নয়ন আহমেদের কবিতা- প্রবোধ
প্রবোধ দূরে, সন্নিকটে পাশে বা আড়ালে যারা আছো... সূর্যকে আলতা ভেবে সাজো। ভাঙা আয়না, চিরুনি হারানো সকাল বা সিম্ফনি... হারমোনিয়ম ভেবে বাজো; পাকা ধানের মতোন হাসো। বাসগৃহে অসুখী চোখ রোগাক্রান্ত সব প্রবোধ শয্যাশায়ী বা দিশাহারা... ঝুলে থাকা কাঁচা টমেটোর মতো ভালোবাসো। ফেরা ফিরে আসছে চর্চিত ঘুম ; যেমন আসে রাত সবুজ বাতাসে ভর করে... যেমন আসে মস্তিষ্কের ভেতর মধ্যযুগ ভেদ করে প্রণয়। ফিরে আসে যাবতীয় পাখি পাখি দেশ; সুচরিতাসু সূর্যোদয়। হাতের মুঠোয় উঠে আসছে ধান ধান ধন্যবাদ; বিগলিত বাস্তু ধারণা। ফিরে আসছে নদী; আবহমান চিরুনির মতো চিরদিন। ফিরে আসছে চরের ঘাসলতা; যেরকম আসে প্রেমিকার দৃষ্টিগ্রাহ্য ছায়া। মনের ভেতর রোদের ভেতর শয্যার ভেতর। ফিরে আসে করতলে ধরে রাখা মহাকাল। ঘৃণাও ফিরে আসে। যুদ্ধ ফিরে আসে। শাশ্বত সত্য এই... ভালোবাসা ফিরে আসে বারবার সূর্যের মতো। ফেসবুক আমাকে দেখায় কেমন? —কালো। আমাকে দেখায় কেমন? —ভালো। লাইক দাও। একটা কমার মতোন স্বল্প বিরতির পর হাস্যমুখরিত রোদে ক্রমেই জানিয়ে দাও– আছো। যেভাবে ছড়িয়ে থাকে গমক্ষেত, যেভাবে নাচতে নাচতে গায় ধানক্ষেত— আর
প্রবোধ
দূরে, সন্নিকটে
পাশে বা আড়ালে যারা আছো...
সূর্যকে আলতা ভেবে সাজো।
ভাঙা আয়না, চিরুনি
হারানো সকাল বা সিম্ফনি...
হারমোনিয়ম ভেবে বাজো;
পাকা ধানের মতোন হাসো।
বাসগৃহে অসুখী চোখ
রোগাক্রান্ত সব প্রবোধ
শয্যাশায়ী বা দিশাহারা...
ঝুলে থাকা কাঁচা টমেটোর মতো ভালোবাসো।
ফেরা
ফিরে আসছে চর্চিত ঘুম ;
যেমন আসে রাত সবুজ বাতাসে ভর করে...
যেমন আসে মস্তিষ্কের ভেতর মধ্যযুগ ভেদ করে প্রণয়।
ফিরে আসে যাবতীয় পাখি পাখি দেশ;
সুচরিতাসু সূর্যোদয়।
হাতের মুঠোয় উঠে আসছে ধান ধান ধন্যবাদ;
বিগলিত বাস্তু ধারণা।
ফিরে আসছে নদী;
আবহমান চিরুনির মতো চিরদিন।
ফিরে আসছে চরের ঘাসলতা;
যেরকম আসে প্রেমিকার দৃষ্টিগ্রাহ্য ছায়া।
মনের ভেতর
রোদের ভেতর
শয্যার ভেতর।
ফিরে আসে করতলে ধরে রাখা মহাকাল।
ঘৃণাও ফিরে আসে।
যুদ্ধ ফিরে আসে।
শাশ্বত সত্য এই...
ভালোবাসা ফিরে আসে বারবার
সূর্যের মতো।
ফেসবুক
আমাকে দেখায় কেমন?
—কালো।
আমাকে দেখায় কেমন?
—ভালো।
লাইক দাও। একটা কমার মতোন স্বল্প বিরতির পর
হাস্যমুখরিত রোদে ক্রমেই জানিয়ে দাও– আছো।
যেভাবে ছড়িয়ে থাকে গমক্ষেত,
যেভাবে নাচতে নাচতে গায় ধানক্ষেত—
আর তাড়ায় অসুখ। স্বাস্থ্যময় ক্রোধে
হাঁক দেয়— ‘পাঠ শেখো। পড়া কেন হয়নি তোমার?’
বলো— ‘পড়বো আবার।’
এই তো এনেছি নদী। পাশে ব্যাপ্ত মাঠ।
দোল খাচ্ছে আঙুর লতার মতো রোদলাগা
আমার সভ্যতা।
আমি জানি সহজ পাঠ্যক্রম—
অসুখের পাশে শুয়ে সান্ত্বনা দেয়।
আমাকে দেখায় কেমন?
—কালো।
আমাকে দেখায় কেমন?
—ভালো।
লাইক দাও।
হজ
একটা পিপড়ে ছুটছে পিলপিল।
যাচ্ছে খাদ্য অন্বেষণে।
তার সাথে সানন্দে যোগ দিলো একসারি পিপড়ে।
একসারি পিপড়ে ছুটছে খাদ্য অন্বেষণে।
আরও এক হাজার পিপড়ে এলো পিলপিল ধ্বনি তুলে।
নেচে নেচে যাচ্ছে তারা পার্থিবতা পুনর্নির্মাণে।
ক্ষুধা ও উৎসবের আজ মহাসম্মেলন।
আজ পিপড়েদের প্রার্থনা দিবস।
পিপড়েরা বৃত্তাকারে তাওয়াফ করছে পৃথিবী।
ছুটছে পবিত্র ক্ষুধা নিবারণে।
দ্যাখো, দ্যাখো!
দ্যাখো মানুষেরা, আজ পিপড়েদের পবিত্র হজ।
বসন্ত
: দরোজায় কে দাঁড়িয়ে?
এত টুংটাং, এত কলরব?
ভোরে এতো শিশু শিশু কোমলতা দোলে রূপকথা হয়ে?
কে? কে?
— আমি বসন্ত গো! তোমাদের সেই যে বসন্ত!
কলিংবেলের টুংটাং নয়।
প্লাস্টিকের পাখি নয়।
কোনো আড়ং থেকে কেনা কুহু কুহু নয়।
আমার আছে কোকিলের বর্ণমালা, ভাষাব্যবহারের আধুনিক রীতি;
প্রেমের গৌরব,
ছন্দপরিচয়।
কু-উ, কু-উ।
ও মানুষেরা, শোনো না!
দরোজা খোলো গো!
ঢুকতে পারছি না!
একটু হাওয়া দেই।
একটু হাসি দেই; সূর্যমুখী মোড়া।
তোমাদের ফুল যে ফোটে না!
কত এলেবেলে হয়ে ঝরে গেছে সম্পর্ক
আর সপুষ্পক ছায়া!
যুদ্ধবাজরা মেতেছে! আগুন ছড়াবে।
পুড়বে ঋতুচক্র, প্রকৃতি আর বাঙ্ময় নৈবেদ্য।
ইট ও সুড়কির রাজ্য হবে তোমাদের।
দরোজা খোলো, মানুষ!
এনেছি শিমুল তুলোর মতো নদী।
: তুমি সত্যিই বসন্ত?
— হ্যাঁ গো, হ্যাঁ! ওগো বন্দি মানুষ!
ও কাচের বাসিন্দা!
আমাকে ভেতরে আসতে দাও।
খুলে খুলে দ্যাখো
ভাঁজ করতে করতে দ্যাখো
সন্দেহ পোড়াতে পোড়াতে দ্যাখো
আপেলের মতো গোল বাস্তবতা হাতে নিয়ে দ্যাখো
নদীর তীরে বসা বালকের বয়স হাতে নিয়ে দ্যাখো
দুপাড়ের ধানক্ষেত বুকে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে দ্যাখো
আমি তোমার বসন্ত! বসন্ত!
What's Your Reaction?