এর গুরুত্ব ও আবেদন কিন্তু কম নয়।

অনেকেই খালি চোখে দেখে মন্তব্য করছেন, এশিয়া কাপের আগে বাংলাদেশের খেলা উচিত ছিল ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে; সেখানে তারা খেলছে দেশের মাটিতে শক্তি ও সামর্থ্যে বহুদূর পিছিয়ে থাকা নেদারল্যান্ডসের ব্পিক্ষে!

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জিতলেও কি ইতিবাচক প্রভাব থাকবে এশিয়া কাপে? আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ভারত, পাকিস্তান তো নেদারল্যান্ডসের তুলনায় অনেক শক্তিশালী। কাজেই ডাচদের বিপক্ষে জিতলেও শক্তির পরীক্ষা কিংবা আত্মবিশ্বাস বাড়বে না। বরং জিতলে একটা ভুল বার্তা নিয়ে আরব আমিরাত যাবে টাইগাররা।

এমন যারা ভাবছেন, তারা শুধু জয়ের কথাই ভাবছেন। কিন্তু কেউ হারের কথা ভাবছেন না। হারলে নেতিবাচক প্রভাবটা কত বড় হতে পারে, তা ভাবছেন কতজন? কেউ তলিয়ে দেখছেন না।

এশিয়া কাপের আগে এই সিরিজ টাইগারদের জন্য ভালোর চেয়ে খারাপ হতে পারে বেশি। যেহেতু এশিয়া কাপের বেশির ভাগ দলই বাংলাদেশের চেয়ে শক্তিশালী, তাই তার আগে বাংলাদেশের উচিৎ ছিল অধিক সমৃদ্ধ দলের বিপক্ষে খেলার। তাতে সিরিজ হারলেও বড় ধরনের ক্ষতি হতো না। বরং নিজেদের শক্তি-সামর্থ্যের প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠতো। এখন হারলে তো সব শেষ। সমালোচনার তির গায়ে এসে বিঁধবে। সঙ্গে আত্মবিশ্বাসেও ভাটা নামবে।

কাজেই সচেতন ক্রিকেট অনুরাগীদের ধারণা, বাংলাদেশের প্রস্তুতি মিশনে নেদারল্যান্ডস না হয়ে অন্তত আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো দলকে বেছে নেওয়া উচিত ছিল। তাতে নিজেদের প্রকৃত চিত্র জানা হতো। এশিয়া কাপের মঞ্চে নামার আগে তা কাজেও লাগতো।

এখন একটা ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। বারবার টাইগারদের মনে হচ্ছে, কিছুতেই হারা চলবে না। হারলেই সর্বনাশ হয়ে যাবে। সেটা কিন্তু একটা বড় চাপ। সেই চাপ নিয়ে শেষ পর্যন্ত লিটনের দল কতটা ভালো করতে পারবে, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এআরবি/এমএইচ/এমএস

Read Entire Article