পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা হলো না প্রবাসী বেলায়েতের

মা স্ত্রী সন্তানদের সঙ্গে ঈদ করার কথা ছিল মালয়েশিয়া প্রবাসী বেলায়েত শেখের। কিন্তু মালয়েশিয়ার সড়ক দুর্ঘটনা বেলায়েতকে কেড়ে নেওয়ায় সে ইচ্ছা আর পূরণ হলো না। গ্রামে পরিবারের মাঝে চলছে শোকের মাতম, মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে গেল সব আশা। সোমবার (৩ মার্চ) মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মালয়েশিয়ার ইপো মহাসড়কে।  নিহত বেলায়েত শেখ (৩০) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের চৌকিঘাটা গ্রামের মৃত ইউসুফ শেখের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বেলায়েত হত দরিদ্র পরিবারের সন্তান, ছোটবেলায় বাবা মারা যায়, তিন ভাইয়ের মধ্যে বেলায়েত সবার বড়। তার সংসারে দুই মেয়ে, এক মেয়ের বয়স ৯ বছর আরেক মেয়ের বয়স ৪ বছর, মা ভাই বোন ও পরিবারের সুখের আশায় আড়াই বছর হয় পাড়ি জমান মালয়েশিয়াতে, পার্মানেন্ট চাকরি না পাওয়ায় একেক সময় একেক জায়গায় রাত দিন পরিশ্রম করতে হয় তাকে। এবার ঈদে সন্তানদের সঙ্গে ঈদ করবেন বলে বেলায়েত জানিয়েছিলেন। সেজন্য তাকে কঠিন পরিশ্রম করতে হয় মালয়েশিয়ায়। একটু বেশি টাকা কামানোর উদ্দেশ্যে ওভারটাইম হিসাবে নাইটে সড়কে কাজ নেন বেলায়েত। সড়কের কাজই তার কাল হয়ে দাঁড়ালো। গতকাল ইপো

পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা হলো না প্রবাসী বেলায়েতের

মা স্ত্রী সন্তানদের সঙ্গে ঈদ করার কথা ছিল মালয়েশিয়া প্রবাসী বেলায়েত শেখের। কিন্তু মালয়েশিয়ার সড়ক দুর্ঘটনা বেলায়েতকে কেড়ে নেওয়ায় সে ইচ্ছা আর পূরণ হলো না। গ্রামে পরিবারের মাঝে চলছে শোকের মাতম, মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে গেল সব আশা।

সোমবার (৩ মার্চ) মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মালয়েশিয়ার ইপো মহাসড়কে। 

নিহত বেলায়েত শেখ (৩০) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের চৌকিঘাটা গ্রামের মৃত ইউসুফ শেখের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বেলায়েত হত দরিদ্র পরিবারের সন্তান, ছোটবেলায় বাবা মারা যায়, তিন ভাইয়ের মধ্যে বেলায়েত সবার বড়। তার সংসারে দুই মেয়ে, এক মেয়ের বয়স ৯ বছর আরেক মেয়ের বয়স ৪ বছর, মা ভাই বোন ও পরিবারের সুখের আশায় আড়াই বছর হয় পাড়ি জমান মালয়েশিয়াতে, পার্মানেন্ট চাকরি না পাওয়ায় একেক সময় একেক জায়গায় রাত দিন পরিশ্রম করতে হয় তাকে। এবার ঈদে সন্তানদের সঙ্গে ঈদ করবেন বলে বেলায়েত জানিয়েছিলেন। সেজন্য তাকে কঠিন পরিশ্রম করতে হয় মালয়েশিয়ায়। একটু বেশি টাকা কামানোর উদ্দেশ্যে ওভারটাইম হিসাবে নাইটে সড়কে কাজ নেন বেলায়েত। সড়কের কাজই তার কাল হয়ে দাঁড়ালো।

গতকাল ইপো শহরে সড়কে পিচ ঢালের কাজের সময় সড়কে গাড়ি থামানোর ডিউটি পড়ে তার। মালয়েশিয়ার রাত দুইটার দিকে দ্রুতগতি একটি গাড়িতে সিগনাল দেওয়ার পরেও গাড়িটি তার উপরে চাপা দেয় এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এ খবর বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারটি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে।  

এ বিষয়ে একইসঙ্গে অবস্থান করা বেলায়েতের সুমন্দি মালয়েশিয়া প্রবাসী ইমরান শেখ জানান, বেলায়েত আমার বোন জামাই। অভাবের তাড়নায় বোন ভাগ্নিদের মুখের দিকে তাকিয়ে আড়াই বছর হয় আমি বেলায়েতকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে এসেছি। এখনো কাগজপত্র হয় নাই, পার্মানেন্ট চাকরি ছিল না, ছুটাভাবে কাজ করত। 

তিনি আরও জানান, এতদিন আমার সঙ্গেই কাজ করছে, বাড়ি যাওয়ার আশায় বেশি টাকা কামাতে ইপো শহরে কাজ নেয়, কপালে সুখ না থাকলে যা হয়, সড়কে ডিউটি করতে গিয়ে গাড়ির চাপায় তার মৃত্যু হয়, আমি বর্তমান লাশের কাছেই রয়েছি, যেহেতু কাগজপত্র নাই সেহেতু বেলায়েতের লাশ পাঠানো কষ্ট হবে। তিনি দেশবাসীর কাছে তার বোন জামাইয়ের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।

নিহত বেলায়েতের স্ত্রী সাজেদা বেগম জানান, আমার দুই মেয়ে, আমাদের জায়গা জমি বলতে কিছু নাই, একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিল স্বামী, তিনি চলে গেলেন এখন আমাদের উপায় কী হবে? আমার সন্তানদের নিয়ে আমি কীভাবে চলব? আমার স্বামীর লাশটা যেন আমরা দেখতে পাই এ দাবিটুকু সরকারের কাছে রইল, গরিবের সুখ সয় না। 

এদিকে ইপো শহরে অবস্থানরত দুলু মাতুব্বর জানান, ইপো শহরের একটি হসপিটালে লাশ মর্গে রয়েছে আমরা আসার আগেই হসপিটালটি বন্ধ হয়ে যায়, আগামীকাল বুধবার (৪ মার্চ) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কবে নাগাদ বেলায়েতের লাশ পাঠানো যায়, তা জানা যাবে। 
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow