পরীক্ষায় পাস না দেওয়ায় কলেজ গেটে তালা দিল শিক্ষার্থীরা

এইচএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় পাস না দেওয়ায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কলেজের প্রধান গেটে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় কলেজের শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতাদের তদবিরে ৬-৭ বিষয়ে ফেল করা অনেক শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) ২টার দিকে মিরসরাই ডিগ্রি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মিরসরাই ডিগ্রি কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে এইচএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক ও বিজ্ঞান বিভাগে সকল বিষয়ে ২৮ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। প্রথম বিবেচনায় ৪০ জন, দ্বিতীয় বিবেচনায় ৩৮ জন ও বিশেষ বিবেচনায় ৭৩ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ১৫১ জন শিক্ষার্থীকে পাস দেওয়া হয়। ফেল করা শিক্ষার্থীরা রোববার কলেজের প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করে।  ফেল করা শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমরা কলেজে এসে আমাদের ফলাফল দেখতে চেয়েছি, কিন্তু ফলাফল দেখতে দেওয়া হচ্ছে না। স্যাররা আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। এ সময় একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেন স্যার। অনেক শিক্ষার্থী ৬-৭ বিষয়ে ফেল করলেও রাজনৈতিক নেত

পরীক্ষায় পাস না দেওয়ায় কলেজ গেটে তালা দিল শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় পাস না দেওয়ায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কলেজের প্রধান গেটে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় কলেজের শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতাদের তদবিরে ৬-৭ বিষয়ে ফেল করা অনেক শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) ২টার দিকে মিরসরাই ডিগ্রি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মিরসরাই ডিগ্রি কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে এইচএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক ও বিজ্ঞান বিভাগে সকল বিষয়ে ২৮ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। প্রথম বিবেচনায় ৪০ জন, দ্বিতীয় বিবেচনায় ৩৮ জন ও বিশেষ বিবেচনায় ৭৩ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ১৫১ জন শিক্ষার্থীকে পাস দেওয়া হয়। ফেল করা শিক্ষার্থীরা রোববার কলেজের প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করে।  ফেল করা শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমরা কলেজে এসে আমাদের ফলাফল দেখতে চেয়েছি, কিন্তু ফলাফল দেখতে দেওয়া হচ্ছে না। স্যাররা আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। এ সময় একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেন স্যার। অনেক শিক্ষার্থী ৬-৭ বিষয়ে ফেল করলেও রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে তাদের পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে আমরা কলেজ গেটে তালা দিয়েছি। নুসরাত জাহান প্রেমা নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষকরা আমাদের প্রতি অন্যায় করছেন। আমরা ২-৩ বিষয়ে ফেল করেছি। কিন্তু আমাদের ফলাফল দেখতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের এক দাবি, যারা আন্দোলন করছি, আমাদের সবাইকে পাস করিয়ে দিতে হবে। মিরসরাই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম বলেন, কিছু ছাত্র নামধারী যারা পড়াশোনা করেনা তারা কলেজে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। গত কয়েক বছর ধরে কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ায় এ বছর গভর্নিং বডি ও শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, পরীক্ষায় ভালো করতে হবে। সে চেষ্টার আলোকে দুটি বিষয়ে ৩০ নম্বর পেয়ে যারা উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের পাস দেওয়া হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পর যারা নিয়মিত কলেজে আসেনা, পড়াশোনা করেনা, বাইরে আড্ডা দেয় তারা আজ কলেজে এসে ঝামেলা করেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছি। তিনি আইনগত সহায়তা দিয়েছেন। রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে কিছু শিক্ষার্থীকে পাস করিয়ে দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এটা মোটেও সত্য নয়। মূলত ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে যারা নির্দিষ্ট নম্বর পেয়েছে তাদের পাস দেওয়া হয়েছে। বোর্ড পরীক্ষায় এই দুই বিষয়ে বেশি শিক্ষার্থীরা ফেল করে।  মিরসরাই থানার এসআই শরীফ উদ্দিন বলেন, কিছু অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থী কলেজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে গেটের তালা খুলে দিয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow