পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়তে ৩৩০০ ভবনে একযোগে অভিযান
একটি পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত, সবুজ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম জেলার ৩ হাজার ৩০০টিরও বেশি সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার ভবনে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের উদ্বোধনী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় শক্তি। পরিচ্ছন্নতা কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, এটি প্রতিদিনের জীবনচর্চায় পরিণত করতে হবে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে ‘পরিচ্ছন্ন শহর, সবুজ নগর, প্রফুল্ল মন, সুস্থ জীবন’ প্রতিপাদ্যে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে অভিযানের সূচনা হয়। র্যালিটি কাজীর দেউড়ি, চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে আবার সার্কিট হাউসে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও কোর্ট হিল এলাকায় ভবনের ছাদ ও আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন,
একটি পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত, সবুজ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম জেলার ৩ হাজার ৩০০টিরও বেশি সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার ভবনে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে।
অভিযানের উদ্বোধনী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় শক্তি। পরিচ্ছন্নতা কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, এটি প্রতিদিনের জীবনচর্চায় পরিণত করতে হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে ‘পরিচ্ছন্ন শহর, সবুজ নগর, প্রফুল্ল মন, সুস্থ জীবন’ প্রতিপাদ্যে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে অভিযানের সূচনা হয়। র্যালিটি কাজীর দেউড়ি, চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে আবার সার্কিট হাউসে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও কোর্ট হিল এলাকায় ভবনের ছাদ ও আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার দায়িত্ব শুধু সরকারি সংস্থার নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকেরও নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। ব্যক্তি ও পরিবার থেকেই পরিচ্ছন্নতার চর্চা শুরু করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজের বাসা, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখা অনেক সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি শিশুদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্কুলগুলোতে ‘স্কুল হেলথ স্কিম’ চালু করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রামকে একটি নান্দনিক ও পরিচ্ছন্ন জেলায় পরিণত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এই উদ্যোগকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, জেলার ১৩১টি সরকারি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, আটটি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, উপজেলা পর্যায়ের ৪০৬টি সরকারি ভবন এবং ২ হাজার ২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মোট ৩ হাজার ৩০০টিরও বেশি ভবনে এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। মাসজুড়ে ভবনগুলোর ছাদ ও আঙিনা পরিষ্কার করার পাশাপাশি প্রতিদিন অপসারিত বর্জ্যের পরিমাণ, পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরের চিত্র সংরক্ষণ এবং নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সুস্থ সমাজ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। তাই পরিচ্ছন্নতাকে চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। বিশ্বায়নের এই সময়ে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল চট্টগ্রাম গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
What's Your Reaction?