পরিদর্শনের সুযোগ দিলেও ইউরেনিয়ামের তথ্য গোপন করছে ইরান: আইএইএ

চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আইএইএ-এর পরিদর্শকদের বুশেহর পারমাণবি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছে ইরান। তবে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের অবস্থান ও বর্তমান অবস্থা যাচাইয়ের বিষয়ে পরিদর্শকদের দাবি এড়িয়ে যাচ্ছে মোজতবা খামেনির ইসলামিক প্রজাতন্ত্র। আইএইএর মতে, বুশেহর সফরকে স্বাগত জানানো হলেও ইরানের অস্ত্র তৈরির জন্য ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ দূর করতে পারেনি। সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে প্রায় ১০-১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির জন্য যথেষ্ট এই ইউরেনিয়াম মজুতের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ব্লুমবার্গের হাতে আসা আইএইএর ১০ পৃষ্ঠার গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিদর্শকরা বুশেহরে তিন দিনের সফর করলেও ইরানের ঘোষিত অন্যান্য পারমাণবিক কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংস্থাটি কোনো তথ্য পায়নি। সংস্থার পরিদর্শকরা তাদের পরীক্ষার কাজ যাতে আবার শুরু করতে পারে তাই আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিনো গ্রোসি পুনরায় ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থার কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। গ্রোসি বলেন, এক

পরিদর্শনের সুযোগ দিলেও ইউরেনিয়ামের তথ্য গোপন করছে ইরান: আইএইএ

চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আইএইএ-এর পরিদর্শকদের বুশেহর পারমাণবি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছে ইরান। তবে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের অবস্থান ও বর্তমান অবস্থা যাচাইয়ের বিষয়ে পরিদর্শকদের দাবি এড়িয়ে যাচ্ছে মোজতবা খামেনির ইসলামিক প্রজাতন্ত্র।

আইএইএর মতে, বুশেহর সফরকে স্বাগত জানানো হলেও ইরানের অস্ত্র তৈরির জন্য ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ দূর করতে পারেনি। সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে প্রায় ১০-১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির জন্য যথেষ্ট এই ইউরেনিয়াম মজুতের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ব্লুমবার্গের হাতে আসা আইএইএর ১০ পৃষ্ঠার গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিদর্শকরা বুশেহরে তিন দিনের সফর করলেও ইরানের ঘোষিত অন্যান্য পারমাণবিক কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংস্থাটি কোনো তথ্য পায়নি।

সংস্থার পরিদর্শকরা তাদের পরীক্ষার কাজ যাতে আবার শুরু করতে পারে তাই আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিনো গ্রোসি পুনরায় ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থার কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

গ্রোসি বলেন, একটি টেকসই, যাচাইযোগ্য এবং কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান করতে হবে।

গত বছর ইরান নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করলে আইএইএর পরিদর্শন কার্যক্রম অর্ধেকেরও বেশি কমে যায়। এর পেছনে ছিল জুন মাসের ১২ দিনের যুদ্ধ। সে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।

এখনও পর্যন্ত পরিদর্শকরা ক্ষতিগ্রস্ত ফোর্দো-ইস্ফাহান এবং নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্র ও স্থাপনাগুলোতে পরীক্ষা চালাতে পারেননি। এসব স্থানে সর্বশেষ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং ৮ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৬ কেজি নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান দেখা গিয়েছিল।

প্রতিবেদনটির সঙ্গে পরিচিত দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে এমন নতুন জটিলতা সৃষ্টি করেছে যা আগে ছিল না। তাদের মতে, যত বেশি সময় এই পারমাণবিক উপাদান আইএইএর সুরক্ষা ও তদারকির বাইরে থাকবে, ততই তা অশান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়বে।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করে আসছে যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটন এই ইউরেনিয়াম মজুদের ওপর প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে।

অস্ট্রিয়ার রাজধানীর ভিয়েনাতে ৮ জুন আইএইএর গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না সেদিকে আন্তর্জাতিক মহল ও বাজারের নজর রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আইএইএ ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এমন ইঙ্গিত পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। একইভাবে গত জুনে আইএইএর বোর্ড ইরানকে পরিদর্শকদের সঙ্গে অসহযোগিতার জন্য তিরস্কার করার একদিন পরই নতুন হামলা শুরু হয়েছিল।

কেএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow